ঘরের মাঠে গত মাসে আইরিশদের বিপক্ষে সিলেটে পেস ইউনিট দিয়ে আয়ারল্যান্ডকে তুলোধুনো করেছিলো বাংলাদেশ। এবার পেসারদের বিদেশের মাটিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পালা।
এক সময় স্পিন অ্যাটাক ছাড়া যেই বাংলাদেশকে কল্পনাও করা যেতো না, পেসারের অভাবে বিদেশের মাটিতে বরাবরই নাকানি চুবানি খেতে হতো । সেই বাংলাদেশ এবার আয়ারল্যান্ড সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অন্তত চার পেসার নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে।
পেস ইউনিটে তাসকিনের বদলি হিসেবে দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। বিশ্বকাপের আগে বাজিয়ে দেখতে অভিষেক হয়ে যেতে পারে তাঁর। সেই সাথে আট বছর পর দলে ফেরা রণি তালুকদারের অভিষেকটাও হয়ে যেতে পারে।
আর আগেই ওয়ানডে বিশ্বকাপের টিকেট নিশ্চিত করে ফেলায় কোচ হাতুরাসিংহের জন্য পেসারদের , বাজিয়ে দেখার আরও একটি সুযোগ তৈরি হলো।
আগামীকাল বিকেল ৩ টা ৪৫ মিনিটে চেমসফোর্ডের কাউন্টি মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। আইরিশদের জন্য ওয়ানডে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচ সুপার লীগের অংশ হলেও বাংলাদেশের জন্য সিরিজটি শুধুই নিয়মরক্ষার।
তাই আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে এই সিরিজেই বেশ কিছু খেলোয়াড়কে বাজিয়ে দেখতে চাইবেন কোচ হাতুরাসিংহে।
তাসকিনের বদলে স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া মৃত্যুঞ্জয়কে নিয়ে বাজি ধরতে পারেন কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে।
চেমস ফোর্ডের উইকেট পেস বান্ধব হওয়ায় অন্তত চার পেসার নিয়ে খেলতে পারে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হবে এক সিরিজ পরে দলে ফেরা বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে।
এবার দেখে নেওয়া যাক, প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ কেমন হতে পারে।
ওপেনিং এ বরাবরের আস্থার নাম লিটন-তামিম। তবে এবারে লিটনের পাশাপাশি একজন ব্যাক আপ ওপেনার হিসেবে রণিকে দলে নিয়েছেন কোচ।
আট বছর পর দলে ফেরা রণি টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ব্যাক আপ ওপেনাররে জায়গাটা এখনো খালি বাংলাদেশের স্কোয়াডে।
সৌম্য সরকার, এনামুল বিজয় থেকে শুরু করে নাঈম শেখ সবাই সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন বার বার। তাই রণিকে বিকল্প ওপেনার হিসেবে এই সিরিজে বাজিয়ে দেখার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।
এমনটাই যদি ভাবেই টিম ম্যানেজম্যান্ট, সেক্ষেত্রে হয়তো ইন ফর্ম লিটনকে বসিয়ে রণিকে প্রথম ওয়ানডেতে অভিষেক করানো পারে।
ওয়ানডাউনে এতোদিন ভালোই ভুগছিলো বাংলাদেশ। তবে নাজমুল শান্ত ধারাবাহিক পারর্ফম করায় আপাতত ওয়ান ডাউনে যে শান্ত খেলছেন, সেটা নিশ্চিত।
শান্তর পর চার নম্বরে সাকিবের জায়গাটা ফিক্সড। কোচ থেকে ক্যাপ্টেন সবাই একমত যে সাকিবকে চারেই খেলানো হবে।
মুশফিককে এক ধাপ পেছনে দিয়ে পাঁচ নম্বরে খেলানো হতে পারে তরুণ তাওহীদ হৃদয়কে। ইতোমধ্যেই হৃদয় বেশ কয়েকটি কার্যকরী ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন মিডল অর্ডারে তাঁর উপর ভরসা করতে পারেন ক্যাপ্টেন, কোচ।
মুশফিকের উপর দ্বায়িত্ব থাকবে মিডল অর্ডারের পুরো দায়িত্বটা সামলানোর। আর নিজের দিনে যে মুশফিক চাপের মুখে অবিশ্বাস্য অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন, সেটার প্রমাণ হয়তো আর বার বার দেওয়া লাগবে না মিস্টার ডিপেন্ডেবলের।
সাতে একমাত্র স্পিনার হিসেবে দলে ঢুকতে পারেন মেহেদি হাসান মিরাজ। শেষের দিকে মিরাজের যে ম্যাচ উইনিং অ্যাবিলিটি আছে, তাঁর জন্য বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বাংলাদেশ।
সাত নম্বর পজিশন পর্যন্ত স্কোয়াড মোটামুটি কনফার্ম থাকলেও আট নম্বর পজিশন নিয়ে যত চিন্তা টিম ম্যানেজম্যান্টের।
সত্যি কথা বলতে নাসির হোসেনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো নিখুঁত ফিনিশার নেই বললেই চলে । এই আট নম্বরে মোসাদ্দেক, ইয়াসির আলী রাব্বিকে সুযোগ দেওয়া হলেও তাঁরা সেটা কাজে লাগাতে পারছেন না।
বরং যাদের এ পজিশনে থাকার কথা, মাহমুদুল্লাহ ও আফিফ, তাঁরা এখন দলের বাইরে।
ব্যাটিং অর্ডারটাকে যদি লম্বা করতেই হয়, তবে হয়তো ইয়াসির আলীকে খেলাবে ম্যানেজম্যান্ট। কিন্তু চার পেসার খেলালে ইয়াসিরের জায়গা হবে সাইড বেঞ্চে।
পেস ইউনিটের নেতৃত্বের দায়িত্ব থাকবে মুস্তাফিজের উপর। তাঁর সাথে থাকবেন হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন। আর চতুর্থ একজন পেসার হিসেবে অভিষেক ঘটতে পারে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর।