

গত ডিসেম্বরে পানির নিচে দীর্ঘতম হাইওয়ে টানেল বানিয়েছে চীন। টাইহুর টানেল নামে পরিচিত এই হাইওয়ে টানেল প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ। সাত দশমিক ২৫ মিটার উচ্চতার দ্বিমুখী টানেলটি পূর্ব চীনের জিয়াংশু প্রদেশের টাইহু লেকের নিচ দিয়ে গেছে। যা সাংহাই থেকে ৫০ কিমি দূরে অবস্থিত। এটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ ঘন মিটারেরও বেশি কংক্রিট। এতে রয়েছে ৬টি লেন এবং প্রস্থ ১৭ দশমিক ৪৫ মিটার।টানেলটিতে স্বয়ংক্রিয় ইস্পাত প্রক্রিয়াকরণ সরঞ্জাম এবং ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে ভেতরে কোনো ধুলোকণা উড়ে না। অভিনব এই টানেলের ছাদে বসানো হয়েছে রঙ্গিন এলইডি লাইট, যা চালকদের ক্লান্তি দূর করবে। টানেলটি তৈরি করা হয়েছে টাইহু লেকের আশেপাশের শহরগুলোর ওপর থেকে ট্রাফিকের চাপ কমাতে। একইসঙ্গে ইয়াংজি নদীর ব-দ্বীপ এলাকার শহরগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য।এটি মূলত ৪৩ দশমিক নয় কিলোমিটার দীর্ঘ চাংঝো- উক্সি মহাসড়কের অংশ। যা জিয়াংসুর রাজধানী সাংহাই ও নানজিং-এর মধ্যে একটি বিকল্প এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে কাজ করেছে।টানেলটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৯ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউয়ান। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকার সমান। প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা।প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেল নির্মাণে দেশটি সময় নিয়েছে ৪ বছর। নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। গেলো বছর ডিসেম্বরের শেষের দিকে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে চীন।তবে বিশ্বের দীর্ঘতম চলমান হাইওয়ে টানেলটি নরওয়েতে অবস্থিত। যার দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার। এটি স্ট্যাভাঞ্জার শহর ও স্ট্র্যান্ডের পৌরসভার মধ্যে দিয়ে গেছে। তাছাড়া জাপানেও রয়েছে ৯ দশমিক ৬ কিলোমিটারের একটি টানেল।এছাড়াও পৃথিবীতে আরও কিছু বড় টানেল রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম চ্যানেল টানেল রয়েছে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যে। এটি একটি পাতাল রেল সুড়ঙ্গ, যা সমুদ্রের তলদেশে বিস্তৃত। এটি ইউরোটানেল নামেও পরিচিত। পানির নিচের এ টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩৭ দশমিক নয় কিলোমিটার। ৫০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গটি যুক্তরাজ্যের ফোকস্টোন ও ফ্রান্সের কোকুয়েলসকে যুক্ত করেছে। সুড়ঙ্গের দুই পাশে রয়েছে দুইটি রেল স্টেশন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে টানেলটির গড় গভীরতা ৪৫ মিটার। এই পথ পাড়ি দিয়ে এক পাশ থেকে অপর পাশে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩৫ মিনিট। প্রতি বছর ৪৫ লাখ মানুষ চ্যানেল সুড়ঙ্গ ব্যবহার করেন। এই সুড়ঙ্গ দিয়ে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের মালামাল পারাপার হয়। সময় সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি চালু হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই ফেরির বদলে মানুষ সুড়ঙ্গ দিয়ে চলাচল শুরু করে। এমনকি অনেকে বিমান যাত্রার বদলে নদীর তলদেশে গড়ে ওঠা বিশ্বের বৃহত্তর এই সুড়ঙ্গ দিয়ে চলা ট্রেনকেই অগ্রাধিকার দেয়। এই টানেল নিমার্ণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ১৩ হাজার শ্রমিক ৫ বছর ধরে কাজ করেছেন। এছাড়াও বিশ্বে আরো বেশ কিছু দীর্ঘ টানেল রয়েছে।



