আন্তর্জাতিক


পার্টিতে নাচ গান করে তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রী।


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ আগস্ট ২০২২, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

পার্টিতে নাচ গান করে তোপের মুখে প্রধানমন্ত্রী।

বন্ধুদের সাথে পার্টিতে অংশ নিয়ে নাচগান করায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিন। 

সম্প্রতি সেই পার্টির একটি ভিডিও প্রকাশ হয়  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে দেখা যায় কয়েকজন সেলিব্রেটি এবং বন্ধুর সাথে নাচছেন ও গান গাইছেন তিনি।

তাঁর বন্ধুদের মধ্যে ফিনল্যান্ডের সংগীতশিল্পী আলমাসহ কয়েকজন তারকা ছিলেন। সবাই মিলে হই হুল্লোড় করেছেন।

ভিডিওটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে দেশজুড়ে প্রচণ্ড সমালোচনার 
সম্মুখীন হতে হয় তাকে। 

নেটিজেনদের একাংশের বক্তব্য, সারা মারিনের এমন আচরণ কখনোই প্রধানমন্ত্রীসুলভ নয়।

এ নিয়ে বিরোধীসহ জোট সরকারের তোপের মুখে পড়েন মারিন। তার বিরুদ্ধে অবৈধ পানীয় সেবনের অভিযোগ উঠে।   

যদিও সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী। বন্ধুদের সাথে নাচ গান করার কথা অকপটে স্বীকার করেন ৩৬ বছর বয়সী এ নারী। 

তবে অবৈধ পানীয় গ্রহনের ব্যাপারটা অস্বীকার করেন। আত্মপক্ষ সমর্থন করে মারিন বলেন তিনি বেআইনি কিছু করেন নি, কেবল বন্ধুদের সাথে ব্যক্তিগত সময় কাটাচ্ছিলেন।

সমবয়সী অন্য অনেকের মত তারও পারিবারিক ও কর্মজীবন আছে, আছে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও। মারিন বলেন, "আমি নেচেছি, গান গেয়েছি এবং পার্টি করেছি- এগুলো আইনসম্মত।" 

প্রধানমন্ত্রী হলেও তিনি একজন মানুষ, তারও ব্যক্তিগত জীবন আছে। তাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় নিজেকে পাল্টানো উচিত বলে মনে করেন না তিনি।

ফাঁস হওয়া ভিডিও নিয়ে এক মন্তব্যে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভিডিও যে করা হচ্ছে সেটা তার জানা ছিল। কিন্তু প্রকাশ্যে আসবে তা বুঝতে পারেন নি। আর এতে তিনি ভীষণ হতাশ এবং বিব্রত হয়েছেন।

তবে অনেকে অবশ্য মারিনের পক্ষে কথা বলছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত স্পেস হরণ করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তারা বলছেন, নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন থাকতেই পারে।

পার্টি বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি সামনে আসে আরও একটি ভিডিয়ো। যেখানে সানা মারিনকে অজ্ঞাত এক পুরুষের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে নাচতে দেখা যাচ্ছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়া এই ভিডিয়োটি রাজনৈতিক মহলে আরও বড় সমালোচনার ঝড় তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ফিনল্যান্ড সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসেন সানা মারিন। তখন বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী সরকারপ্রধান ছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তাঁকে বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শুরুতেই ছিলো কোভিডের ধাক্কা। 

সে ধাক্কা সামলে উঠতে না উঠতেই সামনে এসে পড়ে ইউক্রেনে রুশ হামলা। যার প্রভাব পড়তে শুরু করে ফিনল্যান্ডের উপরেও। 

কিন্তু তাই বলে ভয়ে পিছ পা হন নি মারিন। রাশিয়া বিরোধী কড়া অবস্থান থেকে সরেননি তিনি। ন্যাটোয় যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ফিনল্যান্ড অগ্রবর্তী দেশ।

ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী তার পার্টির খবর সাধারণত গোপন করেন না। প্রায়ই বিভিন্ন সঙ্গীত উৎসবে এ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত হওয়ার ছবি প্রকাশ পায়। 

যে কারণে তাকে ঘিরে আরো কয়েকবার দেশটিতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিলো। গত বছর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর ক্লাবে গিয়ে পার্টি করেন তিনি। 

সেটি নিয়ে হইহই করে উঠেছিল ফিনল্যান্ডের সংবাদ মাধ্যম। অবশ্য এর জন্য পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন।

অনেকেই প্রধানমন্ত্রী পদের কঠিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একটি সক্রিয় ব্যক্তিগত জীবন যাপনের জন্য মারিনের প্রশংসা করে থাকেন। বিশেষ করে তরুণ প্রদন্মের মধ্যে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ