আন্তর্জাতিক


ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার বন্দরে ভিড়ছে বিতর্কিত চীনা জাহাজ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৫ আগস্ট ২০২২, ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার

ভারতের আপত্তি সত্ত্বেও শ্রীলঙ্কার বন্দরে ভিড়ছে বিতর্কিত চীনা জাহাজ

ভারতের কড়া আপত্তির মুখেও শ্রীলঙ্কায় প্রবেশাধিকার পেলো চীনা সামরিক জাহাজ। আগামী মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা সমুদ্রবন্দরে নোঙ্গর করবে ইউয়ান ওয়াং ৫।

এর আগে গেল ১১ই আগস্ট শ্রীলংকায় পৌছানোর কথা ছিল জাহাজটির। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগের জেরে জাহাজটির প্রবেশাধিকার স্থগিত করেছিল লংকান সরকার।

তবে শনিবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেশটি। মুলত উপগ্রহের উপর নজরদারিতে ব্যবহার হয় চীনা সামরিক বাহীনি নিয়ন্ত্রনাধীন এই জাহাজটি।

এবারের যাত্রায় জাহাজটি জিয়াং ইয়াং বন্দর ছেড়ে দক্ষিন চীন সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। পথে কলম্বোয় কিছুদিন অবস্থানের অনুমতি চায় তারা।

গত ১২ই জুলাই প্রথম অনুমতি পত্রের আবেদন করে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট। ঠিক কি কারনে কলম্বো আসতে চায় জানা না গেলে ও ১১ই আগষ্ট শ্রীলংকা প্রবেশে অনুমতি পায় ইউয়ান ওয়াং ৫।

অনুমতি লাভের খবরটি প্রকাশ্যে আসলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর উপর নজরদারি করতেই কলম্বো আসছে জাহাজটি।

গত শুক্রবার ইউয়ান ওয়াং ৫ হাম্বানটোটা বন্দরে ১০০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রবেশ করলে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয় জাহাজটিকে ঘিরে।

ভারত মহাসাগরে গুরুত্বপুর্ন এই অঞ্ছলে চীনের সামরিক যানের প্রবেশে সংশয় প্রকাশ করে ভারত। যেটি জানানো হয় লিখিত ভাবে।

তারই প্রেক্ষিতে শ্রীলংকান পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জাহাজটির উপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করে। এই আদেশে সম্মান প্রদর্শন করে চীন। নতুন করে প্রবেশের আবেদন করে জাহাজটি।

নতুন আবেদনেও আপত্তি জানায় ভারত। তবে আপত্তি সত্ত্বেও শনিবার শ্রীলংকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় জাহাজটির প্রবেশাধিকার নবায়ন করে।

নতুন করে অনুমতি পেলেও এখনই শ্রীলংকা প্রবেশ করতে পারছে না জাহাজটি। অপেক্ষা করতে হবে ১৬ ই আগষ্ট পর্যন্ত। 

জাহাজটিকে হাম্বানটোটা গভীর সমুদ্রবন্দরে ১৬ থেকে ২২ আগষ্ট পর্যন্ত ৬ দিন অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে লংকান সরকার।

কতৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী মঙ্গলবারই জাহাজটি প্রবেশ করবে হাম্বানটোটা। প্রায় দুই বছরের অধিক সময় ধরে হাম্বানটোটা বন্দর নিয়ন্ত্রন করছে চীন।

এর আগে ১৯৮৭ সালে দিল্লি-কলম্বো সাক্ষরিত এক চুক্তি অনুযায়ী, শ্রীলংকার কোন বন্দর ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না বিদেশি কোন সামরিক বাহীনিকে। 

চীনা সামরিক জাহাজকে শ্রীলংকার বন্দরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়াকে স্পষ্টতই চুক্তির লঙ্গন বলে মনে করছে ভারত।

আনুষ্টানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও ভারতীয় গনমাধ্যমে বলা হচ্ছে ভারত বন্ধ করে দিতে পারে শ্রীলংকায় সহয়তা পাঠানো। 

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত গুরুত্বপুর্ন দ্বীপ রাষ্ট্র শ্রীলংকা। দীর্ঘদিন ধরেই তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করছে ভারত ও চীন দুই দেশ। 

তারই অংশ হিসেবে চলমান জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তবে তারা বলছেন শ্রীলংকার এমন সিদ্ধান্ত ভারতের কূটনৈতিক পরাজয়।

শ্রীলংকার চলমান সংকট নিরসনে তাদেরকে সহয়তা করছে ভারত ও চীন উভয় দেশ। নিজেদের প্রভাব বলয়ের মধ্যে চীনকে অন্যতম প্রতিপক্ষ মনে করে থাকে ভারত।

উল্লেখ্য, গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ আসা ইউয়ান ওয়াং ৫ নির্মান করা হয় ২০০৭ সালে। নির্মানের পর হতেই চীনা সামরিক বাহীনির অধীনে গবেষনার কাজে নিয়োজিত রয়েছে জাহাজটি।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।