এবার দুবাইয়ে চাঁদের আদলে রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেই ঠিক যেন নকল চাঁদ বানানো হচ্ছে সেখানে।
এটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট ইনকরপোরেশন নামের কানাডার একটি স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠে ভ্রমণের অনুভূতি পাওয়া যাবে।
প্রস্তাবিত ভবনের উচ্চতা হবে ৭৩৫ ফুট। ৫০০ কোটি ডলার ব্যয়ে বিলাসবহুল রিসোর্টটি নির্মাণ করা হবে। আগামী ৪৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চাঁদের মতো গোলাকৃতি হওয়ায় এ প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুন ওয়ার্লড রিসর্ট’ বা সংক্ষেপে ‘মুন রিসর্ট’।
এখানে পর্যটকদের জন্য থাকবে বিলাসবহুল ও আধুনিক সব রকমের সুযোগ-সুবিধা। হোটেল, স্পা এবং নাইটক্লাব থেকে শুরু করে কৃত্রিম লেগুন ও সম্মেলনকক্ষের মতো ব্যবস্থা।
বিনোদন ও পর্যটনের জন্য এই রিসর্টে থাকবে ‘স্কাই ভিলা’ নামের ৩০০টি আবাসন, যেটি চাঁদে বসবাসের মতো অনুভূতি দেবে দর্শনার্থীদের।
মহাকাশ প্রতিষ্ঠান ও নভোচারীরা চাইলে তাদের প্রশিক্ষনের কাজেও ব্যবহার করতে পারবেন একে।
স্থাপত্যশিল্পীরা মনে করছেন, প্রতি বছরে সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি পর্যটকের আনাগোনা দেখা যাবে এই গোলকের ভিতর।
এছাড়া মহাকাশযানের আদলে একটি বিশেষ স্থান তৈরির পরিকল্পনা করেছে বলেও জানিয়েছে এর নির্মাতা সংস্থা।
স্থানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লুনার কলোনি’। শুধু দেখতে নয়, পর্যটকরা সত্যিই মহাকাশ ভ্রমণের মতো অনুভূতি পেতে পারেন এখানে।
এই ‘লুনার কলোনি’তে বছরে প্রায় ২৫ লক্ষ পর্যটক মহাকাশ ভ্রমণের অনুভূতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে ‘মুন রিসর্ট’-এর ভাড়া কত হতে পারে তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি কানাডার ওই নির্মাণ সংস্থা। ধারণা করা হচ্ছে যে, প্রতি বছর এই রিসর্ট থেকে বিপুল পরিমাণ আয় হবে প্রশাসনের।
রিসর্টটিকে গোলাকার অর্থাৎ চাঁদের চেহারা দিতে এখানে বিভিন্ন অত্যাধুনিক জিনিসের ব্যবহার করতে দেখা যাবে।
ভবনটির নকশা তৈরি ও নির্মাণে ব্যবহার করা হবে কংক্রিট, কাচ, স্টিল, কার্বনফাইবার এবং অ্যালুমিনিয়ামসহ স্থাপত্য ও প্রকৌশলবিদ্যার সর্বাধুনিক কলাকৌশল ও প্রযুক্তি।
চাঁদ আকৃতির এই রিসোর্টটিকে একটি সুন্দর এবং নিঁখুত রূপ দেওয়া কিছুটা কষ্টসাধ্য এবং সময়ের ব্যাপার।
প্রকল্পটি শেষ হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে মুন ওয়ার্ল্ড রিসোর্ট নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তরা।
রিসোর্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যান্দ্রা জি ম্যাথিউস এবং মাইকেল আর হেন্ডারসন বলেছেন, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সফল আধুনিক পর্যটন প্রকল্প হবে ‘মুন দুবাই।’
বিশ্বজুড়ে আমিরাতের ব্র্যান্ড এবং অনন্য স্থাপনার আকর্ষণ তুলে ধরবে এই রিসোর্ট। এর ফলে দুুবাই-ভিত্তিক পর্যটকের সংখ্যাও দ্বিগুণ হবে।
দুবাই ছাড়াও কানাডার এমডব্লিউআর স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানটি চন্দ্রাকৃতির রিসোর্টের মতো আরো তিনটি রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। সেগুলো নির্মাণ করা হবে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ায়।
নতুন স্থাপনাটি ছাড়াও বিশ্বের বিলাসবহুল সব স্থাপনা আর হোটেলের দেখা পাওয়া যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে।