অবশেষে দ্বিতীয় ছেলে, শেহজাদ খান বীরের জন্মদিনের পার্টিতে দেখা গেল সুপারস্টার শাকিব খানকে। আর সেই পার্টির বিভিন্ন ছবি নিজস্ব ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছেন, শাকিবের প্রাক্তন স্ত্রী শবনম ইয়াসমিন বুবলী।২২ মার্চ দুপুর বেলাতে, সেসব ছবি প্রকাশ্যে আসার ১ ঘন্টার মধ্যেই, নেটিজেনদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
জাকজমকপূর্ণ সেই আয়োজনে শাকিবের বাবা-মা, বোনসহ উপস্থিত ছিলেন বুবলীর পরিবারের বিভিন্ন সদস্যরা।নিজের ভেরিফাইড করা ফেসবুক পেজ থেকে ছেলে শেহজাদ খান বীরকে জন্মদিনের শুভকামনাও জানিয়েছেন সুপারস্টার শাকিব খান।
সেইসঙ্গে খেলাধুলার জন্য ছেলেকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন ছোট্ট একটি লাল গাড়ীও। তবে এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে, নেটপাড়ার মানুষের মনে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে নানান ধরনের প্রশ্ন।
কেউ কেউ কটাক্ষের সুরে বলেছেন, শাকিব-অপুর পূত্র আব্রাহাম খান জয়ের জন্মদিনের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরপরই, বুবলী রাগ করে সকল তথ্য উগলে দিয়েছিলেন।
আর এবার শাকিব-বুবলীর পূত্রের জন্মদিনের ছবি দেখে, না জানি কোন নায়িকা আবার তেলে বেগুনে জ্বলে উঠবেন।আবার অনেকে এও বলছেন, শাকিব-বুবলীর ডিভোর্সের গল্পটা আমজনতাদের বোকা বানানোর জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। বাস্তব জীবনে এরা তো বেশ সুখেই আছেন। আর এখন অপুকে জ্বালাতেই এত কিছু করে বেড়াচ্ছেন বুবলী।
যদিওবা ইতিমধ্যে বহু সাক্ষাৎকারে, শাকিব খান স্বীকার করেছিলেন বুবলীর সঙ্গে তার কোনরকমের সম্পর্ক নেই। তারপরেও তাদের এই নতুন নাটককে ঘিরে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ জনগণের মাঝে।কথায় আছে, 'প্রকৃতি সময়মতো সবকিছুই ফিরিয়ে দেয়'। ব্যতিক্রম ঘটেনি বুবলীর ক্ষেত্রেও।
২০০৮ সালে অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে গোপনে বিয়ে করেছিলেন ঠিকই। তবে একজন মা হিসেবে সন্তানের পিতৃপরিচয় আদায়ে, বাধ্য হয়ে ২০১৭ সালে মিডিয়ার সামনে এসেছিলেন অপু।
আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, অপু বিশ্বাসের মাতৃত্বের উপর একসময় প্রশ্ন তুলেছিলেন শবনব ইয়াসমিন বুবলী।
২০১৭ সালের ১১'ই এপ্রিল বুবলী তার নিজস্ব ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে,অপু বিশ্বাসের দিকে অভিযোগ তীর ছুড়েছিলেন।
সেই পোস্ট অনুযায়ী বুবলীর ভাষ্য ছিল, অপু বিশ্বাসের কাছে সন্তানের চাইতেও তার ক্যারিয়ার বড়। রংবাজ সিনেমার নায়িকা হিসেবে বুবলি কাজ করছেন জেনেই, একরকম জেদের বশেই অপু বিশ্বাস তার সন্তান সমেত মিডিয়ার সামনে হাজির হয়েছিলেন।
নয়ত এতদিন সন্তানের কথা লুকিয়ে কেন তিনি আড়ালে ছিলেন? তখনতো সাংবাদিকরা হারিকেন জ্বালিয়েও অপুকে খুঁজে পেতেন না। এসব ঘটনার কারণেই যে শাকিব-অপুর ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল সে কথা অজানা নয় কারোর'ই।
তবে, কয়েক বছর যেতে না যেতেই প্রকৃতি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে বুবলীর জীবনেও। বুবলীও ২০১৮ সালের ২০ জুলাই ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা শাকিব খানকে।
বিয়ের দুবছর পরেই, ২০২০ সালে প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ পেয়েছিলেন অভিনেত্রী বুবলী। এই গোপন কথা মানুষ তো ভালো কাক-পক্ষীও টের পায়নি কখনো।
এরপরে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর, হঠাৎ'ই সামাজিক মাধ্যমে নিজের সন্তান শেহজাদ খান বীরের কথা প্রকাশ্যে আনেন বুবলী।
আর এতে করেই, নেটিজেনরা পেয়ে বসেছিলেন এই অভিনেত্রীকে। তাদের দাবী, কিছুদিন আগে অপুর ছেলের জন্মদিনে শাকিবকে দেখেই জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন বুবলী।
তারমানে বুবলীর কাছেও সেই ক্যারিয়ারই বড়, নয়ত তিনিও কেন প্রায় আড়াই বছর ধরে নিজের ছেলেকে সকলের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন?
এই প্রশ্নের উত্তর বুবলী দিতে না পারলেও, যতটুকু জনগণকে জানিয়েছিলেন, তা থেকেও সহানুভূতি আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। উল্টো রীতিমতো দর্শকের হাসির খোরাক হয়ে উঠেছেন বুবলী।
তবে দুই প্রাক্তন স্ত্রীর দ্বন্দ্বে বরাবরই চুপ থাকেন শাকিব খান। স্ত্রীরদের সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ না থাকলেও দুই সন্তানের ক্ষেত্রে ভালোবাসার কমতি রাখেননা তিনি।
সাধারণ জনগণেরও সেই একটিই কামনা, বাবা-মায়ের ভুলের কারণে জয় কিংবা বীরের ভবিষ্যতে কোনরকম আঁচ যেন না লাগে।