আন্তর্জাতিক


আমেরিকান সেংশন কেন এত ভয়াবহ?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ আগস্ট ২০২২, ০১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

আমেরিকান সেংশন কেন এত ভয়াবহ?

পৃথিবীর প্রতিটি স্বাধীন দেশের সেংশন প্রদানের ক্ষমতা থাকলেও শুধু মাত্র আমেরিকার কাছ থেকেই সবথেকে বড় এবং ভয়াবহ সেংশন গুলো আসে।

ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার কারণে থেমে যেতে পারে একটি দেশের অর্থনীতির চাকা। এর মূল কারণ হলো আমেরিকার বন্ধু রাষ্ট্র এবং          দূরদর্শী কূটনৈতিক ক্ষমতা। 

ইউরোপিয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো বৃহৎ অর্থনীতি এবং সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী দেশ গুলোর সাথে আমেরিকার সখ্যতা বেশ পুরানো। 

এছাড়া, জাতিসংঘের উপরেও ওয়াশিংটনের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। তারা যখন কোনো দেশ কিংবা প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন মিত্র রাষ্ট্র গুলোও সেই দেশটিকে বর্জন করতে বাধ্য হয়।

তাই, বলা চলে সেংশন আরোপিত দেশটির জন্য পুরো পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকই নিষিদ্ধ হয়ে যায় ।

মূলত আট প্রকারের হলেও তিন ধরনের সেংশন সবথেকে বেশি বিপদজনক। সেগুলো হচ্ছে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং সামরিক সেংশন ।

অর্থনৈতিক সেংশনের ফলে একটি দেশের উপর ভয়াবহ বানিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক ধস নেমে আসতে পারে ।

আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির উতপাদিত পণ্য বেচাকেনা এবং তাদের ব্যাংকিং ব্যাবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যেতে পারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে।

আবার, কূটনৈতিক সেংশন আরোপের ফলে একটি দেশের সাথে অন্যান্য দেশের যোগযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

সামরিক সেংশনের ফলে কোনো দেশ নতুন করে কারো কাছ থেকে অস্ত্র কিংবা সরঞ্জাম কিনতে বা বিক্রি করতে পারবে না। 

এই সকল নিষেধাজ্ঞার ফলে রাতারাতি একটি দেশে দেখা দিতে পারে অর্থনৈতিক মন্দা।  ফলে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি হয়। সেই সাথে অভ্যন্তরীন বাজারে জিনিস পত্রের দাম বাড়তে থাকে।

তাই, সেংশন আরোপের ফলে নিন্ম ও মধ্য আয়ের দেশ গুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

তবে, প্রাকৃতিক ভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং বহুমূখী অর্থনীতির কোনো দেশের উপর সেংশনের প্রভাব অতটা পরে না। 

কয়েক মাস আগেই রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল শক্তিধর আমেরিকা ,কানাডা , জাপান এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন।

কিন্তু, এতে তাদের অর্থনীতিতে খুবই সামান্য প্রভাব পরেছে। উলটো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিষেধাজ্ঞা দেয়া দেশগুলো। কারণ, রাশিয়া একটি বহুমূখি অর্থনীতির দেশ।

তাই, তাদের বাণিজ্যিক সুবিধা রয়েছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। আমেরিকান ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের সাথে তাদের বাণিজ্যি সম্পর্ক মাত্র বিশ থেকে পচিশ শতাংশ।

তাই, মার্কিন ও তার মিত্র দেশ গুলোর নিষেধাজ্ঞাতে তেমন কোনো প্রভাব পরেনি রুশ অর্থনীতিতে। 

এছাড়া চীন ,ভারত এবং মধ্যপ্রাচের দেশ গুলোর সাথে মস্কোর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ ভালো। 

বাংলাদেশের অর্থনীতির বেশিরভাগ জায়গা জুড়েই রয়েছে পোশাক খাত। দেশে তৈরী পোশাকের বৃহত্তম বাজার আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান ভুক্ত দেশ গুলো। 

অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যদি কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞার কবলে পরে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় বাজার পুরোটাই হাতছাড়া হয়ে যাবে।

তাই, ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য চীনের মতো সুদুরপ্রসারি এবং সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ