আন্তর্জাতিক


করুণ সময় পার করছে জার্মানবাসী।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২০ আগস্ট ২০২২, ০৩:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার

করুণ সময় পার করছে জার্মানবাসী।

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে জার্মানি।  নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রবাসী সহ দেশটির নিম্ন আয়ের মানুষজন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইউক্রেনের হয়ে রাশিয়ার সাথে বিবাদে জড়ানোর ফলে জার্মানি আজ অর্থনৈতিক মন্দার শিকার।

দেশটির বেশিরভাগ নাগরিকও তাই মনে করেন। মস্কোর বিপরীতে গিয়ে যুদ্ধে জড়ানোটাই ছিল বার্লিনের সবথেকে বড় ভুল।

এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি সরবারহের তোপের মুখে পরে দেশটি। তাতেই সৃষ্টি হয় যতসব বাধা বিপত্তি।

সেখানকার শিল্প কারখানা সহ সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে ব্যবহৃত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সংকট বড় আকার ধারণ করে।

যদিও এই চিত্র শুধু জার্মানিরই নয়, পুরো ইউরোপ জুড়ে একই অবস্থা বিরাজ করছে।

বিশ্বের  বৃহৎ অর্থনীতির দেশ গুলোর একটি জার্মানি। কিন্তু, বর্তমানে সেখানে অভাব অনটনে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলছে।

সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে সবথেকে খারাপ ও যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছে নিন্ম আয়, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মহীন মানুষেরা।

তারা বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে নাম মাত্র মূল্যে সবজি ও বেচে যাওয়া খাবারের সন্ধানে দিন পার করছেন।

বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সেবামূলক সংগঠন গুলোর ধারণা, সামনের দিন গুলোতেও এই সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

তারা জানান, প্রতিদিনই অভাবে থাকা মানুষ খাদ্যের জন্য তাদের দ্বারস্থ হচ্ছে। যাদের মধ্যে অনেকেই সরকারী সাহায্য নিয়ে সংসার চালান। 

ইউক্রেন অভিযান শুরুর মাসখানেকের মধ্যেই জার্মানির বাজারে গম ও সূর্যমুখী তেল সহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দেয়৷

ফলে, বেকারি পণ্যেরও দাম বেড়ে যায়।  অথচ জার্মানরা বেকারি পণ্যের উপরই বেশি নির্ভরশীল। 

অর্থনীতিবিদদের মতে বহু বছর পর এবারই ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ সময় পার করছে জার্মানবাসী।

বিভিন্ন জরিপ দেখা যায়, গেল জুন মাসেই দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় আট দশমিক দুই শতাংশে।

জার্মান ইকোনোমিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট মার্সেল ফ্রাটসশের গণমাধ্যমকে জানান, আগামী মাস গুলোতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতি কমে আসলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য পণ্যের মূল্য নাও কমতে পারে। বরং জ্বালানি সংকটের কারণে সামনের সময় গুলোতেও খাবার ও পণ্যের দাম বাড়তি থাকার আশংকা রয়েছে।

এছাড়া সামনে শীতকাল। তাই, ঘর গরম রাখার জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস বা তেল না থাকলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে৷

দুই হাজার একুশ সালে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে মোট দেশিয় জ্বালানির প্রায় ছাপান্ন শতাংশই আমদানি করেছিল।

তবে, জার্মান অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে বর্তমানে মস্কো থেকে আমদানির পরিমান প্রায় পঁয়ত্রিশ শতাংশে নেমে এসেছে।

এতে জ্বালানির দাম পূর্বের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি পণ্য ও সেবার খরচও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে৷

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার পর তা আর সহজে কমার নজির নেই। তাই, স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে সরকারি ভাতা আরও বাড়ানো উচিত।

যদিও গত কয়ক মাস ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য সরকার ইতিমধ্যে পাচ দশমিক চার বিলিয়ন ইউরোর একটি জরুরি প্যাকেজও ঘোষণা করেছিল।

চলমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা  জার্মানি কতটুকু কাটিয়ে উঠতে সেটিই এখন দেখার বিষয়।




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ