আন্তর্জাতিক


গ্রহাণুতে সংঘর্ষ করবে নাসা! 


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার

গ্রহাণুতে সংঘর্ষ  করবে নাসা! 

প্রথমবারের মতো একটি গ্রহাণুর সঙ্গে ইচ্ছাকৃত সংঘর্ষ করতে চলেছে নাসা। এটিকে তারা বলছে গ্রহ প্রতিরক্ষা। ডিমারফস নামক একটি গ্রহাণুকে নাসার ডার্ট মহাকাশযান আক্রমণ করবে। 

এর জন্য গেলো বছর ২৪ নভেম্বর ডার্ট মহাকাশযানটি স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেটে করে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে নাসা। 

ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ এয়ার ফোর্স বেস থেকে রওনা দেয় যানটি। সেটি আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর আছড়ে পড়বে 'ডিমারফস' গ্রহাণুর বুকে।

ধারণা করা হচ্ছে, এ সময় গ্রহাণুটি পৃথিবীর ৬৭ লক্ষ মাইলের মধ্যে চলে আসবে। তখনই নাসার যান সংঘর্ষ ঘটাবে গ্রহাণুটির সঙ্গে।  

ঘন্টায় প্রায় ১৫,০০০ মাইল বেগে ডাইমরফোসের গায়ে আঘাত হানবে নাসারযান। স্পেস ক্রাফটের মাধ্যমে সেই দৃশ্য সরাসরি ভিডিও করবে বিজ্ঞানীরা। 

পৃথিবীর দিকে যদি কোনওদিন কোনও গ্রহাণু ধেয়ে আসে, তবে তার গতিপথ বদলে দেওয়ার প্রস্তুতিই এই মিশনের উদ্দেশ্য। 

এতে দেখা হচ্ছে, সংগর্ষ ঘটিয়ে কীভাবে কোনও গ্রহাণুর গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। সেই কারণেই একে গ্রহ প্রতিরক্ষা মিশন বলছে নাসা। 

ডার্ট মহাকাশযানটি মেরিল্যান্ডের জনস হপকিন্স অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরি দ্বারা নির্মিত এবং নিয়ন্ত্রিত। প্রকল্পটি নাসার প্ল্যানেটারি ডিফেন্স  কোঅর্ডিনেশন অফিস দ্বারা পরিচালিত।

গ্রহাণু হল মহাবিশ্বের শিলা, যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। মহাশূন্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে কোটি কোটি গ্রহাণু। 
মহাকর্ষীয় টানের কারণ এগুলো অনেক সময়ই গ্রহের কক্ষপথের মধ্যে এসে পড়ে। 

অনেক সময় গ্রহের সঙ্গে গ্রহাণুর সংঘর্ষও হয়।
বড় আকারের কোন গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার আগেই তাকে মোকাবিলা করার এই প্রস্তাব বহুদিন ধরেই বিবেচনাধীন ছিল।

এর কারণ, কয়েকশ' মিটার চওড়া কোন গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে - তাহলে যে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটতে পারে, সেটা এতই ব্যাপক মাত্রার হবে যে তা অনুভূত হবে একটা পুরো মহাদেশ জুড়ে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্রহাণুর সঙ্গে পৃথিবীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে সেটি হবে পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী।

৭ হাজার ৫শ কেজি ওজনের কোনো গ্রহাণু, পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষ হলে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হবে প্রায় ১২০০ মেগা টনের কাছাকাছি।

যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিরোশিমায় আঘাত করা, দা লিটল বয়ের চেয়েও কয়েকশ গুণ বেশি ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনটা হলে যেকোনো স্থানে অন্তত দেড় কিলোমিটার গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। 

এমনকি ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত হানার মাধ্যমে যে শক ওয়েব হবে, তাতেই পৃথিবীর একটা বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। 

পৃথিবী পৃষ্ঠে শত কিলোমটারজুড়ে একটি বিশাল গর্তের সৃষ্টি হবে। গ্রহাণুটির ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বাইরে একটি বলয় সৃষ্টি করবে, যা দেখতে শনি গ্রহের বলয়ের মতো হবে।

গ্রহাণুর আঘাতে পৃথিবী পৃষ্ঠ একসময় ধুলোতে ঢেকে যাবে, যা সূর্যের আলো আটকে দেবে। আর সূর্যের আলো ছাড়া পৃথিবীতে অধিকাংশ প্রাণী ও গাছপালা মারা যাবে। 

উল্কাপিন্ডের আঘাতে বনজঙ্গল জ্বলে যাবে, শহরগুলো ঝলসে যাবে উত্তপ্ত ধ্বংসাবশেষের উত্তাপে। মানুষসহ অন্য অন্য সকল প্রাণির জন্য পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

এসব সমস্যা যাতে না হয়, তাই বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসতে থাকলে, কৃত্রিম ভাবে সেটির গতিপথ বদলে দেয়া হবে। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।