মোস্তাফিজহীন দিল্লীর টানা তিন হার! পরের ম্যাচে কি সুযোগ পাবেন টাইগার পেসার?
হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া


মুস্তাফিজে ভরসা না করে বার বার হোঁচট খাচ্ছে দিল্লি। দুই ম্যাচ টানা হারের পর যখন আশা করা যাচ্ছিল মুস্তাফিজুর রহমান একাদশে ফিরছেন, ঠিক তখনই বাংলাদেশের দর্শকদের, আবারো হতাশ করলো দিল্লি ম্যানেজম্যান্ট। মুস্তাফিজ দলে না থাকায়, বাংলাদেশের দর্শক যেমন হতাশ হয়েছেন, ঠিক তেমনই হতাশ হয়েছে দিল্লি ম্যানেজম্যান্ট। দুই ম্যাচ হারার পর নিজেদের তৃতীয় ম্যাচেও, রাজস্থানের কাছে ৫৭ রানে হেরেছে দিল্লি। আর দিল্লির হারের পিছনে,ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার ছাড়া বাকি সব বিদেশি recruit ,আবারো নিজেদের পারফর্ম্যান্স দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। রাজস্থানের হোম গ্রাউন্ডে, টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন দিল্লি ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার। শুরুতেই একাদশ থেকে বাদ পড়েন মিচেল মার্শ, তাঁর জায়গায় খেলেন রাইলি রুশো। আর আবারো টি-টোয়েন্টির হট কেক “রভমেন পাওয়েলের” উপর ভরসা করে দিল্লি ম্যানেজম্যান্ট। বোলিং ইউনিট সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়, আবারো সেই এনরিখ নর্কিয়ার উপর। আগের ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে, নর্কিয়া ৩৯ রান দিয়ে দুই উইকেট নিলেও, রাজস্থানের বিরুদ্ধে আরও হতাশাজনক পারফর্ম্যান্স দিয়েছেন। ৪ ওভার বল করে, ওভার প্রতি ১১ রান করে নর্কিয়া দিয়েছেন ৪৪ রান। নিতে পারেননি কোনো উইকেট। এমনকি প্রথম ইনিংসের চতুর্থ ওভারে, বাটলারের ক্যাচ মিস করে, দিল্লিকে আরও প্রেশারে ফেলে দিয়েছেন। নর্কিয়া প্রথম ৩ ওভারে ২৮ রান দিলেও, শেষ ওভারে দিয়েছেন ১৬ রান! ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট হিসেবে নর্কিয়ার যে পারফর্ম্যান্স, তাতে নিঃসন্দেহে বলা যায়, নর্কিয়া পরের ম্যাচে সুযোগ পাচ্ছেন না। নর্কিয়ার জায়গায় খেলানোর মতো, দিল্লির হাতে এখন অপশন আছে দুটি। দিল্লি ম্যানেজম্যান্ট চাইলেই খেলাতে পারেন, আরেক প্রোটিয়া পেসার লুঙ্গি এনগিডিকে। অথবা তাকেও যদি না খেলান, ক্যাপ্টেন ওয়ার্নার ভরসা রাখতে পারেন, কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের উপর। শুরুতে ব্যাট করতে নেমেই, দিল্লি বোলারদের উপর চড়াও হন ,রাজস্থানের ওপেনার জাইসওয়াল। প্রথম ওভারেই ৫ বাউন্ডারি থেকে আসে ২০ রান। পাওয়ারপ্লেতে প্রতিটি বোলারই ছিলেন বেশ খরুচে। নবম ওভারে যখন মুকেশ কুমারের বলে জাইসওয়াল আউট হন, তখন স্কোর বোর্ডে রান সংখ্যা ৯৮! জাইসওয়াল ৬০ রান করে আউট হলেও, অন্য প্রান্ত থেকে ঠিকই দিল্লি বোলারদের উপর তান্ডব চালিয়ে যান জস বাটলার। বাটলার ৫১ বলে ৭৯ রান করে সেই মুকেশ কুমারের শিকারেই পরিণত হন। শেষ দিকে শিমরান হেটমায়ারের ঝড়ো ২১ বলে ৩৯ রানের সুবাদে, ২০ ওভারে ১৯৯ রান করে রাজস্থান। ২০০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে, শুরুতেই হোঁচট খায় দিল্লি। ট্রেন্ট বোল্ট এর প্রথম চার বলেই, দুই উইকেট হারায় দিল্লি। দলকে চাপ থেকে টেনে তুলতে, ক্যাপ্টেন ডেভিড ওয়ার্নার অনেক চেষ্টা করেন। তবে ব্যাট হাতে আবারো ব্যর্থ হন, অন্য বিদেশী ক্রিকেটাররা। ১২ বলে ১৪ রান করে, রবিচন্দন আশ্বিন এর বলে আউট হয়ে, সাজঘরে ফিরেন রাইলি রুশো। আর শেষের দিকে “রভমেন পাওয়েলের” থেকে যে পাওয়ার হিটিং দিল্লি আশা করেছিলো, সেটি ডেলিভার করতে আবারো ব্যর্থ হন তিনি। পাওয়েল মাত্র ২ রান করে আশ্বিন এর বলে ক্যাচ আউট হন। এর পর থেকে দিল্লি আর ম্যাচেই ফিরতে পারে নি। তাঁদের ইনিংস থামে, ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানে। দিল্লি শিবিরে বিদেশী recruit দের যে পারফর্ম্যান্স, তা নিশ্চই পরের ম্যাচের একাদশ নিয়ে, কোচ রিকি পন্টিংকে ও ক্যাপ্টেন ওয়ার্নারকে ভাবাচ্ছে ।এক কথায় দিল্লির বোলিং ইউনিটের যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স, পুরো দলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। এক্ষেত্রে তাহলে কি আবার, মুস্তাফিজের কাছেই ফিরতে যাচ্ছে দিল্লি ম্যানেজম্যান্ট? ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট হিসেবে, যদি মুস্তাফিজ অন্তত ১৫-২০ রান সেভ দিতে পারেন, তবে অল্প টার্গেটেই প্রতিপক্ষকে আটকে ফেলতে পারবে দিল্লি। সেক্ষেত্রে প্রথম জয় তুলে আনতে, ব্যাটারদের জন্য কাজটা সহজই হয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১১ এপ্রিল মুম্বাইয়ের বিপক্ষের ম্যাচে, সেই মুস্তাফিজেই ফিরে কি না দিল্লি।


