আন্তর্জাতিক


কে হবেন রাশিয়ায় পুতিন পরবর্তী নেতা?


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৮ আগস্ট ২০২২, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার

কে হবেন রাশিয়ায় পুতিন পরবর্তী নেতা?

বিগত দুই দশক ধরে রাশিয়ার শাসক হিসেবে আছেন পুতিন। দেশটির পরবর্তী নেতা কে হবেন সেই সম্ভাব্য তালিকায় এসেছে কয়েকজনের নাম।

তার মধ্যে প্রথমেই আছেন বর্তমান প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সার্গেই সইঘু। গত এক দশকে তিনি পুতিনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত মানুষে পরিণত হয়েছেন। 

বর্তমানে ইউক্রেনে অভিযান পরিচালনা সংক্রান্ত সকল কাজের দায়িত্বল আছেন সইঘু। তিনি পুতিনের অন্যতম পরামর্শ দাতার ভূমিকাও পালন করেন। 

রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ কাজে ডাকার সাথেই তাকে পাওয়া যায়। কয়েক বছর আগে রাশিয়ার প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় তিনি সারা দেশ সফর করেছেন্ন।

দেশবাসীকে বুঝিয়েছেন সরকার তাদের পাশে আছে। সেই সময় থেকে দেশের মানুষ তাকে অনেক বিশ্বাস করে। বর্তমানে সইঘু রাশিয়ার দ্বিতীয় জনপ্রিয় ব্যক্তি।

এছাড়া ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা রয়েছে। সব মিলে পরবর্তী নেতা হওয়ার দৌড়ে বেশ এগিয়ে আছেন সার্গেই সইঘু। 

সইঘুর বর্তমানে বয়স ৬৭ বছর। এটিই তার ক্ষমতায় আসার পথে  প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে  পারে বলে মনে করেন অনেকে।

নেতা হওয়ার দৌড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিসুস্টিন। ভ্লাদিমির পুতিন নিজে তাকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন। 

গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির সূত্রে পুতিনের সাথে মিসুস্টিনের সখ্যতা রয়েছে। তিনি কেজিবি স্পন্সর ইন্টারন্যাশনাল কম্পিউটার ক্লাবের সদস্য ছিলেন। প্রযুক্তি বিষয়ক দক্ষতা রয়েছে তার। 

অর্থ ব্যবহারে সচেতনতা এবং প্রযুক্তির দক্ষতার কারনে পুতিনের পছন্দের তালিকায় আছেন মিসুস্টিন।


রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল ডিপার্টমেন্টের প্রধান দিমিত্রিভ কোভালেভ আছেন তৃতীয় অবস্থানে। স্বাধীনতা দিবসের প্যারাডে পুতিনের পাশে দেখা গিয়েছে তাকে।

এই ঘটনা তাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখা যাওয়ার ব্যপারে ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া কোভালেভের বয়স মাত্র ছত্রিশ বছর।

পুতিন নিজে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে ক্ষমতায় এসেছিলেন। তার মতে দেশের নেতৃত্বে কম বয়সী কারো আসা উচিত। 

তাই পরবর্তী নেতা হিসেবে তরুণ একজনকে দেখা গেলে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অল্প বয়সে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্টরে বিশ্বস্তা অর্জন তাকে এগিয়ে রেখেছে অন্যদের থেকে।


সার্গেই কিউলিয়েনকো আছেন চতুর্থ অবস্থানে। তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসের ডেপুটি চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। তাছাড়া নির্বাচনী ক্যাম্পোইনেও অংশ নিয়েছেন।

ইউক্রেন থেকে পাওয়া অঞ্চল পুনরায় গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাকে। তিনি পুতিনের অত্যন্ত বিশ্বস্ত লোক।

রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রিভ মেদভেদেভও আছেন পরবর্তী নেতা হওয়ার দৌড়ে। ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। 

এই পাঁচ জন ছাড়াও মস্কো শহরের মেয়র সার্গেই সোকহনি, পুতিন বিরোধী এলেস্কি নাভালনীর নামও শোন যায় পরবর্তী নেতা হওয়ার তালিকায়।

ভ্লাদিমির পুতিনের মতো ক্যারিশমাটিক নেতা পাওয়া কঠিন। দেশটির পরবর্তী নেতা হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভবনা রয়েছে এই কজন ব্যক্তির।

তবে পুতিন বেঁচে থাকা অবস্থায় তা সম্ভব হবে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। কেবল তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করলে কিংবা মারা গেলেই অন্য কেউ ক্ষমতায় আসা সম্ভব। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ