বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। 'ব্যাচেলর পয়েন্ট' এর কাবিলা খ্যাত পলাশ রোকেয়া কিংবা ইভা কে নয়- রঙিন পর্দার আড়ালে জীবন সঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছেন নাফিসা রুম্মান মেহনাজ কে।
পলাশের স্ত্রী নাফিসা তাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। বিয়ের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিলো তাদের৷ তবে পলাশের বাবা মায়ের পছন্দেই দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন তারা।
পলাশের স্ত্রী নাফিসা রুম্মান মেহনাজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে একটি বেসরকারি কোম্পানি তে চাকরি এবং একই সাথে স্নাতকোত্তর করছেন তিনি৷
পলাশ এবং নাফিসার বিয়ে কিছুদিন আগেই পারিবারিক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কাছের আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পরিচালক কাজল আরেফিন অমি।
তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণ ছিলো না। তবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বলে জানান এই অভিনেতা।
বড়দের পছন্দে বিয়ে হলেও পলাশের স্ত্রী তাকে আগে থেকেই পছন্দ করতেন। অভিনয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পলাশের প্রতি এক ধরনের অনুভূতি ছিলো নাফিসার। পরিচয়ের পর সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
সম্পর্কে আত্মীয় হলেও পলাশ এর সাথে বেশি আগে যোগাযোগ ছিলো না নাফিসার। গত বছরের নভেম্বরে পরিবারের কথায় নাফিসার সাথে যোগাযোগ করেন পলাশ।
তখনই নাফিসা তার অনুভূতি জানান পলাশ কে। এরপর ধীরে ধীরে তাদের সখ্যতা বাড়ে এবং সেটি গড়ায় বিয়ে পর্যন্ত।
বিয়ের বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো মধুচন্দ্রিমায় যাওয়া হয়নি এই দম্পতির। অভিনয় নির্মাণ সব কিছু নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত সময় পার করছেন জিয়াউল হক পলাশ।
দাম্পত্য জীবন নিয়ে পলাশ জানান, 'বাবা মায়ের পছন্দ কে প্রাধান্য দিয়ে বিয়ে করেছি। আলহামদুলিল্লাহ দাম্পত্য জীবনে আমরা বেশ সুখে আছি। সবার কাছে দোয়া চাই, জীবনের বাকিটা সময় যেন পরস্পরের অপরিহার্য হয়ে থাকতে পারি।'
নোয়াখালী জেলার ছেলে পলাশের বেড়ে ওঠা ঢাকার নাখাল পাড়ায়। ছোট বেলায় খুব ভালো ছাত্র ছিলেন না। ফলাফল স্বরূপ দুইবার এসএসসি পরিক্ষায় বসতে হয়েছিলো তাকে।
উচ্চ মাধ্যমিকের পর ঢাকার তিতুমীর কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
কর্ম জীবনের শুরুতে পরিচালক কাজল আরেফিন অমির সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এছাড়া নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর কাছে দুই বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।
পরবর্তী তে অমি পরিচালিত 'ব্যাচেলর পয়েন্ট' নাটকের কাবিলা চরিত্র তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
মূলত নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় সংলাপ এবং কমেডি ধারার অভিনয়ে পারদর্শীতা দেখিয়ে দর্শক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন পলাশ।
'ব্যাচেলর পয়েন্ট' ছাড়াও ফ্যামিলি ক্রাইসিসের পারভেজ চরিত্রটি বেশ জনপ্রিয় ছিলো। 'কাবিলা' হোক বা 'পারভেজ', দুটি চরিত্র হাস্যরসাত্মক হলেও অভিনয়ের ধারায় দুটি চরিত্রে কিছুটা আলাদা।৷
একের পর এক নাটক, টিভিসি তে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছেন এই তরুণ অভিনেতা। ছোট পর্দার পাশাপাশি বর্তমানের জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও অভিষেক হয়েছে তার৷
'বলি' এবং 'তীরন্দাজ' পলাশ অভিনীত দুটি ওয়েব ফিল্ম, যেগুলি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি এবং বায়োস্কোপে মুক্তি পেয়েছিলো।
'বলি' ওয়েব ফিল্মে পলাশ এবং বাংলাদেশের কিংবদন্তি অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী কে একসাথে দেখা গিয়েছে।
বর্তমানে অভিনয়ের চেয়ে বেশি পরিচালনায় মনোযোগী হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সহকারী পরিচালকের দায়িত্বও পালন করছেন। সব কিছু মিলিয়ে এখন কর্মজীবনে ভালোই ব্যাস্ত পলাশ।