আন্তর্জাতিক


নিলামে বিক্রি হলো প্রিন্সেস ডায়ানার গাড়ি


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

নিলামে বিক্রি হলো প্রিন্সেস ডায়ানার গাড়ি

ব্রিটিশ রাজ পরিবারের বধূ ডায়ানার ব্যবহৃত গাড়ি গত ২৭ আগস্ট নিলামে তোলা হয়। বিশাল অংকের টাকায় বিক্রি হয়েছে বিশেষ এই গাড়িটি।

দুবাই, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে ধনকুবেররা এসেছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানার ব্যবহৃত এই ফোর্ড গাড়ি কিনতে। 

নিলামকারী সংস্থার একজন জানান, ডায়ানার গাড়ি নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ আগ্রহ দেখেছেন তারা। গত ১২ বছরে সিলভারস্টোন অকশনসে আর কোনো গাড়ির জন্য এতো ফোন পাননি তারা।

মূলত কালো রঙের ফোর্ড এসকর্টের গাড়িটি আর না থাকায় এটি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলো। এছাড়াও  সাধারণ ও দয়ালু প্রিন্সেস ডায়ানার জন্য মানুষের আবেগও কাজ করেছে এক্ষেত্রে।

নিলামে ডাক শুরু করা হয় এক লাখ পাউন্ড
থেকে। এক পর্যায়ে দুবাই এবং ইংল্যান্ডের দুই সম্ভাব্য ক্রেতার মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় গাড়িটি কেনার জন্য।

নিলামে ডাক উঠতে উঠতে যখন সাড়ে ৪ লাখে পৌঁছালো, তখন যুক্তরাজ্যের এক ধনকুবের নিলামে যোগ দেন।

শেষ পর্যন্ত তার সাড়ে ছয় লাখ পাউন্ডের ডাকে হাল ছেড়ে দেন ‍দুবাই আর ইংল্যান্ডের দুই ক্রেতা। 

অবশেষে প্রিমিয়ামসহ মোট ৭ লাখ ৩০ হাজার পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয় গাড়িটি। তবে এ গাড়ির ক্রেতার নাম প্রকাশ করেননি নিলামকারী সংস্থা। 

নিলামে গাড়িটি শেষ পর্যন্ত এই দামে বিক্রি হওয়ায় সবাই বেশ অবাক হয়েছেন। 

বিশেষ গাড়িটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রিটেনের সামাজিক ইতিহাসের একটি অংশ। এছাড়া এই মডেলের সবচেয়ে ভালো অবস্থায় যে গাড়িগুলো আছে তার মধ্যে ফোর্ড এসকর্টও একটি। 

১৯৮০-১৯৯০ এর দশকে ব্রিটেনে সর্বাধিক বিক্রিত গাড়ি ছিল এটি। যা প্রিন্সেসের পছন্দ অনুযায়ী গাড়িটি তৈরি করা হয়েছিলো। এটি ফোর্ডের আরএস টার্বো সিরিজ ওয়ানের প্রথম এবং একমাত্র কালো গাড়ি। 

ডায়ানার গাড়ি যেন অন্য গাড়ির সাথে মিলে না যায়, সেজন্যই এই সিরিজের বাকি সব গাড়ি সাদা হলেও এটি কালো রংয়ের। 

জানা যায় গাড়িটি ডায়ানার অত্যন্ত প্রিয় ছিল। সেজন্য  তিনি ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে প্রাপ্ত রোলস-রয়েস এবং ডায়ামলার্স ব্যবহার না করে এই গাড়িটিই ব্যবহার করতেন। 

ডায়ানা সাধারণত নিজে গাড়ি চালাতে পছন্দ করতেন। তিনি যখন গাড়ি চালাতেন, রাজ পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়্যালটি প্রটেকশন কমান্ডের একজন বসতেন গাড়ির প্যাসেঞ্জার সিটে।

ফোর্ড এসকর্ট আরএস টার্বো গাড়িটি ছিলো তার সফরসঙ্গী। তিনি শপিং, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে এই গাড়িটি নিয়েই বের হতেন।

চেলসি ও কেনসিংটনে  বুটিক শপের সামনে গাড়িটির সঙ্গে ডায়ানা ছবিও তুলেছেন। ১৯৮৫ সালের আগস্ট মাস থেকে প্রায় তিন বছর  গাড়িটি ব্যবহার করেছেন প্রিন্সেস।

২৫ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ব্রিটিশ রাজবধূ ডায়ানা ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। 

৩১ আগস্ট ছিল ডায়ানার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। 
ত্যুবার্ষিকীর তিন দিন আগেই তার প্রিয় এই গাড়িটি নিলামে বিক্রি করা হয়েছে।

এর আগে প্রিন্সেস ডায়ানার ব্যবহার করা আরও একটি গাড়ি নিলামে বিক্রি হয়েছিলো। দক্ষিণ আমেরিকার একটি জাদুঘর ৫২ হাজার পাউন্ডে কিনে নেয় সেটি।

প্রিন্স চার্লস এনগেজমেন্ট উপহার হিসেবে সিলভার রঙের গাড়িটি তাকে উপহার দিয়েছিলেন। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ