আন্তর্জাতিক


গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা


নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

 

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেও শান্তি পর্ষদকে ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার সহায়তা দেবে। তবে এই অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

 

কোন দেশ কতটা এগোচ্ছে

গাজা পুনর্গঠনের প্রাথমিক তহবিলে অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তানকুয়েত

 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা পুনর্গঠনে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে—সেই তুলনায় ঘোষিত তহবিল অপ্রতুল।

আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী

ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এ বাহিনীতে সেনা পাঠাতে সম্মতি দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভোআলবেনিয়া। আর পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে মিসরজর্ডান

 

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, শান্তি প্রক্রিয়া কার্যকর করতে তাঁর দেশ সর্বোচ্চ আট হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।

 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে ও একজন ইন্দোনেশীয় ডেপুটি জেনারেলের অধীনে বাহিনীটি কাজ করবে। রাফাহ থেকে কার্যক্রম শুরু করে তারা নতুন পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য—১২ হাজার পুলিশ ও ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করা।

হামাসের অবস্থান

গাজা-ভিত্তিক সংগঠন হামাস–এর মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক বাহিনীকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসন ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি প্রতিশ্রুতি না দিলেও আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি।

অংশগ্রহণ ও সমালোচনা

৪০টির বেশি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। তবে জার্মানি, ইতালি, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ডযুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ পূর্ণাঙ্গ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়নি; তারা পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।

 

ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করে ইসরায়েলি প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করায় পর্ষদটি সমালোচনার মুখে পড়েছে।

 

গাজা থেকে আল-জাজিরা–এর সংবাদদাতা হানি মাহমুদ বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে—পুনর্গঠন সম্মেলনে বড় অঙ্কের প্রতিশ্রুতি এলেও বাস্তবায়নে বিলম্ব বা জটিলতা দেখা যায়। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনিরা এবার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান দেখতে চান।

প্রেক্ষাপট

গত সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রথম এ শান্তি পর্ষদ গঠনের প্রস্তাব দেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর তিনি পর্ষদের কার্যপরিধি বিশ্বব্যাপী অন্যান্য সংঘাতেও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 

গাজার ভবিষ্যৎ, পুনর্গঠন তহবিলের বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত বাহিনীর কার্যকারিতা—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।


সম্পর্কিত

গাজাডোনাল্ড ট্রাম্প

জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।