আন্তর্জাতিক


মহাকাশে ধান চাষে সাফল্য পেল চীন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার

মহাকাশে ধান চাষে সাফল্য পেল চীন

এবার মহাকাশে ধান চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে চীন। এর মাধ্যমে মহাকাশে খাবার সরবরাহের নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে দেশটির গবেষকরা। 

মহাশূন্যে দিনের পর দিন টিকে থাকতে হলে খাবারের প্রয়োজন। যার মধ্যে তাজা খাদ্য নভোচারীদের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

যে কারণে লেটুস পাতা, মুলা, কাঁচা মরিচসহ একাধিক সবজি চাষ করা হয়েছে সেখানে। পরীক্ষামূলক ভাবে এ ধরনের চাষ করে আসছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। 

কিন্তু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাজের অনুমতি নেই চীনের। যে কারণে তারা তৈরি করেছে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন। আর সেখানেই সফল ভাবে ধানের চারা উৎপাদন করে নজীর তৈরি করেছে দেশটি।  

এর আগেও ধান চাষের পরীক্ষাগুলো মহাকাশে পরিচালিত হয়েছে। তবে এই প্রথমবার তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে ধান গাছ সফল ভাবে জন্ম নিয়েছে।

গত ২৪ জুলাই থেকে মহাকাশে ধান নিয়ে গবেষণা শুরু করার পরিকল্পনা করে চীন। যে কারণে ধানের পরীক্ষামূলক পেলোড বোর্ডটি মহাকাশ স্টেশনের তিয়ানহে কোর মডিউলের সঙ্গে ডক করা হয়। 

২৯ জুলাই থেকে শুরু হয় ধানের বীজ দিয়ে পরিক্ষা। এরপর সফল ভাবে বীজ থেকে জন্ম নেয় চারাগাছ। ধীরে ধীরে বড় হয় ধান গাছ গুলো। পরিপক্কভাবে বেড়ে ওঠার পর নতুন বীজ উৎপাদন হয়। 

সাম্প্রতিক সফলতা নিয়ে সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন মলিকুলার প্ল্যান্ট সায়েন্সেস-এর গবেষক ঝেং হুইকইয়ং জানান, ধানের চারাগুলো খুব ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে। 

২৯ জুলাই পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে লম্বা অঙ্কুরের প্রায় ৩০ সেমি উচ্চতা বেড়েছে। পাশাপাশি শিয়াও ওয়েই নামে পরিচিত বামন ধানের জাতের চারাগুলো প্রায় ৫ সেমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই, মাইক্রোগ্র্যাভিটি কীভাবে আণবিক স্তরের উদ্ভিদের ফুলের সময়কে প্রভাবিত করে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে মাইক্রোগ্রাভিটি পরিবেশ ব্যবহার করা সম্ভব কী না।’ 

মহাকাশে গবেষণার প্রথম দিন থেকেই মহাকাশচারীদের ভাত খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।  

১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের মাধ্যমে মার্কিন যে মহাকাশচারীরা প্রথম চাঁদের মাটিতে পৌঁছেছিলেন, তখন তাদের খাবারের তালিকায় ছিল ফ্রোজেন মুরগি আর ভাত।  

এদিকে বেশি ফলনের আশায় মহাকাশে বহুদিন ধরেই বিভিন্ন বীজ পাঠাচ্ছে চীন। এর পেছনের মূল উদ্দেশ্য হলো মিউটেশন ঘটানো।

ভারহীন অবস্থায় এবং বিকিরণের ফলে মিউটেশন ঘটতে পারে, যা থেকে বদলে যেতে পারে বীজের চরিত্র। তার থেকে হওয়া গাছে হতে পারে বেশি ফলন।

১৯৮৭ সাল থেকেই মহাকাশে বীজ পাঠাচ্ছে চীন। এ পর্যন্ত আনুমানিক দুই শতাধিক প্রজাতির বীজ পাঠিয়েছে দেশটি। এর মধ্যে আছে কার্পাস, টমেটোর মতো উদ্ভিদও। 

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করেছিল চিনের চন্দ্রযান চ্যাং-৫। ২৩ দিনে ধরে চলেছিল এই চন্দ্র অভিযান। চ্যাং-৫-এ রাখা হয়েছিল ৪০ গ্রাম ধান বীজ। 

প্রাথমিকভাবে মহাকাশে ভারহীন অবস্থায় এই ধানগুলির উপর কী প্রভাব পড়ে, তা খতিয়ে দেখতেই অনুসন্ধান চালিয়েছিল গুয়াংডং প্রদেশের সাউথ চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি।

এই ধান চারাগুলি থেকে বর্তমানে ধান উৎপাদন করা হচ্ছে। মহাকাশ থেকে ফেরা এই ধানবীজগুলি রোপণ করা হয়, শুরু হয় গবেষণা। 

এরপর ধানের বীজ মাঠেও চাষের জন্য রোপণ করা হবে। এই বীজগুলি থেকে ধান উৎপাদন অনেক বাড়বে বলে আশাবাদী গবেষকরা। 



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।