আন্তর্জাতিক
রানী এলিজাবেথের সম্পদের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন ডলার
উত্তরাধিকারসূত্রে মায়ের এই অঢেল সম্পত্তির মালিক হতে যাচ্ছেন ব্রিটেনের নতুন রাজা চার্লস।
দীর্ঘ ৭০ বছরের জীবনকালে এলিজাবেথ বিনিয়োগ, শিল্পজাত দ্রব্য সংগ্রহ, ব্যক্তিগত অলংকার ও রিয়েল এস্টেট -এই ৪ টি উৎস থেকে প্রচুর পরিমাণ আয় করেছেন ।
এছাড়া এলিজাবেথ তার মায়ের কাছ পেয়েছেন ৭০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পারিবারিক সম্পত্তি। এর মধ্যে দামি পেইন্টিং, গহনা, সংগৃহীত স্ট্যাম্প এবং ঘোড়া উল্লেখযোগ্য।
ব্রিটিশ রাজপরিবারে রানীর ২৮ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ছিল। এটি তার পারিবারিক ব্যবসা বা রয়্যাল ফার্ম, যাকে বলা হয় মনার্ক পিএলসি।
রয়্যাল ফার্মের ব্যবসায় এলিজাবেথের নেতৃত্বে যুক্ত ছিলেন রাজপরিবারের অন্য সদস্যরাও। যার মধ্যে রয়েছেন রাজা চার্লস, স্ত্রী ক্যামিলা, প্রিন্স উইলিয়াম, স্ত্রী প্রিন্সেস কেট মিডলটন, প্রিন্সেস অ্যান, প্রিন্স অ্যাডওয়ার্ড ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস সোফি।
বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনা ও পর্যটনের আয় থেকে এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছরই গ্রেট ব্রিটেনের অর্থনীতিতে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড অর্থের যোগান দিত। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রানীর এই রিয়েল এস্টেটের অর্থমূল্য ছিল ২৮ বিলিয়ন ডলার।
রাজপরিবারের মালিকানাধীন এই ব্যবসা স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শপিংয়ের জন্য বিখ্যাত লন্ডনের রিজেন্ট স্ট্রিট ও বার্কশায়ারের অ্যাসকট রেসকোর্স।
এসব জায়গা থেকে আসা লাভের অর্থ রাজকীয় তহবিলে জমা হয়। তবে রিয়েল এস্টেট রাজপরিবারের সকলের সম্পত্তি হওয়ায় রানি এটি ভোগ করলেও কখনো বিক্রি করতে পারতেন না।
আবার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত না হওয়ায় এখানকার আয় এককভাবে খরচ করতে পারতেন না তিনি। সেটি রাজপরিবারের প্রয়োজনে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হতো।
রানীর আয়ের আরেকটি উৎস ছিল সার্বভৌম অনুদান। ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কর প্রদানকারীদের তহবিল থেকে রাজপরিবারকে প্রচুর অর্থ প্রদান করা হয়।
প্রতি বছরই রানী এই খাত থেকে রাষ্ট্রীয় অনুদান হিসেবে বিপুল পরিমাণ পাউন্ড পেতেন। নিয়মটি করা হয় প্রাক্তন রাজা তৃতীয় জর্জের সময় থেকে। জর্জের সাথে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি চুক্তি হয়েছিল।
চুক্তি অনুযায়ী রাজা ক্রাউন এস্টেট অর্থাৎ, রাজতন্ত্রের মালিকানাধীন জমিগুলো থেকে তার সম্পূর্ণ আয় পার্লামেন্টকে দিয়ে দেন। পরিবর্তে ব্রিটিশ সরকার রাজপরিবারকে সার্বভৌম অনুদান হিসেবে একটি মোটা অংকের অর্থ প্রদান করে থাকে।
সেই সময় থেকেই সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরসূরিরাও বার্ষিক নির্দিষ্ট হারে অনুদান পেয়ে আসছে। এলিজাবেথের ক্রাউন এস্টেটের সম্পত্তির মধ্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ড- ৪ টি স্থানেই সম্পদ রয়েছে।
এই খাতে রানীর প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ড। এই অর্থ রানী ব্যয় করতেন রাজকীয় প্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেস রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মীদের বেতন প্রদান, রাজপরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন দেশে অফিশিয়াল ভ্রমণ এবং রাজপরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের কাজে।
এর বাইরে অনুদানের অর্থ খরচ করা হতো বিভিন্ন অভ্যর্থনা, গার্ডেন পার্টি ও স্কুল পরিদর্শনে। শুধু ২০২১ সালেই ২ হাজার ৩০০ টি রাজকীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল বিভিন্ন উপলক্ষ্যে।
গত বছর রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে আরোহণের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য বাকিংহাম প্যালেসের কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। এর জন্য তহবিল থেকে খরচ হয় ৫৫ লাখ পাউন্ড।
এলিজাবেথের আয়ের একটি বিরাট উৎস দ্য ড্যাচি অব ল্যাংকেস্টার। এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের বাণিজ্যিক, কৃষিজাত ও আবাসিক সম্পত্তি।
উত্তরাধিকারসূত্রে রাজা বা রানী এই পারিবারিক সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। রাজা ষষ্ঠ জর্জের পর সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরসূরি হিসেবে তার বড় মেয়ে রানি ২য় এলিজাবেথ পেয়েছিলেন এটি।
এখন রীতি অনুযায়ী এই সম্পত্তির মালিক হবেন নতুন রাজা চার্লস। সম্পত্তি থেকে বছর প্রতি আয়ের পরিমাণ প্রায় দুই কোটি পাউন্ড। এর মধ্যে সেন্ট্রাল লন্ডন এবং ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারে ১৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি আছে।
এ ছাড়া রয়েছে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রসাদ, যেটি রানির ব্যক্তিগত সম্পত্তি। আর রয়েছে রাজপরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত বিমান, গয়না ও স্ট্যাম্পের সংগ্রহশালা।
পর্যটন খাত থেকেও আয় করে থাকে ব্রিটেনের রাজপরিবার। সেই অর্থ রানী ও রাজরিবারের নিরাপত্তার জন্য ব্যয়িত হয়।
জনপ্রিয়
আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান
যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

.jpg)
.jpg)






