প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুর সঙ্গে ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষ করতে চলেছে নাসা। এটিকে তারা বলছে গ্রহ প্রতিরক্ষা। ডিমারফস নামক একটি গ্রহাণুকে নাসার ডার্ট মহাকাশযান আক্রমণ করবে।
এর জন্য গেলো বছর ২৪ নভেম্বর ডার্ট মহাকাশযানটি স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটে করে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে নাসা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেস থেকে রওনা দেয় যানটি। সেটি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আছড়ে পড়বে 'ডিমারফস' গ্রহাণুর বুকে।
ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় গ্রহাণুটি পৃথিবীর ৬৭ লক্ষ মাইলের মধ্যে চলে আসবে। তখনই নাসার যান সংঘর্ষ ঘটাবে গ্রহাণুটির সঙ্গে।
ঘন্টায় প্রায় ১৫,০০০ মাইল বেগে ডাইমরফোসের গায়ে আঘাত হানবে নাসারযান। স্পেস ক্রাফটের মাধ্যমে সেই দৃশ্য সরাসরি ভিডিও করবে বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর দিকে যদি কোনওদিন কোনও গ্রহাণু ধেয়ে আসে, তবে তার গতিপথ বদলে দেওয়ার প্রস্তুতিই এই মিশনের উদ্দেশ্য।
এতে দেখা হচ্ছে, সংগর্ষ ঘটিয়ে কীভাবে কোনও গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। সেই কারণেই একে গ্রহ প্রতিরক্ষা মিশন বলছে নাসা।
ডার্ট মহাকাশযানটি মেরিল্যান্ডের জনস হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি দ্বারা নির্মিত এবং নিয়ন্ত্রিত। প্রকল্পটি নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্স কোঅর্ডিনেশন অফিস দ্বারা পরিচালিত।
গ্রহাণু হল মহাবিশ্বের শিলা, যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোটি কোটি গ্রহাণু।
মহাকর্ষীয় টানের কারণ এগুলো অনেক সময়ই গ্রহের কক্ষপথের মধ্যে এসে পড়ে।
অনেক সময় গ্রহের সঙ্গে গ্রহাণুর সংঘর্ষও হয়।
বড় আকারের কোন গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার আগেই তাকে মোকাবিলা করার এই প্রস্তাব বহুদিন ধরেই বিবেচনাধীন ছিল।
এর কারণ, কয়েকশ' মিটার চওড়া কোন গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে - তাহলে যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে, সেটা এতই ব্যাপক মাত্রার হবে যে তা অনুভূত হবে একটা পুরো মহাদেশ জুড়ে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে সেটি হবে পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী।
৭ হাজার ৫শ কেজি ওজনের কোনো গ্রহাণু, পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হবে প্রায় ১২০০ মেগা টনের কাছাকাছি।
যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় আঘাত করা, দা লিটল বয়ের চেয়েও কয়েকশ গুণ বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনটা হলে যেকোনো স্থানে অন্তত দেড় কিলোমিটার গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে।
এমনকি ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার মাধ্যমে যে শক ওয়েব হবে, তাতেই পৃথিবীর একটা বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।
পৃথিবী পৃষ্ঠে শত কিলোমটারজুড়ে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হবে। গ্রহাণুটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বাইরে একটি বলয় সৃষ্টি করবে, যা দেখতে শনি গ্রহের বলয়ের মতো হবে।
গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী পৃষ্ঠ একসময় ধুলোতে ঢেকে যাবে, যা সূর্যের আলো আটকে দেবে। আর সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে অধিকাংশ প্রাণী ও গাছপালা মারা যাবে।
উল্কাপিন্ডের আঘাতে বনজঙ্গল জ্বলে যাবে, শহরগুলো ঝলসে যাবে উত্তপ্ত ধ্বংসাবশেষের উত্তাপে। মানুষসহ অন্য অন্য সকল প্রাণির জন্য পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এসব সমস্যা যাতে না হয়, তাই বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসতে থাকলে, কৃত্রিম ভাবে সেটির গতিপথ বদলে দেয়া হবে।