এশিয়া কাপ জয়ী শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে শুভ সূচনা করলো নামিবিয়া। উদ্বোধনী ম্যাচে কার্ডিয়ানা পার্কে লঙ্কানদের রানে হারিয়েছে ইরাসমাসের দল।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ারপ্লেতেই ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে নামিবিয়া। এরপর লঙ্কান বোলারদের চাপে ৯৩ রানে দলের অর্ধেক ব্যাটার ফিরে যায় সাজঘরে।
সেখান থেকেই নামিবিয়ার ঘুরে দাঁড়ানো। ইয়ান ফ্রাইলিং ও জেজে স্মিটের ৩৪ বলে ৭০ রানের অবিশ্বাস্য এক জুটিতে ১৬৩ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় নামিবিয়া।
ফ্রাইলিংকের ২৮ বলে ৪৪ ও স্মিটের ১৬ বলে ৩১ রানের ক্যামিওতে দুর্দান্ত কামব্যাক করে দলটি।
১৬৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে খর্বশক্তির নামিবিয়ার বোলিং লাইনের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে লঙ্কান শিবির। ডেভিড উইসে, শিকোংগোদের আঘাতে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে লঙ্কানরা।
এরপর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সদ্য এশিয়া কাপ শিরোপাজয়ীরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে, সেই সাথে বাড়তে থাকে হারের শঙ্কা।
পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক দাসুন শানাকা ও ভানুকা রাজাপাকশের ৩৪ রানের জুটি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও আর সম্ভব হয়নি। নামিবিয়ার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে লঙ্কানদের ব্যাটিং শিবির।
এক ওভার বাকি থাকতেই মাত্র ১০৮ রানেই শেষ শ্রীলঙ্কার ইনিংস। বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম ম্যাচেই চমক দেখিয়ে ৫৫ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে খর্বশক্তির নামিবিয়া।
শ্রীলঙ্কার মাত্র চার ব্যাটার ছুঁতে পেরেছে দুই অঙ্কের কোটা। এর মাঝে অধিনায়ক শানাকা সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংস খেলেন। নামিবিয়ার পক্ষে উইসে, শিকোংগো, ফ্রাইলিংক, স্কোল্টজরা নিয়েছেন দু'টি করে উইকেট।
রীতিমতো লঙ্কানদের নিয়ে যেনো ছেলেখেলা করেছে নামিবিয়ার বোলাররা। কাগজে কলমে কিংবা শক্তিমত্তায় ঢের পিছিয়ে থাকা দলটির কাছে পাত্তায় পায়নি ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপাজয়ীরা।
ব্যাট হাতে ২৮ বলে ৪৪ ও বল হাতে মাত্র ২৬ রানে ২ উইকেট শিকার করা অলরাউন্ডার ইয়ান ফ্রাইলিংক জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
গেলো আসরের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারলেও নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেয় নামিবিয়া।
লঙ্কানদের বিপক্ষে গেলো আসরের হারের প্রতিশোধটা এবারের আসরের প্রথম ম্যাচেই তুললো গারহার্ড ইরাসমাসের দল।
বিশ্বকাপের আগে জিলং সাক্ষী হয়েছিলো মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা সেই একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিতে জয় পায় শ্রীলঙ্কা।
শেষ ওভারের থ্রিলারে হারের মুখ থেকে গুনারত্নের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের শেষ বলে রুদ্ধশাস জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। একমাত্র জয় পাওয়া লঙ্কানরাই এই মাঠে প্রথমবারের মতো দেখলো হারের মুখ।
গেলো আসরে চমকে দেওয়া নামিবিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করলো শ্রীলঙ্কা। অবশ্য এশিয়া কাপেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর শিরোপা জয় করে লঙ্কানরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চেও কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে শানাকা বাহিনী? নাকি অপেক্ষা করছে ভিন্ন কোনো চমক! আপাতত সেই অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেট সমর্থকরা।
আগামি ১৮ই অক্টোবর এই ভেন্যুতেই নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে নামিবিয়া। বিপরীতে, একই দিনে এই মাঠেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাঠে নামবে লঙ্কানরা।
হারের ক্ষত ভুলে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে শানাক বাহিনী। বিপরীতে, পরের ম্যাচে জয় নিয়ে মূল পর্বে এক পা এগিয়ে রাখতে চাইবে প্রথম ম্যাচে অঘটন সৃষ্টি করা নামিবিয়া।