

খেলাধুলার প্রতি বিশেষ অনুরাগ ছিল ব্রিটেনের সাবেক রানী ২য় এলিজাবেথের। ঘোড় দৌড় থেকে শুরু করে ফুটবল- সবই ছিল তার পছন্দের তালিকায়। ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ায় চড়তে খুবই পছন্দ করতেন রানী। মাত্র ৪ বছর বয়সেই তার দাদা রাজা ৫ম জর্জের কাছ থেকে একটি রাজকীয় ঘোড়া উপহার পেয়েছিলেন তিনি, যার নাম ছিল পেগি। মাত্র ছয় বছর বয়স থেকেই সেই ঘোড়ায় চড়তে শুরু করেন এলিজাবেথ। একসময় ঘোড়া আর কুকুরের প্রতি তার বিশেষ অনুরাগের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। প্রশিক্ষণের কিছুদিনের মধ্যেই একজন দক্ষ অশ্বারোহীতে পরিণত হয়েছিলেন রাজকুমারী এলিজাবেথ। তবে রানী হিসেবে প্রথম ঘোড়ায় চড়েছিলেন ১৯৫২ সালে। এছাড়াও তিনি নিয়মিত ঘোড় দৌড়ের বৈঠকগুলোতে অংশ নিতেন। শুধু তাই নয়, রানীর সবচেয়ে দ্রুতগামী ঘোড়া এস্টিমেট একবার দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে গোল্ড কাপ শিরোপাও জিতেছিল। এটি ছিল এলিজাবেথের একটি বিশেষ রেকর্ড। কারণ এর আগে ২০৭ বছরের মধ্যে ব্রিটেনের আর কোন সম্রাজ্ঞীর মালিকানাধীন ঘোড়া এমন শিরোপা জিততে পারেনি। ঘোড় দৌড় রানী এতটাই উপভোগ করতেন যে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে বার্কশায়ারের রয়্যাল অ্যাসকটে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। ঘোড়ার পাশাপাশি করগি জাতীয় কুকুর ছিল রানীর বিশেষ পছন্দের। সমগ্র জীবনকালে প্রাসাদে ৩০ টিরও বেশী পোষা করগি কুকুর ছিল তার। রানী ঘোড়া চালনায় যেমন দক্ষ ছিলেন তেমনি অভিজ্ঞ ছিলেন পোষা কুকুরদের প্রশিক্ষক হিসেবেও। রানীর আরেকটি পছন্দের কাজ ছিল খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেয়া। বিখ্যাত টেনিস তারকা আলথিয়া গিবসনের হাতে ১৯৫৭ সালে শিরোপা তুলে দিয়েছিলেন রানি। আলথিয়া ছিলেন উইম্বলডনের একক শিরোপাজয়ী প্রথম আফ্রিকান - আমেরিকান। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামেও ছুটে যেতেন ফুটবল প্রেমিক এলিজাবেথ। ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত এফএ কাপের ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন তিনি। খেলা শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়ক জ্যাক বারকিটেকে নিজ হাতে শিরোপা তুলে দিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ রানীর জীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। কারণ সেসময় নিজ হাতে তিনি নিজ দেশের অধিনায়ক ববি মুরের হাতে তুলে দিতে পেরেছিলেন বিজয়ীর ট্রফি। এলিজাবেথ ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগের বিশেষ ভক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলার সময় খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা এবং অগ্রিম অভিনন্দন বার্তা পাঠাতেন। রয় হজসন, ডেভিড বেকহ্যাম এবং গ্যারেথ বেলসহ অনেক বিখ্যাত ফুটবল ব্যক্তিত্বরাই সরাসরি রানীর হাত থেকে সম্মাননা পদক লাভ করেছেন। রানীর ব্যক্তিগত জীবনের সাথেও জড়িয়ে রয়েছে খেলার ইতিহাস। ১৯৭৭ সাল ছিল তার সিংহাসনে আরোহণের রজত জয়ন্তী। এই বছরই উইম্বলডনের নারী এককের শিরোপা তুলে দিয়েছিলেন টেনিস তারকা ভার্জিনিয়া ওয়েডের হাতে।শুধু টেনিস কিংবা ফুটবল নয়, অলিম্পিক গেমের সাথেও জড়িয়ে রয়েছে বিদায়ী রানীর অবদান। ২০১২ সালের প্যারাঅলিম্পিক্স এবং অলিম্পিক গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। ক্রীড়াজগতের বক্সিং চ্যাম্পিয়ন নিকোলা অ্যাডামসসহ রিও অলিম্পিক্স এবং প্যারালিম্পিক্সের পদক জয়ীদের রাজকীয় বাসভবন বাকিংহ্যাম প্রাসাদে সংবর্ধনাও দিয়েছিলেন রানী। শুধু খেলা দেখাই নয়, খেলোয়াড়দের সাথে ছবি তুলতেও ভালবাসতেন ২০১৪ সালে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমসে রানিকে হকি খেলোয়াড়দের সাথে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যায়। ছবিটি মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। খেলার প্রতি রানীর অনুরাগ এতটাই প্রবল ছিল যে, নিজের প্রাসাদে খেলোয়াড়দের চায়ের আমন্ত্রণও জানাতেন। আর্সেনালের নতুন ফুটবল স্টেডিয়াম এমিরেটস উদ্বোধন করার সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে আর্সেনাল দলের খেলোয়াড় ও ম্যানেজারকে বাকিংহাম প্যালেসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। রানীর উপস্থিতি, অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের জীবনে একটি বিশেষ প্রাপ্তি ছিল।



