স্বাস্থ্য


বাজারের ১০ শতাংশ খাদ্যের মান ঠিক নেই ; স্বাস্থ্য বিভাগ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার

বাজারের ১০ শতাংশ খাদ্যের মান ঠিক নেই ; স্বাস্থ্য বিভাগ

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মানসম্ম্ত খাদ্য একটি অতি গুরুত্বর্পূণ বিষয় । আর সেই খাদ্যই যদি নিরাপদ ও মান সম্মত না হয় তাহলে আমাদের জীবন হুমকির মুখে পতিত হয়। বাজার থেকে কেনা খাদ্যের গুণগত মান নিয়ে মানুষের মনে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। স্বাস্থ্য বিভাগের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নমুনা পরীক্ষায় পাওয়া তথ্য বলছে, বাজারের ১০ শতাংশ খাদ্যের মান ঠিক নেই।

 

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের জেলা ও উপজেলা থেকে ৫৬ ধরনের খাদ্যের ১ হাজার ১৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষাগারে। এতে দেখা যায়, খাদ্যের ১ হাজার ১৯টি নমুনা মানসম্পন্ন। ১১৪টি নমুনা মানসম্পন্ন নয়। অর্থাৎ ১০ শতাংশ খাদ্যের মান ঠিক না থাকলেও মানুষ তা বাজার থেকে কিনে খাচ্ছে।

 

জনস্বাস্থ্যবিদেরা মানহীন খাদ্যকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘মানহীন খাদ্যের কারণে মানুষ অপুষ্টিতে ভোগার ঝুঁকি থাকে এবং নানা ধরনের রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

 

দেশে খাদ্যের মান নির্ধারণ করে দুটি প্রতিষ্ঠান। একটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট। অন্যটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। কোন খাদ্যে কী কী উপাদান কী পরিমাণে থাকতে হবে, তা তারা নির্ধারণ করে দেয়। আবার কোন খাদ্যে কোন উপাদান বেশি থাকলে খাদ্য অনিরাপদ হয়ে পড়ে, তারও মাপকাঠি আছে। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলেছেন, খাদ্যে নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপাদানগুলো আছে কি না, তাঁরা সেটি পরীক্ষা করেছেন।


দেশের সব জেলা ও সব উপজেলা থেকে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর সারা বছর বাজার থেকে পানি ও খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠান জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ৮৫ ধরনের খাদ্যের মান পরীক্ষা করে। গত বছর তাদের কাছে ৫৬টি খাদ্যের ১ হাজার ৫১১টি নমুনা জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ৩৭৭টি নমুনা পরীক্ষার অনুপযোগী ছিল। পরীক্ষার করা হয় ১ হাজার ১৩৩টি নমুনা।


১২ মাসে তরল দুধের সাতটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে চারটি নমুনা মানসম্পন্ন ছিল না। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বলেছে, ৫৭ শতাংশ তরল দুধ মানসম্পন্ন নয়। ঘিয়ের চারটি নমুনা পরীক্ষা করে বলছে, অর্ধেক মানহীন। মধুর পাঁচটি নমুনার দুটি বা ৪০ শতাংশ মানসম্পন্ন ছিল না। সয়াবিন তেলের ৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, চারটি নমুনা বা ১১ শতাংশ মানসম্পন্ন না।


তরল নয়, এমন খাদ্যের মধ্যে মান বেশি খারাপ চমচম, কালোজাম ও রসগোল্লার। এসব মিষ্টিজাতীয় খাবারের ১৩টি নমুনা পরীক্ষাগারে এসেছিল। ১১টি পরীক্ষার উপযুক্ত ছিল না। পরীক্ষা হয়েছিল দুটি নমুনার। এর মধ্যে একটি নমুনা মানসম্পন্ন ছিল।


সবচেয়ে বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে লবণের। ২৯০টি নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, ২৪৬টি নমুনার মান ঠিক আছে। অর্থাৎ ৪৪টি বা ১৫ শতাংশ নমুনার মান ঠিক নেই। হলুদের গুঁড়ার ১২৭টি নমুনার মধ্যে ২৯টির বা ২৩ শতাংশের মান ঠিক পাওয়া যায়নি। মরিচের গুঁড়ার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০টি বা ১৩ শতাংশ মানসম্পন্ন নয় বলে জানা যায়। বেসনের ১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাতে দেখা যায়, তিনটি মানসম্পন্ন নয়।


জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বলছে, কিছু খাদ্যের মান ঠিক নেই। এ পরিস্থিতিতে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও মান তদারকির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।


জনপ্রিয়


স্বাস্থ্য থেকে আরও পড়ুন

কিডনি রোগের আগাম লক্ষণ

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনকে অনেকেই সাধারণ শারীরিক সমস্যা হিসেবে দেখেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, এটি কখনও কখনও শরীরে নীরবে বাসা বাঁধা কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হতে পারে। কারণ কিডনির রোগ প্রাথমিক অবস্থায় তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ তৈরি না করেই ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে জটিলতা সৃষ্টি করে।

প্রথমবার দেহ থেকে সম্পূর্ণভাবে এইডস অপসরণ করল নোবেলজয়ী আবিষ্কার

জীবাণুমুক্তকরণ ও জিন প্রযুক্তির যুগান্তকারী অগ্রগতি ‘ক্রিসপার-ক্যাস৯’ (CRISPR/Cas9) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানবদেহ থেকে এইচআইভি (HIV) ভাইরাস নির্মূলের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। সাম্প্রতিক এই গবেষণা বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য হিসেবে পরিচিত এইচআইভি সংক্রমণের বিরুদ্ধে এটি ভবিষ্যতে কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ঢামেকে অসুস্থ রোগীকে দেখতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসার খোঁজখবর নিলেন নিজে

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গৃহপরিচারিকা ফাতেমা বেগমের অসুস্থ ভাতিজি সীমা (৩২)-কে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।'

২৪ ঘণ্টায় ১০ মৃত্যু, হামে আক্রান্ত ১৪২৮ শিশু—ঢাকায় সর্বোচ্চ ঝুঁকি

দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যুসহ ১,৪২৮ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।