ইংল্যান্ডের পর আইরিশদের বিপক্ষে বাংলা ওয়াশ, কি হচ্ছে তাহলে?
পর পর দুটি দেশকে বাংলাওয়াশের দারপ্রান্তে টাইগাররা। এখন শুধু সেটা সময়ের অপেক্ষা।
দুর্দান্ত,অসাধারণ আর ব্রিলিয়ান্ট পারফর্মেন্সের শিরোনামে, এখন লাল-সবুজের দেশ।
হোয়াইটওয়াশের মিশনে, শক্তিশালি একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে সাকিব-বাহিনি।
আইরিশদের বিপক্ষে, সিরিজের ৩য় টি২০ তে, দলে থাকতে পারে বেশ কিছু পরিবর্তন।
এক্সপেরিমেন্টের জন্য, দলে সুযোগ হতে পারে রিশাদ-শরিফুলের।
ওপেনিংয়ে লিটন-রনি দারুন উজ্জীবিত। এই দুই জুটি নামলেই রেকর্ড বুকে আঁকিবুঁকি।
আশরাফুলের সবচেয়ে ফাস্টেস্ট ফিফটির রেকর্ডটাও, ভেংগে দিলেন লিটন দাশ।
১৮ বলে ৫০,বাংলাদেশের এখন সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি।তাকে টি২০ ক্রিকেটের আদর্শ ব্যাটসম্যান বলায় যায়।
তার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ কলকাতা নাইট রাইডার্স। অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, কখন তাকে একাদশে নিয়ে মাঠে নামবে তারা।
লিটনের ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ প্রতিপক্ষ আইরিশ ক্যাপ্টেনও, তার ভাষায়, "লিটনকে দেখলে মনে হয়, ব্যাট করা কতটা সহজ! তার ব্যাটিং দেখা, চোখের প্রশান্তি।'
লিটনের স্ট্রাইক রেট আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের টপ লিস্টে। শেষ ৬৪ ইনিংসে, লিটনের স্ট্রাইক রেট ১৪২.৫৭। যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ, তারপরেই রয়েছেন, কুইন্টন ডি কক।
রেকর্ড বুকে যুক্ত হচ্ছে, টাইগারদের নতুন নতুন মাইলফলক।
পাওয়ার প্লেতে লিটন-রনির তুলকালাম কান্ড, বাংলাদেশের ওপেনিংয়ে নতুন বিপ্লব।
লিটনকে সংগ দেয়া রনি, দীর্ঘদিন পর দলে ফিরেই বুঝিয়ে দিচ্ছেন,কেন তাকে দলে দরকার।
প্রথম ম্যাচে ফিফটি, ২য়টিতে ২৩ বলে ৪৪ রান।
৩ নাম্বারে শান্ত ব্যাটিং ।বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সুযোগ দেয়া প্লেয়ারদের মাঝে, নিজেকে দারুনভাবে মেলে ধরা প্লেয়ারের নাম নাজমুল হাসান শান্ত।
৪ নাম্বারে ব্যাটিং সাকিব আল হাসানের, জায়গাটা পরিবর্তন হলেও, পারফর্মেন্সে সবসময় থাকেন এক নাম্বারে।
মাঠের বাহিরে সমালোচনা যত থাকুক, প্রতি নিয়ত ব্রিলিয়ান্ট পারফর্মেন্স দিয়ে, টাইগারদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বহুদুর।
তার দুর্দান্ত ক্যাপ্টেন্সিতে, ইংলিশদের পর আইরিশদেরকেও, রীতিমতো ছেলেখেলা করে ছেড়ে দিল টাইগাররা।
শেষ ম্যাচে পেসারদের দাপটের মাঝেও, তার স্পিন বিষের নীল দংশনে, দাড়াতেই দেননি আইরিশ ব্যাটসম্যানদের।
৫ উইকেটের মাধ্যমে পৌঁছে গেছেন, টি২০ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট টেকারের লিস্টে।
৫ এ ব্যাটিং তাওহিদ হ্রদয়ের।
শেষ ম্যাচেও,দ্রুত পার্টনারর্শিপ গড়ার লক্ষে, তার ১৩ বলে ২৪ রান, দারুনভাবে কাজে দিয়েছে দলের বড় স্কোর গড়তে।
৬ নাম্বারে শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে নামানো হয়েছে,গত দুই ম্যাচে। নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটাই পাননি এখনো সেরকভাবে।
তারপরেই মেহেদি হাসান মিরাজ।
টি২০- তে পেসারদের দাপটে, বোলিংয়ের সুযোগটাই পাচ্ছেননা স্পিনাররা।
তবে যেকোনো সময়, ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো যোগ্যতা রাখেন এই অলরাউন্ডার।
অন্যদিকে স্পিনার নাসুম আহমেদ, অসাধারন বোলিং করলেও, পেসারদের দাপটে স্পিনাররা সুযোগ পাচ্ছেন,বেশ কমই।
তার জায়গায়, লেগ স্পিনার রিশাদকে দিয়ে, এক্সপেরিমেন্ট করতেও দেখা যেতে পারে, ৩য় টি২০ তে।
টাইগারদের পেস বোলিংয়ের, সোনালী যুগের শুরু, বলা যেতে পারে। যার নেত্বতে রয়েছেন এলান ডোনাল্ড।
তাসকিনের কাছে অসহায় আত্নসমর্পন,আইরিশ ব্যাটসম্যানদের। দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখাচ্ছেন হাসান মাহমুদও।
অন্যদিকে মোস্তাফিজকে এখনো অটোচয়েস হিসেবেই রাখা হয়েছে দলে, দিনে দিনে বাজে পারফর্মেন্সে, হারিয়ে যাচ্ছেন নতুনদের ভীড়ে।
তার বদলে শরিফুল কে সুযোগ দেয়া হতে পারে, মুল স্কোয়াডে।
যেমন ঝড়ো ব্যাটিং, তেমনি তাসকিনদের আগুন ঝরা বোলিং।
প্রতিযোগিতায় নামে, বাংলার দামাল ছেলেরা, কে কার থেকে দুর্দান্ত পারফর্মেন্স দেখাবে দলে জায়গা করে নিতে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।