বুদ্ধিতে আলবার্ট আইনস্টাইন বা স্টিফেন হকিংয়ের মত বড় বড় বিজ্ঞানীদের চেয়েও এগিয়ে আছেন ১১ বছরের ছোট্ট শিশু কেভিন সুইনি।
সম্প্রতি মেনসা ইন্টারন্যাশনাল আইকিউ টেস্টের ফলাফল প্রকাশিত হবার পর থেকে এমন খবরই ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে।
সেই টেস্টের ফলাফল হতে জানা গিয়েছে ছোট্ট এই শিশুর আইকিউ লেভেল ১৬২। যেখানে বিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান মানব আইনস্টাইন এর আইকিউ লেভেল ছিল ১৬০, এমনকি পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের আইকিউও ছিল ১৬০।
বিশ্বের মাত্র এক শতাংশ মানুষেই এমন আইকিউ সম্পন্ন হয়। কিন্ত এর আগে যাদের ক্ষেত্রে এমন আইকিউর নমুনা মিলেছে তারা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
কেভিন সুইনিই একমাত্র কমবয়সী বুদ্ধিমান শিশু, যিনি পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে সর্বোচ্চ আইকিউর অধিকারী হয়েছেন।
স্কটল্যান্টের লচজেলির বাসিন্দা তিনি। অন্যান্য শিশুর মত স্বাভাবিক নন কেভিন, কারণ জন্মগত ভাবেই তার অটিজম আছে।
শারীরিকভাবে কিছুটা অক্ষম হলেও তার বুদ্ধি প্রতিভা ছিলো দুর্দান্ত। প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হবার আগ থেকেই তিনি পড়তে, লিখতে শিখে গিয়েছিলেন । নিজের বয়সী অন্যান্য বাচ্চাদের থেকে বুদ্ধিতে অনেক এগিয়ে ছিলেন কেভিন।
অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে ৬ বছর বয়সেই তিনি পর্যায় সারণি মুখস্থ করে ফেলেছেন। যে সারণি মুখস্থ করতে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও বেশ হিমশিম খেতে হয়।
অটিজম ছিলো বলে সহপাঠীরা তেমন একটা গুরুত্ব দিতোনা তাকে। এমনকি আত্মীয়স্বজন কিংবা পাড়াপড়শিরাও খুব একটা স্নেহ করতো না।
কিন্তু কেভিনের বাবা-মা সবসময় তাকে নিয়ে আশাবাদী ছিলেন। কেভিনের মধ্যে আলাদা কিছু প্রতিভা আছে, সেটি তারা ছোট থেকেই লক্ষ্য করেছেন।
এজন্য কেভিনকে কোনো কিছুতেই বাধা দেননি তারা। সবসময় তাকে সকল কাজে উৎসাহ দিতেন এবং অনুপ্রেরণা যোগাতেন।
গত ১৬ জুলাই এডেনবার্গের কোয়েকার মিটিং হাউসে অনুষ্ঠিত আইকিউ পরীক্ষাটিতে স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কেভিন।
সেখানে তিনিই একমাত্র শিশু ছিলেন, যে এই পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছে। বাকি পরীক্ষার্থীরা সকলেই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলো, এমনকি অসংখ্য প্রবীণরাও সেখানে ছিলেন।
এ পরীক্ষা দিতে কেভিনকে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। নিজের ইচ্ছায় অংশগ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ে তিনি পরীক্ষা শেষ করেছিলেন।
কেভিন তার প্রাপ্ত আইকিউ নাম্বারের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারি সকল প্রতিযোগিকে তো হার মানিয়েছেই, বরং জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত দুই প্রতিভাবানদের চেয়ে বেশি স্কোর অর্জন করেছেন।
তার বাবা এডি সুইনি সংবাদমাধ্যমে জানান, ছেলের এমন প্রতিভায়, বাবা হিসাবে তিনি ভীষণ গর্বিত।
পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসার পর কেভিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েছিলো। তার বয়সের কোনও শিশুই এই পরীক্ষায় এত ভালো ফলাফল করেনি।
কেভিনের জীবনে নানা বাধা-বিপত্তি ছিলো এবং আছেম তবে এই সাফল্য তাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে আশা করেন তার বাবা-মা।
বিভিন্ন ধরনের কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কেভিন বেশ পছন্দ করবন। যার মধ্যে হু ওয়ান্টস টু বি অ্যা মিলিয়নেয়ার এবং দ্য চেজ তার পছন্দের শীর্ষে।
সম্প্রতি কেভিন সুইনি মেনসায় যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন, যেটি কিনা বিশ্বের প্রাচীনতম একটি আইকিউ সোসাইটি।