আন্তর্জাতিক


‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক


দূরবিন ডেস্ক

দূরবিন ডেস্ক

প্রকাশিত:১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত


নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পৃষ্ঠার নতুন দণ্ডবিধিতে স্বাক্ষর করেছেন। পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি নিয়মাবলী) শিরোনামের এ আইন ইতোমধ্যে দেশটির বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে।

 

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো স্বামী যদি ‘অতিরিক্ত মাত্রার শক্তি’ প্রয়োগ করে স্ত্রীর দৃশ্যমান জখম বা হাড় ভেঙে ফেলেন, তবে তার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্যাতনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণের দায়িত্ব ভুক্তভোগী স্ত্রীর ওপরই বর্তাবে।

 

এছাড়া নির্যাতিত নারীকে পুরোপুরি হিজাব পরিহিত অবস্থায় আদালতে জখম প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তার সঙ্গে স্বামী বা প্রাপ্তবয়স্ক কোনো পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

 

নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারী স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে গেলে তার সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নতুন দণ্ডবিধিতে আফগান সমাজকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে উলামা (ধর্মীয় বিদ্বান), আশরাফ (অভিজাত), মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত। সমালোচকদের দাবি, এই শ্রেণিভিত্তিক কাঠামোর ফলে একই অপরাধের শাস্তি সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।

 

নতুন আইন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ ধরনের বিধান নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং পারিবারিক সহিংসতার ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

 
 

সম্পর্কিত

আন্তর্জাতিকআফগানিস্তানস্ত্রীআইন

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।