আন্তর্জাতিক


ইউরোপের কাকের রয়েছে অদ্ভুত ক্ষমতা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার

ইউরোপের কাকের রয়েছে অদ্ভুত ক্ষমতা

সাধারণ পাতি কাক বা দাঁড়কাক ছাড়াও ইউরোপের দেশগুলোতে কিছু বিশেষ প্রজাতির কাক দেখা যায়, যারা প্রশংসনীয় বিস্ময়কর স্বভাব বা বৈশিষ্ট্যের জন্য।    


ইউরোপের জ্যাকডো প্রজাতির কাকরা স্বভাবের দিক দিয়ে গণতান্ত্রিক। গবেষণা থেকে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা দলবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে নেয়।   


বিশেষ করে, নিজেদের বাসস্থান নির্ধারণ বা বাসা বদলের ক্ষেত্রে সব কাক একসাথে বসে গণতান্ত্রিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।     



ব্রিটেনের বিখ্যাত ভবন টাওয়ার অব লন্ডনে বাস করে র‍্যাভেন প্রজাতির কিছু কাক! পালিত এই কাকগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ব্রিটেনবাসীর কাছে।   


এদের স্বভাব এবং খাওয়া দাওয়ার ধরনটা বেশ রাজকীয়। কোন পচা, বাসি, ফেলে দেয়া খাবার খায় না তারা।    


বরং খাদ্যতালিকায় আছে ছোট মুরগির ছানা, ইঁদুর এবং মাছ। আর নাস্তা হিসেবে রয়েছে বিস্কুট এবং পটেটো চিপস, যা এদের খুবই পছন্দের। তবে পেঁয়াজ মেশানো খাবার একদমই পছন্দ নয় তাদের।   


টাওয়ার অব লন্ডন দেখতে আসা দর্শনার্থীদের হাত থেকে স্যান্ডুইচ কেড়ে নিয়েও খেতে দেখা যায় এই কাকদের।  র‍্যাভেনদের কৌতূহল বেশী। মানুষের হাত থেকে পয়সা কেড়ে নিতে খুবই ভালোবাসে তারা।       



সমগ্র ইউরোপজুড়েই দেখা যায় রুক প্রজাতির কাকদের। এরা স্বভাবের দিক দিয়ে অত্যন্ত লাজুক। কখনোই খাবারের সন্ধানে মানুষের বাড়িতে হানা দেয় না, বরং মানুষ দেখলে উড়ে দূরে চলে যায়।


সবসময় ঝাঁক বেঁধে বিচরণ করে বেড়ায়। এক একটি ঝাঁকে ৩০০ কাক থাকতে পারে। দুটি কাক সারাজীবনের জন্য জোড় বাঁধে; এমনকি ঝাঁকের ভেতর ওড়ার সময়ও একসাথেই থাকে।     


দলবদ্ধভাবে থাকতে ভীষণ ভালবাসে রুকরা। খাওয়ার সময়ও বিচ্ছিন্ন হয় না। মৃত, পচা, এঁটো, বাসি খাবার না খায় না তারা। এব্যাপারে বেশ পরিচ্ছন্ন।  


খাবারের সন্ধানে হানা দেয় ফসলের মাঠে। মূলত ফসল কাটার পর পরই কৃষিজমিতে যায় এবং দল বেঁধে বিভিন্ন ধরনের শস্য ও কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে।    


রুক কাকেরা একটি গাছে শতাধিক বাসা বানাতে পারে, যেগুলো রুকারি নামে পরিচিত। বাসা বানানোর ক্ষেত্রে তারা বেছে নেয় আবাদি জমিবিশিষ্ট কৃষি এলাকা। সেখানে কোন বড় গাছের ডালে বাসা বানিয়ে থাকে।  


   


নিউ ক্যালেডোনিয়ান প্রজাতির দাঁড়কাকরা বুদ্ধিমান এবং কৌশলী। নিজেদের প্রয়োজনে তারা গাছের ডালপালাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেও পারদর্শী।


ক্যালেডোনিয়ান কাকরা গর্তের ভেতর থেকে ঠোঁটের সাহায্যে খাবার সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে কাঠি জাতীয় বস্তু দিয়ে সেটি তুলে আনতে পারে।   


 


সাদা-কালো মিশ্র বর্ণের হুডেড এবং ক্যারিওন প্রজাতির কাক পরস্পরে মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজস্ব সংকেত ব্যবহার করে। এছাড়াও দৈহিক অঙ্গভঙ্গি বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমেও ভাব প্রকাশ করতে পারে। প্রজনন মৌসুমে এদের পুরুষ ও স্ত্রীরা আলাদা আলাদা স্বরে ডেকে সঙ্গমের ইচ্ছা প্রকাশ করে।


হুডেড কাক খুবই মিশুকে স্বভাবের। বেশ সহজেই মানুষের বন্ধু হয়ে যায় এবং বিশ্বস্ততা বজায় রাখে তারা। এমনকি বাড়িতে পোষা বিড়াল থাকলে সেটির সাথেও বন্ধুত্ব করে ফেলতে পারে।   


এই প্রজাতির কাকের বেশ সৃষ্টিশীল বুদ্ধি রয়েছে। বাদাম খাওয়ার সময় শক্ত খোলস ছাড়ানোর জন্য রাস্তায় গিয়ে চলন্ত গাড়ির নিচে ফেলে দেয়। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে খোলস আলাদা হয়ে গেলেই উড়ে গিয়ে সেটি খেয়ে নেয়।        


তাছাড়া এরা প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, আর রয়েছে তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। সহজেই মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে।  


গবেষণায় দেখা গেছে, এই কাকদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও আছে। কোন সাথীর মৃত্যু হলে নিজস্ব কায়দায় শোক প্রকাশ করে থাকে।      


ফ্রান্সে রুকস, ক্যারিয়ন, জ্যাকড এবং র‌্যাভিন প্রজাতির কাকরা এতটাই বুদ্ধিমান যে, তারা প্রশিক্ষণ নিতে পারে এবং সে অনুযায়ী কাজও করতে পারে। 


ফ্রান্সের পার্কে ঝাড়ুদার হিসেবে কাজ করে এই কাকগুলো। পার্কের ময়লা আবর্জনা খেয়ে ফেলে অথবা বর্জ্য পদার্থটি নির্দিষ্ট স্থানের বক্সে গিয়ে ফেলে আসে। 


প্রখর বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন হওয়ায় মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের একটি সহজাত ক্ষমতাও রয়েছে তাদের। 





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।