আন্তর্জাতিক


ভারতের মাটিতে আইফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে বৃহত্তম শিল্প সংস্থা টাটা গ্রুপ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার

ভারতের মাটিতে আইফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে বৃহত্তম শিল্প সংস্থা টাটা গ্রুপ

এবার ভারতের মাটিতে আইফোন তৈরির পরিকল্পনা করছে বৃহত্তম শিল্প সংস্থা টাটা গ্রুপ। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই তাইওয়ানের একটি কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে তারা। 
 
চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমাগত বাড়তে থাকা উত্তেজনার কারণে চীনের বাইরেও আইফোন উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যাপল।

অন্যদিকে করোনার কারণে চীনের একাধিক শহরে বারবার লকডাউন দেওয়া হচ্ছে, সেই কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

এমন পরিস্থিতিতে অ্যাপল ভারতের মাটিতে আইফোন তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতোদিন সীমিত পরিসরে উৎপাদন করা হলেও এবার পূর্ন উদ্যমেই ভারতে নিজেদের পন্য তৈরি করবে সংস্থাটি।

তাদের মূল উদ্দেশ্য বিশ্বব্যাপী আইফোনের প্রাথমিক প্রস্তুতকারক হিসেবে চীনের উপরে নির্ভরতা কমানো।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিই আগ্রহ প্রকাশ করছে টেক জায়ান্ট এপল। ভবিষ্যতে তাদের মাধ্যমেই মোবাইল উৎপাদনের বাজারে প্রবেশ করতে চায় টাটা গোষ্ঠি।

পণ্যের উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং দক্ষতাকে কাজে লাগাতেই এ পদক্ষেপ নিচ্ছে কোম্পানিটি।

এতদিন চীন ও ভারতে আইফোন উৎপাদনের কাজ করতো তাইওয়ানের দুইটি সংস্থা উইসট্রন ও ফক্সকন। 

এবারই প্রথম ভারতীয় সংস্থা হিসেবে টাটা গ্রুপ এ পন্যটি উৎপাদনের অনুমতি পেতে যাচ্ছে। সে লক্ষ্যে টাটা গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রাথমিক ভাবে একটি যৌথ চুক্তি করার কথা চলছে সংস্থাটির।

তবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি সব কিছু। শোনা যাচ্ছে, উইস্ট্রনের সঙ্গে টাটার আলোচনা প্রাথমিক পর্যায়ে পৌঁছেছে মাত্র। আইফোন প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে  চুক্তির কাঠামোসহ আলোচনা হয়নি শেয়ার ভাগাভাগি নিয়েও।

পাশাপাশি, আইফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই দুই গোষ্ঠী চুক্তিতে রাজি হলেই হবে না। এর জন্য লাগবে অ্যাপল ও কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সম্মতিও।

সবকিছু ঠিক থাকলে টাটা গ্রুপ, উইস্ট্রন ইন্ডিয়ার সঙ্গে খুব দ্রুত যৌথভাবে ভারতে আইফোন তৈরি করা শুরু করবে।

শেষ পর্যন্ত চুক্তি যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তাহলে উৎপাদন ক্ষেত্রে চীনকে টেক্কা দেওয়ার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হবে ভারতের জন্য।

কারণ অ্যাপলের মতো সংস্থা টাটা গ্রুপের মাধ্যমে আইফোন তৈরির সিদ্ধান্ত নিলে, অন্যান্য বৃহৎ টেক সংস্থাগুলোও অনুপ্রাণিত হতে পারে।

একসময় তারাও নিজেদের কারখানা খুলতে পারে ভারতে। এছাড়া এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে কম দামে আইফোন মিলবে বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই দাবি যদি সত্যি হয় তাহলে, ভারতের প্রথম কোম্পানি হিসেবে আইফোন তৈরির ছাড়পত্র জোগাড় করবে টাটা গ্রুপ।

এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সফটওয়্যারের পাশাপাশি হার্ডওয়্যার নির্মাণের বাজারেও ঢুকে পড়বে টাটা গোষ্ঠী।

ফলে ভারতীয় এ সংস্থাটির ব্যবসা ভবিষ্যতে আরও একটি নতুন দিকে প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পাবে। 

তখন এটি কেবল আইফোন উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা স্মার্টফোনের বাইরেও নেওয়া হবে।

ভারতে টাটা গ্রুপ নুন, গাড়ি, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সফটওয়্যার-সহ একাধিক জিনিস তৈরি এবং বিক্রি করে থাকে।

এবার সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে মোবাইল ফোন। সব মিলিয়ে এর মাধ্যমে ভারতের অন্যতম বড় টেকনোলজি সংস্থা হয়ে উঠেতে যাচ্ছে টাটা গ্রুপ।

এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নটরাজন চন্দ্রশেখরন বলেছেন, ইলেকট্রনিক্স এবং হাই-টেক ম্যানুফ্যাকচারিং তাদের কোম্পানির মূল ফোকাস ক্ষেত্র।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।