ক্রিকেট


পাকিস্তানি ব্যাটাররা মাইলফলকের জন্য খেলে, দলের জন্য নয় - মোহাম্মদ ওয়াসিম


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

পাকিস্তানি ব্যাটাররা মাইলফলকের জন্য খেলে, দলের জন্য নয় - মোহাম্মদ ওয়াসিম
দলের ফলাফলের চেয়ে নিজেদের মাইলফলকের দিকেই পাকিস্তানি প্লেয়ারদের বেশি নজর থাকে বলে বোমা ফাটিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান নির্বাচক ও ব্যাটার মোহাম্মদ ওয়াসিম। 


রমিজ রাজা যখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পিসিবি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, সে সময় ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মোহাম্মদ ওয়াসিম ছিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের  প্রধান নির্বাচক।

গত পাঁচ বছর ধরেই নাকি ওয়াসিম লক্ষ্য করছেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা দলের ফলাফলের চেয়ে ব্যক্তিগত মাইলফলক নিয়ে বেশি মাথা ঘামাচ্ছেন। তাঁরা দলের জন্য খেলেন না বরং, ব্যাক্তিগত অর্জনকেই তাঁরা বেশি গুরুত্ব দেন।

আর দলের স্বার্থের চেয়ে এই ব্যাক্তিগত রেকর্ডের লোভই পাকিস্তান দলের এমন ভরাডুবির কারণ বলে মনে করেন ওয়াসিম। 

মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরেই দেখছি ব্যাপারটা। আপনারা যদি ব্যাটসম্যানদের ৪০ থেকে ৫০ আর ৯০ থেকে ১০০ রানে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করার সময়ের হিসাব নেন, তাহলে ব্যাপারটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এ সময় তাঁরা ব্যক্তিগত অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়, যেটি দলের ভরাডুবির কারণ হয়। একটা ফিফটি বা সেঞ্চুরি পাওয়ার দিকে মনোযোগী হওয়ার কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’ আর এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সাফল্যহীনতার মূল কারণ’।  

ওয়াসিম আরও মনে করেন, ম্যাচের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়েরা কতটা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়ে পারফর্ম করতে পারে, দলের সাফল্য নির্ভর করে তার ওপরই। 

তবে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা নিজ রেকর্ডকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে বরাবরের মতোই। খেলোয়াড়রা অতীতেও এমন কাজ করেছে বলে দাবি করে তিনি জানান, ‘ক্রিকেটে সাফল্য নির্ভর করে ক্রিকেটাররা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে কতটা খাপ খাওয়াতে পারে, তার ওপর। 

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা সেটি করে দেখিয়েছে। তারা তাদের ব্যাটিং স্ট্রাইক রেট ৭০ থেকে ১০০–তে তুলেছিল। আর এটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে সাহায্য করেছিল।’

তবে এর ব্যতিক্রম ঘটে নিউজিল্যান্ড সিরিজে।  সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে শুরুতেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিলো বড় রানের। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা যেভাবে খেলছিলেন, মনে হচ্ছিল রান ২২০ ছাড়িয়ে যাবে। 

তবে কিন্তু মোহাম্মদ রিজওয়ানের সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগায় শেষ দিকে অপেক্ষাকৃত কম রান যোগ হয় পাকিস্তানের স্কোর বোর্ডে। সেই ম্যাচে রিজওয়ান তো সেঞ্চুরি করতে পারেনই নি, বরং পুড়েছেন ২ রানের সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপে। আর এই নিজ ল্যান্ডমার্ক অর্জন করতে গিয়ে পাকিস্তানের রানের গতি কমে যায়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান ২০ ওভারে তুলতে পারে ১৯৩ রান। 

পরে ১৯৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৪ বল বাকি থাকতেই মার্ক চ্যাপম্যানের দারুণ সেঞ্চুরির উপর ভর করে অসাধারণ জয় পায় নিউজিল্যান্ড। 

এমনকি সিরিজের শুরুতে ২-০ তে এগিয়ে থাকার পরেও পঞ্চম টি-টোয়েন্টি শেষে ২-২ এ সিরিজ ভাগাভাগি করে নিতে হয় পাকিস্তানকে। আর এটা কেবল হয়েছে রিজওয়ানদের ব্যাক্তিগত ল্যান্ডমার্ককে দলীয় সাফল্যের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কারণে। 

পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা যদি দলের ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দিতেন তবে হয়তো নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের সিরিজটি নিজেদের করে নিতে পারতেন। 



সম্পর্কিত

খেলার খবর

জনপ্রিয়


ক্রিকেট থেকে আরও পড়ুন

ঘরের মাঠেই হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায় টাইগাররা।

ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল বাংলাদেশ, প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার সহজ জয়

ওয়ানডে সিরিজে পরপর দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানোর পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং বিপর্যয়ে প্রত্যাশিত সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হওয়ায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বধ, মোসাদ্দেকের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

অবশেষে অস্ট্রেলিয়া বাধা পেরোল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে চার বছর পর দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানের বড় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।

ক্রিকেটের নিয়মে বড় পরিবর্তনের ভাবনা আইসিসির

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিভিন্ন ফরম্যাটে একাধিক নতুন নিয়ম চালুর পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। ওয়ানডেতে ড্রিংকস ব্রেকের সময় মাঠে কোচের প্রবেশ, টেস্টে বল পরিবর্তনের সুযোগ এবং টি-টোয়েন্টিতে ইনিংস বিরতি কমানোর মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।