অপরাধ


‘সাইকো’ সম্রাটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় রসু খাঁ- এখন কোথায় এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার


সহ-সম্পাদক

শাহারিয়া নয়ন

প্রকাশিত:২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার

‘সাইকো’ সম্রাটের ঘটনায় আবারও আলোচনায় রসু খাঁ- এখন কোথায় এই কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও আশপাশের এলাকা থেকে টানা কয়েক মাসে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মশিউর রহমান সবুজ যাকে অনেকেই ‘সাইকো’ সম্রাট নামে চেনেন এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন আরেক ভয়ংকর নাম, কুখ্যাত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁ

 

সাভারে সাত মাসে ছয়টি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া সবুজ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরই পুরোনো ক্ষত যেন আবারও নড়েচড়ে বসেছে। মানুষের মনে ফিরে এসেছে সেই প্রশ্ন বাংলাদেশে সিরিয়াল কিলারদের ভয়াবহ ইতিহাস কি আবার ফিরে আসছে?

 

রসু খাঁর আসল নাম রশিদ খাঁ। চাঁদপুর সদর উপজেলার মদনা গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। অভাব, পারিবারিক ভাঙন আর সামাজিক অবহেলা ধীরে ধীরে তাঁকে ঠেলে দেয় অপরাধের পথে। শুরুটা ছিল ছোটখাটো চুরি দিয়ে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই পথ রূপ নেয় ভয়ংকর নৃশংসতায়।

 

নারীদের প্রেমের অভিনয়ে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের পর হত্যা এটাই ছিল রসু খাঁর বিকৃত নেশা। তাঁর নিজের ভাষ্যমতে, তিনি লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন ১০১ জন নারীকে হত্যার। যদিও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আগে ১১ জন নারীকে হত্যা করেই থামতে হয় তাঁকে।

 

টঙ্গীতে বসবাসকালে এক গার্মেন্টকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রসু খাঁর ভেতরে জন্ম নেয় ভয়ংকর প্রতিশোধস্পৃহা। অপমান আর ক্ষোভ থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নারী জাতির ওপর প্রতিশোধ নেবেন। এরপর একের পর এক গার্মেন্টকর্মী ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা তাঁর শিকার হতে থাকে।

 

হাত-পা বেঁধে নদী, খাল কিংবা ডোবায় ফেলে দেওয়া, শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করা রসু খাঁর হত্যাকাণ্ডের ধরন ছিল অবর্ণনীয় নিষ্ঠুর। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি একা নন, সহযোগীদের নিয়েই এসব অপরাধ করতেন। এমনকি আপন আত্মীয়ের স্ত্রীকেও হত্যা করতে পিছপা হননি।

 

২০০৯ সালে পারভীন আক্তার নামের তিন সন্তানের জননীকে হত্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাঁর হত্যাযজ্ঞ। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের পর নিজেই রিকশাচালক সেজে থানায় গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে শেষরক্ষা করতে পারেননি। একটি সিম কার্ডের সূত্র ধরেই শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে শনাক্ত করে এবং গ্রেপ্তার করে।

 

একাধিক হত্যা মামলার মধ্যে পারভীন হত্যা মামলায় আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয় রসু খাঁ একজন সিরিয়াল কিলার, তাঁর জন্য কোনো ধরনের সহানুভূতির সুযোগ নেই।

 

বর্তমানে ৫২ বছর বয়সী রসু খাঁ গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে বন্দী আছেন। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছেন। তবে এখনো কোনো স্বজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেননি।

 

তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাগুলোর বিচার এখনো চলমান। ফাঁসির আদেশসহ কয়েকটি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল আবেদনও করা হয়েছে।

 

‘সাইকো’ সম্রাট সবুজের সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও যখন সমাজ আতঙ্কিত, তখন রসু খাঁর ভয়ংকর অধ্যায় মনে করিয়ে দেয় এই ধরনের অপরাধ শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক ভয়াবহ সতর্কবার্তা।


সম্পর্কিত

সাইকো সম্রাটরসু খাঁসিরিয়াল কিলার

জনপ্রিয়


অপরাধ থেকে আরও পড়ুন

মাজারে পুলিশের অভিযান, পাওয়া গেলো গোপন সুড়ঙ্গ ও ২ কেজি গাঁজা

টঙ্গীর মাজার বস্তিতে ভোরবেলা চালানো পুলিশের বিশেষ অভিযানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সুড়ঙ্গপথ, তালাবদ্ধ কক্ষ এবং বিলাসবহুল ব্যবস্থার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল সংগঠিত মাদক কারবার এমনটাই জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার ৫, গাঁজা-ইয়াবা উদ্ধার

কুষ্টিয়ায় মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে গাঁজা, ট্যাবলেট ও ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। রোববার (৩ মে ২০২৬) জেলার দৌলতপুর ও ইবি থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নেত্রকোণায় কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, আটক ৩

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলায় কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

দুই দিনে গ্রেফতার ৯৪ চাঁদাবাজ: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত দুই দিনে তালিকাভুক্তসহ মোট ৯৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (৩ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার।