ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর, টি২০ সিরিজ নিজেদের করে নেওয়ার মিশনে, মাঠে নামছে টাইগাররা।
ক্রিকেট ইতিহাসে টাইগার আধিপত্যের নতুন অধ্যায়।
সেই অধ্যায়টাকে আরো লম্বা করতে প্রস্তুত লিটণ-তাসকিনরা ।
দলে ব্রিলিয়ান্ট পারফর্মেন্সের অভাব নেই,কাকে রেখে কাকে বাদ দেয়া হবে, সেটাই এখন বুঝা দায়।
তবুও সিরিজ জয়ের মিশনে, শক্তিশালি একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে আজ সাকিব-বাহিনি।
ওপেনিংয়ে লিটন-রনিকে বাংলাদেশের টি২০-তে সময়ের সেরা জুটি বললেও মোটেও বাড়িয়ে বলা হবেনা ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দক্ষিন আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেমন একের পর এক রেকর্ড ভাংছে, টাইগারদের এই জুটি তেমনি দেখাচ্ছেন আগ্রাসি ব্যাটিং-তান্ডব। রেকর্ড বুকে যুক্ত হচ্ছে টাইগারদের নতুন নতুন মাইলফলক।
পাওয়ার প্লেতে টাইগারদের নতুন ইতিহাস গড়লেন লিটন-রনি।
তাদের করা ৮১ রান,পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর।
অথচ গেল টি২০ বিশ্বকাপের সময়টাতেই দেশের ওপেনিং নিয়েই মাথা ঘামাতে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের, সবচেয়ে বেশি।
কিন্ত টাইগারদের ওপেনিং জুটি এখন গর্বের জায়গা।
বিপিএলের দুর্দান্ত আবিষ্কার রনি, ৭ বছর পর দলে এসেই, দিচ্ছেন আস্থার প্রতিদান দারুনভাবে।
৩ নাম্বারে শান্ত, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেয়া প্লেয়ারদের মাঝে, নিজেকে দারুনভাবে মেলে ধরা প্লেয়ারের নাম নাজমুল হাসান শান্ত।
প্রথম ম্যাচে রান না পেলেও, ধারাবাহিক সিরিজগুলোতে তার পারফর্মেন্সের গ্রাফ উপরের দিকেই।
ইংল্যাণ্ডের বিপক্ষে টী২০- সিরিজে হয়েছেন প্লেয়ার অব দি টুর্নামেন্ট।
৪ নাম্বারে গত ম্যাচে শামীম হোসেনকে নামানো হলেও , এই জায়গায় পরিবর্তন আসতে পারে ২য় ম্যাচে।
শামীম হোসেনের করা ২০ বলে ৩০ রান,দলে নিজের অবস্থান পাকা করার জন্য যথেষ্ট হলেও,তাকে বাদ দিয়ে লেগ স্পিনার রিশাদকে অভিষেক করালেও অবাক হওয়ার কিছুই থাকবেনা।
৫ এ ব্যাটিং তাওহিদ হ্রদয়ের। অভিষেকটা রাংগিয়ে, মানুষের হ্রদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন এরই মাঝে।
এখন শুধু অপেক্ষা , পারফর্মেন্স দেখিয়ে সামনের দিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
৬- এ থাকছেন, ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসান।
তারপরেই মেহেদি হাসান মিরাজ। ইঞ্জুরির জন্য আইরিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা খেলা হয় নি তার।
টি২০- তে পেসারদের দাপটে ১ম ম্যাচে বোলিংয়ের সুযোগটাই পাননি তিনি।
অন্যদিকে স্পিনার নাসুম আহমেদ, অসাধারন বোলিং করলেও, টাইগারদের পেস বোলারদের দাপটে স্পিনাররা এখন বল করার সুযোগটাই পাচ্ছেন কমই।
টাইগারদের পেস বোলিংয়ের সোনালী যুগের শুরু বলা যেতে পারে। যার রুপকার এলান ডোনাল্ড।
ওয়ানডেতে আইরিশদেরকে নাকানিচুবানি খাইয়ে দিয়েছে এই পেস বোলাররাই।
৩য় ওয়ানডেতে ১০ টি উইকেটেই নিয়েছে, তাসকিন-হাসান মাহমুদরাই।
এক ম্যাচে তাসকিন, বিধ্বস্ত করে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদেরকে, অন্যম্যাচে হাসান মাহমুদ করে নিচ্ছেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং টাই।
ওয়ানডে সিরিজের ৩য় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নিয়ে, আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজ জিতিয়েছেন ডানহাতি বোলার হাসান মাহমুদ।
অন্যদিকে মোস্তাফিজকে এখনো অটোচয়েস হিসেবেই রাখা হয়েছে দলে,নেই তেমন উল্লেখযোগ্য পারফর্মেন্স, নতুনদের ভীড়ে হারিয়ে যাচ্ছেন নাতো এই কার্টার মাস্টার?
তার বদলে শরিফুল কে সুযোগ দেয়া হতে পারে, মুল একাদশে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে বাংলাওয়াশের পরই আইরিশদেরকে ধরাশয়ী।
আইরিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি২০ সিরিজ জেতার অপেক্ষায় টাইগাররা।
টি২০ তে বাংলাদেশের টানা ৪ জয়।
এমন একটা গৌরবময় অধ্যায় দেশের ক্রিকেটে শেষ কবে হয়েছে, সেটা হয়তো মনে করাটা দুঃসাধ্যই বটে।
কিন্তু সেই সোনালী স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখন চোখের সামনে।