

প্রায় পাঁচ দশক পর আবারো মানুষ পাঠানো হবে চাঁদে। এই মিশনের মধ্যে দিয়ে ইতিহাসে প্রথম বারের মতো চাঁদের বুকে পা রাখতে যাচ্ছেন কোন নারী। যা হবে মানব সভ্যতার ইতিহাসে আরো একটি বড় মাইলফলক। এর আগে চাঁদের বুকে মানুষের পা পড়েছে মাত্র একবার। সেবার দুইজন পুরুষ অবতরণ করেছিলেন উপগ্রহটিতে। অ্যাপোলো মিশন নামের সেই অভিযান প্রায় পাচ দশক আগে সফল ভাবে শেষ হয়েছে। এরপর পেরিয়ে গেছে পঞ্চাশ বছরের বেশি সময়, কিন্তু চাঁদে মানুষ পাঠানোর উদ্যোগ নেয়নি আর কোন দেশ। দীর্ঘদিন পর আবারো চন্দ্র অভিযানে ফিরছে যুক্তরাস্ট্রের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান- নাসা। এবার আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে আবারো ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে তারা। নতুন এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদে যাওয়া নভোচারীদের মাঝে কমপক্ষে একজন হবেন নারী। এমনটাই লক্ষ্য রেখেছে আমেরিকার এই গবেষণা সংস্থা। আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি মাইলফলক অর্জন করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাঝে চাঁদের বুকে প্রথম নারী নভোচারী পাঠানো অন্যতম।ঐতিহাসিক এই মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় রাখা হচ্ছে নারীদের। আর্টেমিসের উৎক্ষেপণ প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন একজন নারী। যার নাম ব্ল্যাকওয়েল থম্পসন।এছাড়া চাঁদের বুকে প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ নভোচারীও পাঠানো হতে পারে আসন্ন মিশনের মাধ্যমে। যা হবে আরো একটি মাইলফলক। নাসার নতুন নতুন মিশনের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এর অংশ হিসাবে আগামী ২৯ আগস্ট মহাকাশে যাবে আর্টেমিস ওয়ান। মানুষ বিহীন এই মহাকাশ যান চন্দ্রপৃষ্ঠের ৬০ মাইলের মধ্যে পৌঁছে সংগ্রহ করবে বিভিন্ন তথ্য। এছাড়া চাঁদের কক্ষপথে কয়েকটি ছোট ছোট স্যাটেলাইট স্থাপন এবং ছবি তোলার কাজ করবে এটি। এরপর ২০২৪ সালে মানুষ নিয়ে মহাকাশে যাবে আর্টেমিস টু। তবে চাঁদের বুকে অবতরণ করবে না এটি। বরং নভোচারীদের নিয়ে চক্কর দেবে চাঁদের চারপাশে। সর্বশেষ চাঁদে অবতরণের জন্য মানুষ পাঠানো হবে আর্টেমিস থ্রি মহাকাশ যানের মাধ্যমে। দুই হাজার পচিশ সালে এই মিশন পরিচালনা করার লক্ষ রেখেছে নাসা। ইতিমধ্যে চাঁদে অবতরণের সম্ভাব্য ১৩ টি স্থানের তালিকা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। জানা গেছে এবার চাঁদের দক্ষিন মেরুতে অবতরণ করবে তাদের মহাকাশ যান। ।চাঁদের এই অঞ্চল নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোন তথ্য নেই গবেষকদের কাছে। সেজন্য ‘ডার্ক সাইড অফ দ্য মুন’ বলে পরিচিত অঞ্চলটি। এবারের অভিযানে চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে বরফের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। নাসা জানিয়েছে, আগের যে কোনো মিশনের চেয়ে আলাদা হবে এটি। মানুষের কাছে আবিষ্কৃত হয়নি, এমন অঞ্চলে অবতরণ করবেন নভোচারীরা, যা ভুমিকা রাখবে ভবিষ্যতের অন্যান্য অভিযানেও। প্রাথমিকভাবে নাসা যেই ১৩টি স্থান নির্বাচন করেছে সেখানে বছরের বিভিন্ন সময় অবতরণ করা সম্ভব। এর ফলে আবহাওয়ার কারণে আর্টেমিস থ্রি'র যাত্রা পেছালেও বড় কোন সমস্যা হবে না। বরং বেশি বিলম্ব না করেই পৃথিবী ছাড়তে পারবে এটি। ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের এই অভিযানে চাঁদের বুকে ছয়দিন কাটাবেন নভোচারীরা। মিশনের তারিখ চূড়ান্ত হবার পর অবতরণের স্থান ঘোষণা করবে নাসা।


