সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফাকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার বলয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এটি হবে অনেকটা ঝুলন্ত শহরের মতোই। যেখানে থাকবে বিভিন্ন ধরনের বাড়ি ও দোকানপাট। এছাড়াও থাকবে অনুষ্ঠানগৃহ ও বিনোদনের জায়গা।
বিশাল এই বৃত্তাকার বলয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে উন্নত মানের। এর জন্য নিচে স্থাপন করা হবে একটি ঝুলন্ত রেলপথ। যেখান দিয়ে চলবে ছোট আকৃতির ট্রেন।
সম্প্রতি এমনই একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে জেড. এন. ইরা স্পেস’ নামের একটি নির্মান সংস্থা।
ইতিমধ্যেই স্থপতিদের পরিকল্পনার নকশা প্রকাশ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যার নাম দেয়া হয়েছে ডাউন টাউন সার্কেল।
বিস্ময়ক এই স্থাপনার বেশ কয়েকটি ছবি নিজেদের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছে সংস্থাটি। যদিও এখনও বিষয়টি নিয়ে সরকারিভাবে কিছু জানায়নি দুবাই কর্তৃপক্ষ।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিশাল উচু বুর্জ খলিফাকে ঘিরে রেখেছে একটি বৃত্তাকার বলয়। আশেপাশের ভবন গুলোকে ছাড়িয়ে গেছে এটির উচ্চতা।
তবে এর অবস্থান বুর্জ খলিফার চূড়া থেকে কিছুটা নিচে। বলা হয়েছে মাটি থেকে ঝুলন্ত শহরের উচ্চতা হবে ৫৫০ মিটার।
যা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের খেতাব দখল করা বুর্জ খলিফার চেয়ে ২৭৮ মিটার কম। এছাড়াও বৃত্তাকার বলয়টির পরিধি হবে তিন কিলোমিটার।
নকশা অনুযায়ী মোট পাচটি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে থাকবে বিস্ময়কর এই স্থাপনা। বেশ কয়েকটি স্তরে এখানে সাজানো রয়েছে বাড়ি, দোকান ও সবুজে পরিপূর্ণ বাগান।
এত উচু হলেও সেখানে দেখা পাওয়া যাবে ঝর্না ও ভেজিটেবল গার্ডেনের। নগরীর চাহিদা মেটাতে নানা রকম কৃষি পন্য নিজস্ব বাগানেই চাষ করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন ফ্লোরে থাকবে কমার্সিয়াল ও কালচারাল স্পেস।
সাধারণ বহুতল ভবনে অসংখ্য মানুষ বসবাস করলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা থাকে না। এক্ষেত্রে পুরোপুরি ব্যতিক্রম হবে জেড. এন. ইরা স্পেসের ডাউন টাউন সার্কেল।
ঝুলন্ত শহরের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য
পুরো কাঠামোটির নিচে থাকবে একটি ঝুলন্ত রেলপথ। যেখান দিয়ে একসাথে চলাচল করবে বেশ কয়েকটি পড আকৃতির যান।
এগুলো যাত্রীদেরকে পৌছে দিবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে ট্রান্সপোর্টার গুলো দুই তলা বিশিষ্ট। এতে বসার জন্য স্থাপন করা হয়েছে আরামদায়ক চেয়ার।
অত্যাধুনিক এসব যানের জানালা হবে স্বচ্ছ কাচের। ফলে ভ্রমনরত অবস্থাতেই পুরো দুবাই শহরের এরিয়াল ভিউ উপভোগ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছাড়াও এখানে রয়েছে এয়ারক্রাফট ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা। প্রকাশিত ছবি গুলোর মধ্যে একটিতে দেখা গেছে ঝুলন্ত শহরের ছাদে পার্ক করা আছে ভবিষৎ প্রজন্মের তিনটি উড়োজাহাজ।
বর্তমানে বিশ্বে দ্রুতগতিতে জনসংখ্যা বেড়ে চলেছে। অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক দেশ।
জন ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ার ফলে নানারকম সমস্যার পাশাপাশি দেখা দিচ্ছে আবাসন সংকট। এতে অপরিকল্পিত ভাবেই গড়ে উঠেছ আকাশচুম্বী বহুতল বিল্ডিং।
যার কারনে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে নগরী গুলো। এই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হয়েছে জেডএনইরা স্পেস।
নিজেদের ইনস্টাগ্রামে পরিকল্পিত ঝুলন্ত স্থাপত্যটির সম্ভাব্য ছবি প্রকাশ করে সংস্থাটি জানায়,
জনঘনত্ব যেন বাসযোগ্যতা কমিয়ে না ফেলে তা নিশ্চিত করতেই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিষয়টিকে তারা বলছেন উল্লম্ব নগরায়ন।
এর মাধ্যমে অল্প জায়গাতেই অধিক মানুষের বসবাসের সুযোগ সৃষ্টি হবে৷ সেই সাথে ঝুলন্ত নগরে পাওয়া যাবে একটি আধুনিক শহরের মতো সকল সুবিধা।