অ্যাডভান্স নিয়েও ডেলিভারিতে টালবাহানা: প্রতারণা ও অপমানের অভিযোগ স্টার টেকের বিরুদ্ধে

দূরবীন ডেস্ক


Star Tech & Engineering Ltd.-এর বিরুদ্ধে অগ্রিম অর্থ নেওয়ার পরও প্রি-অর্ডার করা ম্যাকবুক সরবরাহ না করা, পরে একই পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রির চেষ্টা এবং শোরুমে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, তিনি ‘ম্যাকবুক এয়ার এম৫’ মডেলের একটি ল্যাপটপ ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যে প্রি-অর্ডার করেন। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক দিন পর স্টার টেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পণ্যটি স্টকে না থাকায় নির্ধারিত সময়ে ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব নয়।
তবে ওই শিক্ষার্থীর দাবি, অর্ডার বাতিলের কথা জানানোর পরও স্টার টেকের ওয়েবসাইট ও শোরুমে একই মডেলের পণ্য ‘ইন স্টক’ দেখানো হচ্ছিল। একই সঙ্গে পণ্যটির নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কম দামে নেওয়া প্রি-অর্ডার বাতিল করে বেশি দামে পণ্য বিক্রির উদ্দেশ্যেই স্টক সংকটের কথা বলা হয়েছে। সমস্যার সমাধানের জন্য শোরুমে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছ থেকে পেশাদার আচরণ পাননি বলেও অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থী। তার দাবি, একই পণ্য সম্পর্কে কর্মীদের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তাকে বলা হয়, “তোমার এখনও অনেক কিছু শেখার আছে।” তিনি আরও দাবি করেন, পুরো ঘটনার প্রায় ৪০ মিনিটের অডিও রেকর্ডিং তার কাছে রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করলে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পণ্য সরবরাহের দায়িত্ব থাকে। মূল্য পরিবর্তন, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান বা ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্য সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় তদন্তযোগ্য হতে পারে।
তারা জানান, এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী ক্রেতারা অর্ডারের কাগজপত্র, অর্থ পরিশোধের রসিদ, ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য প্রমাণসহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে (DNCRP) অভিযোগ করতে পারেন। তবে স্টার টেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



