

প্রায় ৫০ বছর পর আবারও চাঁদে রকেট পাঠাচ্ছে নাসা। তবে এতে মানুষ থাকবে না। এর পরিবর্তে মানুষের আকৃতির তিনটি ম্যানিকুইন থাকবে। তার সাথে থাকবে বিকিরণ ও কম্পন মাপার সেন্সর।আর্টিমিসের প্রকল্পের আওতায় এই দানবাকৃতির রকেট 'এসএলএস' পাঠাচ্ছে নাসা। মানুষ ছাড়াই উৎক্ষেপনের ৪২ দিন পরে চাঁদকে প্রদক্ষিন করে আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবে রকেটটি।রকেট থেকে আলাদা হয়ে ওরিয়ন নামের ক্যাপসুলটি চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করার পর এটি প্রশান্ত মহাসাগরে পরবে। ৬ সপ্তাহ ধরে চলবে এই অভিযান।রকেটটির ওজন ৩৫ লক্ষ পাউন্ড। বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহারের জন্য এসএলএস রকেটের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করাই এই প্রোগ্রামের লক্ষ।ইতিমধ্যে রকেটটি ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাডে আনা হয়েছে। ৩২২ ফুট দীর্ঘ এই রকেটটি ৪ মাইল দূরে কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্রের হ্যাঙ্গার থেকে আনতে ১০ ঘন্টা সময় লাগে।এর আগেও দুইবার রকেটটি লঞ্চ প্যাডে আনা হয়েছিল। গত এপ্রিলে কাউন্টডাউনের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রকেট থেকে জ্বালানি বের হয়ে যায়। অন্যান্য সরঞ্জামেও ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে সংস্কারের জন্য একে হ্যাঙ্গারে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় নাসা।তারপর জুনে আবারও কাউন্টডাউনের আয়োজন করা হয়। তবে আগের বারের চাইতে ফলাফল ভালো আসে।নাসার এই এসএলএস রকেটটি অর্ধ-শতক আগে ব্যবহৃত স্যাটার্ন ফাইভ রকেটের চেয়ে ৪১ ফুট ছোট। তবে এটি পুরোনো রকেটের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী।পরিক্ষার সময় রকেটের মূল অংশে মাত্র সাত সেকেন্ডে দেড় মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি শক্তি তৈরি করা গেছে। নাসার প্রশাসক বিল ন্যালসন বলেন, 'এই রকেটটি দেখতে স্যাটার্ন ফাইভের মতো হলেও এটি সম্পূর্ণ নতুন।এতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভেতরে অনেক শক্তিশালী যন্ত্রপাতি আছে। এর নির্মাণশৈলিও বেশ জটিল বলে জানান প্রশাসক ন্যালসন।এই ফ্লাইটটি আর্টিমিস প্রকল্পের প্রথম চন্দ্রাভিযান। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে আর্টিমিস-২ নভোচারীদের নিয়ে মহাকাশে রওনা হবে।মূলত চাঁদে পরিক্ষামূলক অভিযানের জন্য এই অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী রকেট 'এসএলএস' পাঠাচ্ছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ২০১২ সালে আর্টিমিসের এ প্রকল্প শুরু'র সময় ফ্লাইট প্রতি ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল ২০১৭ সালে চাঁদে রকেট পাঠানো হবে।গত মার্চে নাসার মহাপরিচালক পল মার্টিন জানান এ প্রকল্পের প্রথম ৪ ফ্লাইটের প্রতিটির জন্য ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হবে।চাঁদের উদ্দেশ্যে নাসার এই রকেট উৎক্ষেপণ দেখতে লক্ষ মানুষের ভিড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হোটেলের সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।দিনে দিনে উত্তেজনা বাড়ছে মানুষের মাঝে। স্পেস কোস্টের কর্মকর্তারা রকেটের প্রথম উইন্ডটির জন্য কমপক্ষে ১ লক্ষ দর্শক আশা করছেন।বর্তমানে এই রকেটটি লঞ্চ প্যাডে আছে। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে আগামী ২৯ আগস্ট চাঁদের কক্ষপথের উদ্দেশ্য রওনা হবে। নাসার দানবাকৃতির এই রকেটটি এখনো পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট হতে যাচ্ছে।


