সাংবাদিক সীমান্ত খোকনের রহস্যজনক মৃত্যুর খবর দেশের সাংবাদিক মহলসহ বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া ফেলেছে। ১ অক্টোবর ২০২৪, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর চামেলীবাগে তার নিজ বাসা থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পল্টন থানা পুলিশ। মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি, তবে তার আকস্মিক মৃত্যুতে অনেকেই শোকাহত।
সীমান্ত খোকন একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সাংবাদিকতা জগতে তার অসামান্য অবদান এবং ব্যক্তিগত জীবনের দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব অনেকেই স্মরণ করছেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার সাথে গভীর বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে একটি ফেসবুক পোস্টে শোক প্রকাশ করেছেন। আসিফ আকবরের সেই পোস্টটি দেশের বিনোদন সাংবাদিকদের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আসিফ আকবর তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ঢাকায় আসার পর সীমান্ত খোকনের সাথে তার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। সেই সময় সীমান্ত দৈনিক মানবজমিনে সাংবাদিকতা করতেন এবং বেশ ডাকসাইটে সাংবাদিক হিসেবে কমিউনিটিতে পরিচিত ছিলেন। আসিফের গান এবং সীমান্তর সাংবাদিকতার ক্যারিয়ার একসাথে গড়ে ওঠায়, তারা দুজনই রাতের পর রাত আড্ডায় সময় কাটাতেন। তাদের সম্পর্ক শুধু পেশাগত ছিল না, বরং ব্যক্তিগত জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। আসিফ জানান, সীমান্তর সাথে কাটানো দিনগুলো তার জীবনে সবসময়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আসিফ আকবর আরও উল্লেখ করেন, বিনোদন সাংবাদিকতার তরুণদের জন্য আলাদা সংগঠন তৈরির প্রস্তাবটি মূলত সীমান্তর সঙ্গে আড্ডার সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। সীমান্ত, মোর্শেদ নোমান, এসএম রানা, আফরাদ রনি—এই কজন মিলে গঠন করেন কালচারাল জার্নালিস্ট ফোরাম, বাংলাদেশ (সিজেএফবি)। পরবর্তীতে এই সংগঠনটি হয়ে ওঠে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী বিনোদন সাংবাদিক সংগঠন। আসিফের মতে, সীমান্ত খোকনের নেতৃত্বগুণ এবং দূরদৃষ্টি সিজেএফবির সাফল্যে বড় ভূমিকা পালন করেছে। সেই সময়ে বিনোদন সাংবাদিকদের জন্য সিজেএফবি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়ায়, যেখানে তরুণ সাংবাদিকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন।
সীমান্ত খোকন তার ক্যারিয়ারে আরও অগ্রসর হন এবং পরবর্তীতে এনটিভিতে যোগ দেন। ধীরে ধীরে তিনি এনটিভির বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার পেশাদারিত্ব এবং নেতৃত্বের জন্য সহকর্মীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও, ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন দক্ষ নেতা এবং ভালো বন্ধু ছিলেন। আসিফ আকবর তার পোস্টে আরও জানান, বছর দুয়েক আগে তিনি সীমান্তর জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের তারাইলে একসাথে গিয়েছিলেন। সেই ভ্রমণ এবং সীমান্তর সাথে কাটানো সময় আজও তার স্মৃতিতে গেঁথে রয়েছে। আসিফ লিখেছেন, "সীমান্তর ডায়নামিক নেতৃত্ব, তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সবকিছুই আমার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান স্মৃতি হয়ে থাকবে।"
আসিফ আকবরের পোস্টের শেষ অংশে তিনি সীমান্ত খোকনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, "দুপুরে শুনলাম সীমান্ত খোকন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে সীমান্তর সহযোগিতা এবং বন্ধুত্ব কোনোদিন ভুলতে পারব না। তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং তার পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ধৈর্য প্রার্থনা করি।"
সীমান্ত খোকনের মৃত্যু দেশের সাংবাদিক মহল এবং বিনোদন অঙ্গনের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তার মত একজন প্রভাবশালী সাংবাদিক এবং বন্ধু হারানো শুধুমাত্র সাংবাদিকতার জগতে নয়, তার ব্যক্তিগত জীবনের ঘনিষ্ঠ মানুষদের জন্যও এক বিশাল শূন্যতা।