আন্তর্জাতিক


চীনের ঋণের ফাঁদে শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার

চীনের ঋণের ফাঁদে শ্রীলঙ্কাসহ দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ

চীনের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ঋণ নিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার তিন দেশ শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কাতে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক দুরাবস্থা দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারার কারণে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে দেশটি। 

এর কারণ চীন থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যার চাপ পরবর্তীতে আর সামাল দিতে পারেনি তারা। 

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি এশিয়ার আরও ২ টি দেশ চীনের ঋণের ফাদে আটকে পড়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন ম্যাগাজিন ফোর্বসের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের কাছে সাত হাজার ৭৩০ কোটি ডলারের বৈদেশিক ঋণ রয়েছে পাকিস্তানের। বর্তমানে তাদের অর্থনীতিও রয়েছে ভঙ্গুর অবস্থায়।

অপরদিকে ২০২০ সালের শেষ নাগাদ মালদ্বীপের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় আট হাজার ৬০০ কোটি রুফিয়া। যার মধ্যে চার হাজার ৪০০ কোটি এমভিআর বৈদেশিক ঋণ। 

সম্প্রতি দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকের শেষে তাদের ঋণ ৯ হাজার ৯০০ কোটি এমভিআরে পৌঁছেছে। 

মালদ্বীপে চীনের ঋণে অর্থায়ন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সিনামালে সেতু নির্মাণ ও বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প।

ফোর্বস জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ৯৭টি দেশ চীনা ঋণের অধীনে রয়েছে। চীন থেকে ঋণ নেওয়া দেশগুলির বেশিরভাগই আফ্রিকায় অবস্থিত। 

তবে মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেও চীনা ঋণের বিস্তার রয়েছে।

বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলি ২০২২ সালে তাদের মোট ঋণের ৩৭ শতাংশ নিয়েছে চীনের কাছ থেকে। বাকি বিশ্বে ক্ষেত্রে যার পরিমাণ মাত্র ২৪ শতাংশ।

বর্তমানে চীনের কাছে সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক ঋণ রয়েছে পাকিস্তানের, যার পরিমাণ ৭৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 

অপরদিকে অ্যাঙ্গোলার ৩৬.৩ বিলিয়ন, ইথিওপিয়ার ৭.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, কেনিয়ার ৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং শ্রীলঙ্কার ৬.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

চীনের কাছে জিবুতি, লাওস, জাম্বিয়া এবং কিরগিজস্তানের ঋণের পরিমাণ তাদের বার্ষিক মোট জাতীয় উৎপাদনের ২০ শতাংশের সমান।

এসব ঋণের বেশিরভাগই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নেয়া যার মধ্যে রয়েছে সড়ক, রেলওয়ে এবং বন্দর নির্মাণ। 

খনি উত্তোলন থেকে শুরু করে জ্বালানি শিল্পের জন্যেও এসব ঋণ নেয়া হয়েছে। অধিকাংশ ঋণই দেয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের আওতায়।

দরিদ্র দেশগুলিকে ঋণ দেওয়ার পদ্ধতির জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে চীন। অর্থায়নের জন্য তারা বিভিন্ন দেশের বন্দর, রেল ও ভূমি অবকাঠামো নির্মাণকে বেছে নিয়েছে।

চীন থেকে ঋণ নেওয়া দেশগুলোকে বেশিরভাগ সময়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বেইজিংয়ের চাপ সেটা আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

দাবি করা হয়, চীন সেসব দেশকে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকে, যারা  ঋন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়। তবে বেইজিং এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

শ্রীলঙ্কা কয়েক বছর আগে চীনা বিনিয়োগের মাধ্যমে হাম্বানটোটায় একটি বৃহৎ আকারের বন্দর নির্মাণের প্রকল্প শুরু করেছিল। 

তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত, ২০১৭ সালে, এই বন্দরের ৭০% শতাংশ নিয়ন্ত্রণ চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না মার্চেন্টস কোম্পানির কাছে ৯৯ বছরের জন্য ছেড়ে দিতে সম্মত হয়েছে।




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

১১ মাসের কন্যাসন্তানকে হত্যা, দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে বাবা-মা গ্রেফতার

ভারতের বেঙ্গালুরুতে মাত্র ১১ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে হত্যার পর ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা ও মাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন এবং প্রায় ১৮ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশটিতে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বালোগানের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনায় ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে তা চলমান বিশ্বকাপের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।

ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ায় ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিফার ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ফিফার নৈতিকতা কমিটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।