দেশে নতুন পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক। উৎপাদন এলাকায় দাম আরও কম হলেও খুচরা বাজারে পরিবহন ও মধ্যস্বত্বভোগীর কারণে দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে মাঝারি মানের মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০–৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারে বড় ও ভালো মানের পেঁয়াজের দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায় খুচরা বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। অর্থাৎ উৎপাদন এলাকার তুলনায় ঢাকার বাজারে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দাম গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
বিক্রেতারা জানান, ডিসেম্বরের শুরুতে নতুন পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। গত তিন সপ্তাহে সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম দ্রুত কমে এসেছে। তবে তীব্র শীতের কারণে অনেক কৃষক এখনো মাঠ থেকে পুরো মাত্রায় পেঁয়াজ তুলতে পারছেন না। শীত কমলে বাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে, তখন দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন পেঁয়াজের পাশাপাশি বাজারে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে। এসব পেঁয়াজের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ এখন তুলনামূলক কম পাওয়া যাচ্ছে এবং এর দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।
কারওয়ান বাজারে অন্যান্য এলাকার তুলনায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। সেখানে খুচরা পর্যায়ে মুড়িকাটা পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে পাঁচ কেজির পাল্লা হিসেবে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ে দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৮৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজের দাম গত বছরের কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে।
পাবনার সাঁথিয়ায় পেঁয়াজের দাম দ্রুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকেরা। তিন সপ্তাহ আগে যেখানে পেঁয়াজের মণ ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়।
সাঁথিয়ার বোয়াইলমারি হাটের আড়তদার রাজা হোসেন বলেন, প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও সরবরাহ বাড়তে থাকায় দাম দ্রুত কমছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে পুরো মাত্রায় পেঁয়াজ উঠলে দাম আরও কমতে পারে।
কৃষকেরা জানান, বর্তমান দামে কোনো রকমে উৎপাদন খরচ উঠলেও দাম আরও কমলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারও তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

.webp)
.jpg)


.webp)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)
.jpg)