অপরাধ
‘সাইকো’ সম্রাটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় রসু খাঁ- এখন কোথায় এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার
.webp)
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে টানা কয়েক মাসে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মশিউর রহমান সবুজ যাকে অনেকেই ‘সাইকো’ সম্রাট নামে চেনেন এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন আরেক ভয়ংকর নাম, কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ।
সাভারে সাত মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরই পুরোনো ক্ষত যেন আবারও নড়েচড়ে বসেছে। মানুষের মনে ফিরে এসেছে সেই প্রশ্ন বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলারদের ভয়াবহ ইতিহাস কি আবার ফিরে আসছে?
রসু খাঁর আসল নাম রশিদ খাঁ। চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। অভাব, পারিবারিক ভাঙন আর সামাজিক অবহেলা ধীরে ধীরে তাঁকে ঠেলে দেয় অপরাধের পথে। শুরুটা ছিল ছোটখাটো চুরি দিয়ে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পথ রূপ নেয় ভয়ংকর নৃশংসতায়।
নারীদের প্রেমের অভিনয়ে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের পর হত্যা এটাই ছিল রসু খাঁর বিকৃত নেশা। তাঁর নিজের ভাষ্যমতে, তিনি লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন ১০১ জন নারীকে হত্যার। যদিও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে ১১ জন নারীকে হত্যা করেই থামতে হয় তাঁকে।
টঙ্গীতে বসবাসকালে এক গার্মেন্টকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রসু খাঁর ভেতরে জন্ম নেয় ভয়ংকর প্রতিশোধস্পৃহা। অপমান আর ক্ষোভ থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নারী জাতির ওপর প্রতিশোধ নেবেন। এরপর একের পর এক গার্মেন্টকর্মী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা তাঁর শিকার হতে থাকে।
হাত-পা বেঁধে নদী, খাল কিংবা ডোবায় ফেলে দেওয়া, শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা রসু খাঁর হত্যাকাণ্ডের ধরন ছিল অবর্ণনীয় নিষ্ঠুর। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি একা নন, সহযোগীদের নিয়েই এসব অপরাধ করতেন। এমনকি আপন আত্মীয়ের স্ত্রীকেও হত্যা করতে পিছপা হননি।
২০০৯ সালে পারভীন আক্তার নামের তিন সন্তানের জননীকে হত্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাঁর হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই রিকশাচালক সেজে থানায় গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শেষরক্ষা করতে পারেননি। একটি সিম কার্ডের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে শনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তার করে।
একাধিক হত্যা মামলার মধ্যে পারভীন হত্যা মামলায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয় রসু খাঁ একজন সিরিয়াল কিলার, তাঁর জন্য কোনো ধরনের সহানুভূতির সুযোগ নেই।
বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে বন্দী আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছেন। তবে এখনো কোনো স্বজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।
তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাগুলোর বিচার এখনো চলমান। ফাঁসির আদেশসহ কয়েকটি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল আবেদনও করা হয়েছে।
‘সাইকো’ সম্রাট সবুজের সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও যখন সমাজ আতঙ্কিত, তখন রসু খাঁর ভয়ংকর অধ্যায় মনে করিয়ে দেয় এই ধরনের অপরাধ শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।
সম্পর্কিত
জনপ্রিয়
অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
বিয়ের প্রলোভনে প্রেমিকাকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় এক নারীকে (২২) বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে প্রেমিক জাহিদ হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যায় বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের চর লুছনি এলাকায়।

মিরপুরে নয়নের ‘মাদকের সাম্রাজ্য’, ধরাছোঁয়ার বাইরেই মূল হোতা!
রাজধানীর মিরপুরের চিড়িয়াখানা রোড এলাকায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসা। এই এলাকার মাদকের একক নিয়ন্ত্রণ এখন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী নয়নের হাতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘ দিন ধরে এই ‘মাদকের সাম্রাজ্য’ চালিয়ে আসলেও নয়ন রয়ে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঈদযাত্রা ঘিরে চাঁদাবাজি: হাতেনাতে আটক ২
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে দুই তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে ঘাট টার্মিনাল এলাকা থেকে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।

প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় প্রাইভেট পড়ানোর সময় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম নুরুল আমিন। তিনি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক।


.jpg)






