আন্তর্জাতিক


রুশ আক্রমণ এড়াতে ন্যাটো সদস্যপদ চায় ফিনল্যান্ড


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ মে ২০২২, ০৬:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

রুশ আক্রমণ এড়াতে ন্যাটো সদস্যপদ চায় ফিনল্যান্ড

হাসান শাহরিয়ার:


ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ফিনল্যান্ডকে অবশ্যই ন্যাটোর (NATO) সদস্যপদ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী।


ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্টো এবং প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন একটি যৌথ বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান। তারা বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করার জন্য যেসকল পদক্ষেপ প্রয়োজন তা আশা করি যে দ্রুত আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নেওয়া হবে।’


ন্যাটো সদস্যপদ পেলে ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে আশা করছেন তারা।


তারা আরও বলেন, ন্যাটোর সদস্য হলে ফিনল্যান্ড সমগ্র প্রতিরক্ষা জোটকে আরও শক্তিশালী করবে। ফিনল্যান্ডের ন্যাটো সদস্যপদের জন্য আবেদন করা অত্যন্ত জরুরী।


ফিনল্যান্ড ও রাশিয়ার মাঝে ৮১০-মাইল (১৩০০ কিমি) সীমান্ত রেখা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে যোগদান দেয়া নিয়ে মস্কোর উস্কানিকে অনেকটা অপ্রয়োজনীয় হিসাবে দেখে আসছেন তারা। তবে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর, তাদের সেই চিন্তাধারায় এসেছে পরিবর্তন।


ইউক্রেন হামলার পর ন্যাটো সদস্যতার জন্য জনসমর্থন বেড়েছে তিনগুণ। ফিনল্যান্ডের পাবলিক ব্রডকাস্টার Yule-এর সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে ৭৬% ফিনরা ন্যাটোতে যোগ দেয়াকে সমর্থন করছে যা আগে ছিল প্রায় ২৫%, যদিও এখনো ১২% জনগণ এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ।


আগামী ১৫মে রোববার দেশটির রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সিনিয়র মন্ত্রীরা দেশের সদস্যপদ আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী সপ্তাহের শুরুতে বিলটি অনুমোদনের জন্য সংসদে উপস্থাপন করা হবে।


ধারণা করা হচ্ছে ফিনল্যান্ডের প্রতিবেশী সুইডেনও সম্ভবত তাদের সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করবে । সুইডেনের বর্তমান সরকার (সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট) ১৫মে রবিবার তাদের ন্যাটো সদস্যপদের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন।  যদিও তারা বহুযুগ যাবত ন্যাটোতে যোগ দেয়া নিয়ে বিরোধিতা করে আসছে ।


সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অ্যান লিন্ডে নিনিস্টো এবং মেরিনের বিবৃতিকে "গুরুত্বপূর্ণ বার্তা" বলে উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন যে ফিনল্যান্ড সুইডেনের নিকটতম নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সঙ্গী এবং তাদের এই সিদ্ধান্তকে অবশ্যই আমাদের বিবেচনা করা উচিত।


ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ গত মাসে বলেছিলেন যে ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনকে "বিনা দ্বিধায়" সংগঠনে স্বাগত জানানো হবে । উভয়কে "বেশ দ্রুত" যোগদানের অনুমতি দেওয়া উচিত বলেও জানান তিনি । যদিও জোটের সমস্ত সদস্যদের আনুষ্ঠানিক সমর্থনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে হবে যা সম্পূর্ণ হতে লাগতে পারে কয়েক মাস।


রাশিয়া বারবার ফিনল্যান্ড এবং সুইডেনকে ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে সতর্ক করে আসছে । রাশিয়া এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হলে তাদের উপর গুরুতর সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ পড়বে বলে হুঁশিয়ার করেছে। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র স্থাপন ও বাল্টিক সাগর অঞ্চলে তাদের "সামরিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার" করতে বাধ্য করার কথাও বলা হয়েছে।


প্রাক্তন রাশিয়ান রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ১২মে বৃহস্পতিবার বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার সাথে প্রক্সি যুদ্ধ করার কারণে "ন্যাটো এবং রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি এবং প্রকাশ্য সংঘর্ষের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে ।


পশ্চিমা বিশ্বের দেশ গুলোকে "নিজেকে এবং অন্যদের সাথে মিথ্যা" না বলার আহ্বান জানিয়ে মেদভেদেভ বলেন, যে এ ধরনের পদক্ষেপ একটি পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে যা সবার জন্য বিপদজনক ।


নরডিক অঞ্চলের অন্যান্য সরকার ফিনল্যান্ডের এ বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ফিনল্যান্ড যদি সদস্যপদ পায় তাহলে ন্যাটো এবং আমাদের সাধারণ নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।


তিনি আরও বলেন, ফিনল্যান্ডকে সদস্য বানানোর জন্য তারা পুরোপুরি সমর্থন করবেন।


ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেক্কা হাভিস্তো ১২ মে বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বলেছেন যে ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদান বাল্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তাকে টেকসই করবে। নরওয়ে, ডেনমার্ক এবং তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ন্যাটো সদস্য এবং ফিনল্যান্ডের যোগ "বাড়তি মূল্য আনবে", তিনি বলেছিলেন।


ফিনল্যান্ড এক শতাব্দীরও বেশি রুশ শাসনের পর ১৯১৭ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। অপরদিকে সুইডেন ২০০ বছর ধরে কোন যুদ্ধ করেনি।


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।