

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:জীর্ণ শরীর নিয়ে পড়ে আছেন বিছানায়। দুইবার স্ট্রোক করার পর হারিয়ে ফেলেছেন স্মৃতি ও বাকশক্তি। ডান হাটু থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত ব্যান্ডেজ করা। রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পায়ে পঁচন ধরে খসে খসে পড়ছে মাংস। ভেতরে দুঃসহ যন্ত্রণা কিন্তু প্রকাশ করতে পারেন না কিছুই। নির্বাক দৃষ্টিতে শুধু চেয়ে থাকেন এদিক ওদিক।
পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে উন্নত চিকিৎসার অভাবে এভাবেই প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সয়াধানগড়া মহল্লার ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী আমেনা খাতুন। বর্তমানে ছোট ছেলে সুমন আহমেদের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন এই বৃদ্ধা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার পায়ের এই অবস্থা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নেয়া দরকার। তবে নুন আনতে পান্তা ফুরোয় অবস্থা আমেনার পরিবারের। তাই নিরুপায় হয়ে মাকে বাঁচানোর আকুতি নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তার সন্তানরা, চাচ্ছেন সাহায্য।
বৃদ্ধা আমিনার স্বামী মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। দুই ছেলে ও এক মেয়ের সংসারেও অভাব অনটন লেগেই রয়েছে। তার বড় ছেলে কনস্ট্রাকশন সাইটে কাজ করে কোনোরকমে নিজের সংসার চালান। ছোট ছেলে করেন রং-তুলির কাজ। তারা চেষ্টা করছেন মাকে বাঁচিয়ে রাখতে।
বৃদ্ধার ছোট ছেলে মো. সুমন আহমেদ বলেন, ২০২১ সালের জুন মাসে মা প্রথমবার স্ট্রোক করেন। পরবর্তীতে নভেম্বরে আবারও স্ট্রোক করেন। ২০২২ এর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে তার পায়ের রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় মাসখানেক সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছি। কিন্তু তেমন কোনো লাভ হয়নি। ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
তিনি আরো বলেন, এখন পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ থেকে মাংস পচে খুলে খুলে পড়ছে। মাংস খুলে পড়ে পায়ের পাতা বের হয়ে গেছে। এখন যেকোনো মুহূর্তে পায়ের পাতাও আলাদা হয়ে যাবে। প্রতিদিন পায়ের ড্রেসিং করাতে হয়। প্রথমে নার্স দিয়ে ড্রেসিং করাতাম। কিন্তু পায়ের পচা মাংসের গন্ধে কেউ আসতে চায় না। আবার কেউ আসতে চাইলেও অনেক বেশি টাকা চায়। তাই টাকার অভাবে সেটাও করতে পারছি না। এখন নিজেই পরিষ্কার করি। চিকিৎসক বলেছেন, এখন পা কেটে ফেলতে হবে। না হলে মাকে আর বাঁচানো যাবে না। কিন্তু সেটা করতে গেলেও লাখ টাকা দরকার।
মাকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে সুমন বলেন, টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছি না মর্মে আর্থিক অনুদান চেয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করেছি। সেখানেও সময় লাগবে। তাই আমার মাকে বাঁচাতে সমাজের উচ্চবিত্তদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। তারা যদি আমার মাকে বাঁচাতে একটু এগিয়ে আসেন তাহলে আমরা চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।
সিরাজগঞ্জ সমাজসেবা অধিদফতরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. মতিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব তাদের সহায়তার চেষ্টা করব। এছাড়া চেষ্টা করব আমার অধিদফতরের বাইরেও কোনোভাবে তাকে সহযোগিতা করা যায় কি না।



