আন্তর্জাতিক


পিকে হালদারকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ মে ২০২২, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার

পিকে হালদারকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারের (পিকে হালদার) তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন দেশটির আদালত। প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।


শনিবার (১৪ মে) বিকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত পি কে হালদারের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে সকালে ওই প্রদেশের অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অর্থ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট (ইডি)। তারপর তাকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করে সংস্থাটি। পরে আদালত আগামী ১৭ মে পর্যন্ত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


ভারতীয় গণমাধ্যম দৈনিক সংবাদ প্রতিদিনের খবরে বলা হয়, পি কে হালদারের সঙ্গে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। তাদের মধ্যে এক নারীও রয়েছে। তাকে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি চারজনকেও তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।


পি কে হালদারের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তার স্ত্রী ও ভাই রয়েছেন বলে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।


শিবশংকর হালদার নামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অশোক নগরের একটি বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন পিকে হালদার। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণের সম্পত্তি ও অর্থের নথি জব্দ করেছে ইডি।


এর আগে শুক্রবার (১৩ মে) ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ২৪ পরগনায় পি কে হালদারের বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পায় ইডি। পি কে হালদারের সহযোগী সুকুমার মৃধার অফিসে তল্লাশি চালিয়ে এসব অর্থের সন্ধান পাওয়া যায়।


পিকে হালদারের ব্যক্তিগত আইনজীবী হিসেবে পরিচিত সুকুমার মৃধা বর্তমানে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার মাছের ব্যবসা আছে। পিকে হালদার যখন বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করে বিদেশে পালিয়ে যায় তখন তার সহযোগীও পালিয়ে ভারত চলে আসে।


ইডির অভিযোগ, সুকুমার মৃধা মাছের ব্যবসার আড়ালে বেআইনিভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন করেন। বাংলাদেশের প্রভাবশালী মহলের অর্থ পাচারের মাধ্যমে তার এই ব্যবসায় লাগানো হত। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতিরও অভিযোগ রয়েছে।


এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনায় সুকুমারের বাড়ি ও অফিসসহ ১০টি স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অর্থ বিদেশে পলাতক পিকে হালদারের বলে ধারণা করছে ভারতের এই গোয়েন্দা বাহিনী। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা ভারতের আর কেউ জড়িত কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখছে ইডি।


পিকে হালদার এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে পাচার করেন। এই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়। তবে তার আগেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যান। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল) রেড অ্যালার্টও জারি করে। 


জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।