আন্তর্জাতিক


দুইবার বাংলাদেশে এসেছিলেন রানী এলিজাবেথ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার

দুইবার বাংলাদেশে এসেছিলেন রানী এলিজাবেথ

সদ্য প্রয়াত ব্রিটিশ রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তার  শাসনামলে ২ বার বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। যার প্রথমটি ছিল পাকিস্তানি আমলে, অপরটি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর।

১৯৬১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি রাজকীয় সফরে প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসেছিলেন রানী। সে সময় স্বামী প্রিন্স ফিলিপও তার সঙ্গে ঢাকায় আসেন।

তখন রানী দম্পতির থাকার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধাকে সাজানো হয়েছিল নতুন করে। বর্তমানে ভবনটি ফরেন সার্ভিস একাডেমি হিসেবে পরিচিত।

ঢাকার রাস্তাও ২য় এলিজাবেথের আগমন উপলক্ষ্যে নতুন রুপ ধারণ করেছিল। রাতের বেলায় ফুটানো হয়েছিল আতশ বাজি।

পাট থেকে চট উৎপাদন পদ্ধতি দেখার আগ্রহ ছিল রানীর। তাই তিনি ভ্রমন করেছিলেন তৎকালীন সময়ে বৃহত্তম পাটকল হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত আদমজী জুট মিলে।

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌ-বিহারের আনন্দও উপভোগ করেছিলেন ৭০ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ।

এসময়ে নদীর তীরে দাড়িয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে হাজির হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। বাংলার মানুষের এমন ভালোবাসা পেয়ে অবিভূত হয়েছিলেন তিনি।

এই সফরে রানী ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একটি নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দিয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার সময় রানিকে বিদায় জানাতে এয়ারপোর্টে হাজির হয়েছিলেন ইয়াহিয়া খান।


স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সালের ১৪ থেকে ১৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশ সফর করেন রানী এলিজাবেথ। তখন ছিল তৎকালীন সামরিক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামল।

চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছিলেন ব্রিটেনের রানী। 

পাশাপাশি তার সফরের একটি অংশ ছিল বাংলাদেশের কোন স্বনির্ভর গ্রাম নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করা। 

তিনি দেখতে চেয়েছিলেন পল্লী বাংলার নারীদের জীবনযাত্রার ধরন। তাই ট্রেনে চড়ে ছুটে এসেছিলেন ঢাকার অদূরে অবস্থিত গাজীপুরের শ্রীপুরের বৈরাগীর চালায়।

দেখে গিয়েছিলেন গ্রামের নারীদের জীবন যাত্রা। মুড়ি ভাজা, ধান ভানা থেকে শুরু করে মাছ ধরা ও মুরগী পালন পর্যন্ত সবকিছুই প্রত্যক্ষ করেছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের একটি স্বনির্ভর গ্রামে কী কী থাকে, গ্রামের মানুষদের জীবনযাত্রা, গ্রামবাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য - এসব নিজ চোখে দেখার জন্যই তিনি বৈরাগীরচালা গ্রামে সফরে আসেন।

এই সময়ে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে একটি রূপার চাবি উপহার দেয়া হয়েছিল তাকে। যেটি তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন একজন নারী।

এই প্রতীকি চাবি দেয়ার অর্থ ছিল, রানি যে কোনো সময় বৈরাগীর চালায় আসতে পারবেন। এ গ্রামের সকল দরজা তার জন্য সবসময় খোলা রয়েছে।

রানী হয়েও কয়েক ঘন্টার সেই সফরে মিশে গিয়েছিলেন গ্রামীন জনপদের সাথে। মুগ্ধ হয়েছিলেন গ্রামের সহজ সরল ও খেটে খাওয়া মানুষের আতিথিয়েতায়।

এখনো পর্যন্ত এটিই হলো স্বাধীন বাংলাদেশে ব্রিটেনের রানীর একমাত্র সফর। যা আজো নাড়া দেয় বৈরাগীর চালার মানুষের স্মৃতির পাতায়।

১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করা দ্বিতীয় এলিজাবেথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন গত ৮ই সেপ্টেম্বর। এই সময়ে তার বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর ১৪৪ দিন।

ব্রিটেনের রানী হিসেবে তিনি ক্ষমতায় বসেছিলেন ১৯৫২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি। মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত তিনিই ছিলেন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। 
সর্বমোট ৭০ বছর ২১৪ দিন শাসক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন এই নেতা। 






জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।