আন্তর্জাতিক


মহাকাশ স্টেশন নির্মান কাজ শেষ করার দ্বারপ্রান্তে চীন!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৬ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার

মহাকাশ স্টেশন নির্মান কাজ শেষ করার দ্বারপ্রান্তে চীন!

গত ২৪ই জুলাই নির্মাণাধীন ‘তিয়ানগং’ স্পেস স্টেশনের দ্বিতীয় মডিউল ‘ওয়েনতিয়ান’ মহাকাশে পাঠিয়েছে চীইতিমধ্যেই সেটি পৌছে গিয়েছে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। প্রায় ১৮ মিটার লম্বা মডিউলটির ওজন ২৩ টন। এটি ছিলো তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণ। প্রথমবারের মতো চীন এমন বড় ধরনের মডিউলকে মহাকাশে যুক্ত করতে সফল হয়েছে। এটি ছিল খুবই সূক্ষ্ম কার্যক্রম।


‘লং মার্চ ৫বি’ রকেটে চড়ে হাইয়ান প্রদেশের ‘ওয়েনচেং স্পেস লঞ্চ সাইট’ থেকে যাত্রা শুরুর ১৩ ঘণ্টা পর নির্মাণাধীন তিয়ানগংয়ে পৌঁছেছে সেএর মাধ্যমে মহাকাশ গবেষনায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেছে চীন। আর মাত্র একটি মডিউল সফল ভাবে স্থাপন করতে পারলেই পূর্নাঙ্গ রুপ পাবে তাদের নিজস্ব স্পেস স্টেশন।২য় ধাপে পাঠানো ওয়েনটিয়ান মূলত গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হবে। এর দৈর্ঘ্য  সতেরো দশমিক ৯ মিটার। 


এতে বসে বিজ্ঞানীরা তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবেন। মডিউলটির সঙ্গে এমন গবেষনা সরঞ্জামও রয়েছে, যেগুলো এখন পর্যন্ত মহাকাশে পাঠানো হয়নি। দ্বিতীয় মডিউলটি যোগ হওয়ার পর আরো তিন জনের ঘুমানোর জায়গা যোগ হলো চীনের নির্মাণাধীন স্পেস স্টেশনটিতে। এ ছাড়াও যোগ হলো একটি বাড়তি এয়ারলক।


এয়ারলক বলতে ভিন্ন ভিন্ন বায়ুচাপের দুটি এলাকার মধ্যে অবস্থিত কক্ষকে বোঝায়। যেখান থেকে নভোচারীরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পাস্টেশনের বাইরে গবেষণা করার ক্ষেত্রে প্রবেশ ও বহিগর্মনের পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে এটি। 

এছাড়াও রুটিনমাফিক কাজ করতে গিয়ে ক্রুরা ক্লান্ত হয়ে গেলে এখানে বসে বিশ্রাম নিতে পারেনচীন ২০২১ সালের এপ্রিলে তিন মডিউলের মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু করে। ওই সময় প্রথম মডিউল তিয়ানহে পাঠানো হয়এটি ছিল মহাকাশে যাওয়া প্রথম ১১ জন ক্রুর আবাসস্থল। এরপর বেশ কয়েক ধাপে নভোচারীরা স্টেশনে নিয়ে নানরকম গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।সর্বশেষ যে তিনজন নভোচারী শেনঝু -১৪ নভোযানে করে মহাকাশে গিয়েছেন তারা  ৬ মাস নির্মাণ কাজে ব্যস্ত থাকবেন। ফিরবেন আগামী ডিসেম্বরে।

আরেকটি মডিউল পাঠালেই নিজেদের নতুন মহাকাশ কেন্দ্র নির্মাণ শেষ করতে পারবে চীন। যা পাঠানো হবে আগামী অক্টোবরে। 


সর্বশেষ সেই মডিউলটির নাম দেয়া হয়েছে মিংটিয়ান। এটি যুক্ত হওয়ার পর স্পেস স্টেশন ইংরেজী বর্ন টি-আকারের একটি কাঠামোতে রূপ নেবতবে এরই মধ্যে লং মার্চ ফাইভ-বি রকেট নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। মহাকাশে পাঠানো বেশির ভাগ রকেটের নিচের অংশ সাগরের পানিতে আছড়ে পড়ে।তবে এক্ষেত্রে চীনা রকেটটি কিছুটা ব্যাতিক্রম। আকারে তুলনামূলক বড় রকেটটির পতনের সময় দিক নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। 


ফলে সেটি কোথায় পতিত হবে তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে একাধিকবার আছড়ে পড়ার রেকর্ডও আছে এর দখলকোর মডিউল ‘তিয়ানহে’-কে কক্ষপথে ছুড়ে দেওয়ার পর রকেটটির নিচের অংশ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভারত সাগরে আছড়ে পড়েছিল।ধারণা করা হয়, আইভেরিকোস্টে ২০২০ সালে যেসব ধাতব বস্তু খুজে পাওয়া গিয়েছিল, সেগুলো লং মার্চ ৫বি রকেট থেকেই এসেছিল।


এখন কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করতে থাকা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন তৈরি হয়েছিল রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপ এবং জাপানের সমন্বিত উদ্যোগে।


তবে চীনকে সেই কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করতে দেয়নি আমেরিকা। তাই নিজেদের মহাকাশ স্টেশন নিজেরাই স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে তারা।

বর্তমানে মহাকাশে থাকা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনটির আয়ু আছে আর মাত্র কয়েক বছর। এরপর ২০৩১ সালের মধ্যে ধ্বংস করে ফেলা হবে সেটিকে।তখন চীনই হবে মহাকাশ স্টেশনের একমাত্র মালিক। তবে তারা জানিয়েছে, নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত হলেও গবেষণার কাজে যে কোন দেশ সেটি ব্যবহার করতে পারবে।




















ে। 




ে।



 





রেন।






টি।




ন। 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।