আন্তর্জাতিক


বারবার ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরী হবে ভারতে


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার

বারবার ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরী হবে ভারতে

বারবার ব্যবহার করা যাবে এমন রকেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ভারত। যার মাধ্যমে মহাকাশযান এবং কৃত্রিম উপগ্রহের লঞ্চিং খরচ অনেক কমে আসবে। 

গত ৫ সেপ্টেম্বর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এমনটা-ই জানানো হয়েছে। 

একটি রকেট মূলত, স্যাটেলাইটকে মহাকাশে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে রকেট অনেকটা প্লেনের ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। 

বর্তমানে প্রচলিত রকেট গুলো ব্যবহার করে পৃথিবীর কক্ষপথে কোনো স্যাটেলাইট স্থাপন করতে চাইলে এক কেজি পে লোডের জন্য ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার খরচ হয়। 

ভারতের স্পেস রিসার্চ সংস্থা আই এস আর ওর দেয়া তথ্যমতে, পুনঃব্যবহার যোগ্য রকেট তৈরী করতে পারলে এই খরচ দাঁড়াবে ১ থেকে ৫ হাজারের মধ্যে। 

ভারত ইতিমধ্যে নিজেদের তৈরী রকেট ব্যবহার করে ৩৪৬ টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে। 
এই স্যাটেলাইটগুলোর মালিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। 

এবার নিজেদের কাজের পরিধিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিতে প্রথমবারের মতো রিসাইকেল যোগ্য রকেট তৈরীর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। 

এই রকেটটির ডিজাইনিং, ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে উতপাদনে প্রয়োজনীয় সকল কাজ ভারতেই সম্পন্ন হবে। 

ইসরো তাদের বাণিজ্যিক পার্টনার নিউস্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড এর সাথে সম্মিলিত ভাবে রকেটের নির্মাণ কাজ করবে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ছোট বড় প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত হতে পারে এই প্রকল্পে।

সর্বোন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই রকেটটি তৈরী করা হবে। যাতে বিজ্ঞান এবং সৃজনশীলতার এক অসাধারণ প্রয়োগ দেখা যাবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করছে তারা।

লঞ্চিং এর পর একে পুনরায় অক্ষত অবস্থায় কিভাবে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়েই চলছে বিস্তর গবেষণা। এর মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ববাসীকে তাক লাগাতে চলেছে ভারত।

এ নিয়ে ইসরোর চেয়ারম্যান বলেন, 
"আমরা এমন একটি রকেট দেখতে চাই যা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগতা করার যোগ্য এবং একই সাথে সাশ্রয়ী। আমরা এমন একটি রকেট বানাতে চাই যা ভারতেই সহজে তৈরী করা যাবে, কিন্তু হবে বিশ্বমানের।" 

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পুনঃব্যবহার যোগ্য রকেট হলো স্পেসএক্স এর ফ্যালকন ৯ এবং এই সিরিজের অন্যান্য ভারী রকেট গুলো। 

স্পেস এক্সের দাবী অনুযায়ী , এগুলো পুনঃব্যবহার যোগ্য। তবে, এখনো এদের ওপরের বেশ খানিকটা অংশ মাত্র একবার-ই ব্যবহার করা যায়। 

অর্থ্যাৎ সম্পূর্ণ রকেটটি অক্ষত অবস্থায় পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেনা। কেবলমাত্র খানিকটা অংশ নতুন রকেট তৈরীর সময় আবার ব্যবহার করা যায়। 

স্পেসএক্সের একেকটি ফ্যালকন 9 রকেটের দাম ৬৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তার উপর এগুলো তৈরী করতে প্রয়োজনীয় পরিশ্রম তো রয়েছেই। 

এছাড়াও রকেট তৈরীতে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ আ্যলুমিনিয়াম এর মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ আরো অনেক বেড়ে যেতে পারে।

সবমিলিয়ে, ভারত তাদের পুনঃব্যবহার যোগ্য রকেট নির্মাণ করতে সক্ষম হলে প্রচুর পরিমাণে অর্থ, মূল্যবান খনিজ পদার্থ এবং সময় সাশ্রয় হবে। 
 
যার মাধ্যমে বিশ্বের অনেক নিম্ন আয়ের দেশগুলো কম খরচে নিজেদের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সুযোগ পাবে।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।