মানবসেবামূলক কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ হিসেবে কুড়িগ্রামে দুর্যোগকালীন সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য দ্রুত রান্না করা খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে বিশাল আকৃতির একটি কড়াই উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কড়াইটির উদ্বোধন করেন আসাদুল হাবিব দুলু।
উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি বিশ্বের বৃহৎ কড়াইগুলোর একটি, যেখানে একসঙ্গে প্রায় এক লাখ মানুষের জন্য খাবার রান্না করা সম্ভব।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কড়াইটির ব্যাস ৩১ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং গভীরতা প্রায় সাড়ে চার ফুট। ২২টি চুলার সমন্বয়ে তৈরি এই রান্না ব্যবস্থায় একসঙ্গে প্রায় ৭ টন চাল, ৩ টন সবজি, প্রায় ৮০০ লিটার ভোজ্যতেল এবং প্রায় দেড় টন ডালসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা যায়।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, কড়াইটি তৈরি করতে প্রায় দুই মাস সময় লেগেছে। বিশেষ নকশা ও শক্তিশালী ধাতব কাঠামো ব্যবহার করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ খাবার নিরাপদভাবে রান্না করা যায়। দুর্যোগকবলিত এলাকায় দ্রুত খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন এবং ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রাম একটি দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং অনেক সময় খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত রান্না করা খাবার মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ দুর্যোগকালীন মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কুড়িগ্রামে স্থাপিত এই বিশাল কড়াই সেই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে এবং প্রয়োজনে স্বল্প সময়েই বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, বন্যাপ্রবণ কুড়িগ্রামে এমন একটি উদ্যোগ দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হয়ে উঠবে।


.jpg)






