আন্তর্জাতিক


তীব্র খরায় একে একে ভেসে উঠল ২০ যুদ্ধজাহাজ!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ আগস্ট ২০২২, ০৪:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার

তীব্র খরায় একে একে ভেসে উঠল ২০ যুদ্ধজাহাজ!

তীব্র খরার মুখোমুখি হয়েছে ইউরোপ। চলমান খরা এতোটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, 
শক্তিশালী দানিয়ুব নদীর পানিও গত এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।

এতে করে একে একে জেগে উঠতে শুরু করেছে জার্মানির ডুবে যাওয়া বহু যুদ্ধজাহাজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ডুবে গিয়েছিল এগুলো। 

নদীর তলদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ সমূহ। ভাঙা মাস্তুল ও ধুমরে মুচরে যাওয়া কাঠামো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে বিভীষিকাময় অতীত ইতিহাসকে। 

ধারণা করা হচ্ছে ১৯৪৪ সালে কৃষ্ণসাগরে জার্মানরা সোভিয়েত বাহিনীর মুখোমুখি হয়। রোমানিয়া বুলগেরিয়ায় নোঙর ফেলে অনেক জাহাজ। 

নাৎসি সেনারা পিছু হটার সময় জার্মান রণতরী দানিয়ুবের তীরে ডুবে যায়। ভেসে ওঠা জাহজ গুলো এই বহরেরই অংশ।

এসবের মধ্যে এখনো কয়েক টন গোলাবারুদ ও বিষ্ফোরক রয়েছে । ফলে এ রুটে নৌচলাচল বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে এই রণতরী গুলো জনসাধারণের মাঝে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এই দানিয়ুব। এই মহাদেশের অন্যতম প্রধান পরিবহন পথও এটি। তাছাড়া এ নদী জলবিদ্যুতেরও একটি বড় উৎস। 

ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে কেবল দানিউবই একমাত্র নদী যা পূর্ব-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। 

নদীর ওপারে রোমানিয়ার স্থানীয় জনসাধারণের একাংশ মাছ ধরা শিল্পের সাথে জড়িত। বিপজ্জনক এই জাহাজগুলোর কারণে মাছ ধরায় ব্যাঘাত ঘটছে। 

এর সাথে যুক্ত কর্মী ও ছোট নৌকার মালিকরা ঝুকিতে রয়েছে। তারা ভয়ে রয়েছে, কারন এই বিস্ফোরক যেকোনো সময় জ্বলে ওঠে প্রাণহানি ঘটতে পারে।

নদীর পানি এতোটাই শুকিয়ে গেছে যে এর তলদেশ দেখা যাচ্ছে এবং স্থানে স্থানে চর জেগে ওঠেছে। সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ নৌ-চলাচলের লেন গুলো চালু রাখার জন্য ড্রেজিং এর আশ্রয় নিয়েছে।

বন্দর শহর প্রাহোবের কাছে ডুবে থাকা এই জাহাজগুলো নৌচলাচলের পথকে ১৮০ থেকে ১০০ মিটারে সংকুচিত করে দিয়েছে।

এ বছরের মার্চ মাসে এগুলো উদ্ধার ও গোলাবারুদ অপসারণের জন্য দরপত্র আহবান করে সার্বিয়া সরকার। এ কাজের খরচ ধরা হয় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জার্মানরা একটি বড় পরিবেশগত বিপর্যয় রেখে গেছে। সেটির প্রকাশ্য উপস্থিতি এই জাহাজ। 
যা মানুষ কে হুমকি ও আতঙ্কের মুখে ফেলে দিয়েছে।  

বেশিরভাগ জাহজ বালিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। তীরজুরে ছড়িয়ে থাকা কিছু জাহাজে এখনও বুরুজ, কমান্ড ব্রিজ, ভাঙা মাস্তুল ও পেচানো হুল পানির উপরে ভেসে রয়েছে। 

নদীতে ডুবে যাওয়া এসব জাহাজ সম্পর্কে একটি বই লিখেছেন প্রাহোবোর প্রবীণ নাগরিক ভ্যালিমির ট্রাজিলোভিক। 

৭৪ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বলেছেন, ডুবে যাওয়া এই নৌবহর মানুষজনকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

কম বৃষ্টিপাত এবং মে থেকে বেশ কয়েকটি তাপপ্রবাহের জন্য তৈরি হয়েছে ভয়াবহ এই অবস্থা। 

তীব্র খরায় বিভিন্ন নদী ও হ্রদের পানির স্তর অনেকখানি নেমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন নিমজ্জিত থাকা অনেক সম্পদ বের হয়ে আসছে, সাথে মিলছে অপ্রত্যাশিত অনেক জঞ্জালও।

পানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং অন্যান্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শীতলকরণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।