

নাটকীয় ভাবে কমছে জাপানের জন্মহার। দেশটিতে জন্মহার ঠেকেছে তলানিতে। এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছে জাপান সরকার। শিশু কল্যাণ দপ্তরে দায়িত্বরত মন্ত্রী নিজের পেটকে 'গর্ভাবস্থার পেট' বানানোর চেষ্টা করছেন। মন্ত্রীর এমন কর্মকাণ্ড দেখে হতবাক জাপান সহ সারাবিশ্ব।গর্ভাবস্থার অনুভূতি বোঝার জন্য মাসানোবু ওগুরা নামের ঐ মন্ত্রী শরীরে ৭.৩ কিলোগ্রাম ওজনের একটি বিশেষ বেবি বাম্প স্থাপন করেছেন।এখন বেবি বাম্প নিয়ে নিত্যদিনের কাজ করছেন তিনি। তার সঙ্গে একই পদক্ষেপ নিয়েছেন আরও দুই মন্ত্রী। বেবি বাম্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ওজন নিয়ে হাঁটতে গিয়ে পিঠে ব্যথা করে। আমিও বুঝতে পারি এভাবে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করা কতটা কষ্টকর।'প্রেগন্যান্সি বেলি' নামের এই প্রকল্পটি বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে। তার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, 'পুরানো ধ্যান ধারণার কারণে জাপানের সমাজে অনেক কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে। কিন্তু এসব বিষয়কে কোন পাত্তা দেই না।৪১ বছর বয়সী মন্ত্রী নিজেও নিঃসন্তান। একজন মন্ত্রী হিসেবে তিনি গভীরভাবে বুঝতে চান কেন জাপানিরা সন্তান ধারণ করছে না। তবে কম জন্মহারের কারণ খুঁজে বের করতে এবং গর্ভাবস্থায় মায়েদের সমস্যাগুলো বোঝার জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।জাপানের ক্ষমতাসীন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুব সংগঠন তাকে এই পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করে। এর আগে জাপানে শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন একজন সিনিয়র নারী মন্ত্রী। সেকো নোদা নামের সাবেক ঐ মন্ত্রী একজনের মা। ঠিকমতো কাজ করতে না পারায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।তার পরিবর্তে পুরুষ মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মাসানোবু আগুরাকে। তিনি সমস্যাটি গভীরভাবে বুঝতে চেষ্টা করছেন। ৪১ বছর বয়সী মাসানোবু ওগুরা গেলো বুধবার দায়িত্ব নিয়েছেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যাংক অব জাপানে কাজ করতেন। গত মাসে তিনি এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেছিলেন, জন্মহার হ্রাসের জন্য পুরুষ শাসিত বিশ্ব উদাসীনতা এবং অজ্ঞতা দায়ী।বিশ্ব বোঝে না যে কম জন্মহার অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাচ্ছে।তবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, ওগুরার গর্ভবতী নারীর মতো পেট তৈরির ধারণা নতুন নয়। এর আগেও তিনি এমন চিন্তা করেছিলেন। এই মন্ত্রী বিবাহিত হলেও তার সন্তান নেই। গত বছরের এপ্রিলে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুবকদের দ্বারা আয়োজিত একটি প্রকল্পে, তিনি গর্ভবতী পেট বানানোর চেষ্টাও করেছিলেন।ওগুরার সিদ্ধান্তে জাপানীরা বেশ খুশি। গর্ভবতী মহিলাদের সমস্যা বোঝার জন্য তিনি যে 'গর্ভবতী পেট' তৈরি করার চেষ্টা করতে পারেন তা তারা ভাবতেও পারেননি।জাপানে ২০২১ সালে রেকর্ড পরিমাণে জন্মহার কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে দেশটি। গেল বছর জাপানে মোট ৮ লাখ ১১ হাজার ৬০৪ শিশু জন্ম নিয়েছে। বিপরীতে মারা গেছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৯ জন। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জাপানেই বেশি। সেই হিসেবে দেশটিতে প্রজন্মগত ব্যবধান বাড়ছে। টানা ছয় বছর ধরে জাপানি নারীদের উর্বরতার হার কমেছে ১.৩ শতাংশ। গত বছর জাপানে বিয়ের হারও কমেছে।



