আন্তর্জাতিক


খুলে দেয়া হলো দ. এশিয়ার সবচেয়ে উচু টাওয়ার


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:০১ অপরাহ্ন, শনিবার

খুলে দেয়া হলো দ. এশিয়ার সবচেয়ে উচু টাওয়ার

অবশেষে উন্মুক্ত হলো দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে উচু ভবন- লোটাস টাওয়ার।  গত বৃহস্পতিবার খুলে দেয়া হয়েছে এটি। 

একই সাথে আকাশচুম্বী এই ভবনে অবস্থিত অবজারভেশন ডেকও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্মান শুরুর প্রায় দশ বছর পর চালু হলো লোটাস টাওয়ার। 

দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে উচু এই ভবনটি শ্রীলংকায় অবস্থিত। এটির উচ্চতা ৩৫০ মিটার বা প্রায় ১ হাজার ১৪০ ফুট থেকেও বেশি। 

দেশটির রাজধানী  কলম্বো শহরে নির্মিত এই  টাওয়ার পুরো বিশ্বের মধ্যে ১৯ তম উচু আকাশচুম্বী ভবন। 

এছাড়া এশিয়ার হিসাবে এটির অবস্থান এগারো তম। অপরদিকে শুধু দক্ষিন এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে উচু বিল্ডিং লোটাস টাওয়ার। 

কলম্বো শহরের যেকোন প্রান্ত থেকেই চোখে পড়ে আকাশচুম্বী এই ভবন। এটির অবজারভেশন ডেক থেকে উপভোগ করা যায় পুরো  শহরের দৃশ্য। 

২০১২ সাল থেকে নির্মাণাধীন এই টাওয়ারের পেছনে খরচ হয়েছে আনুমানিক ১১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

এর মাঝে প্রায় সাড়ে ৮৮ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে চীন। বাকি অর্থ নিজেদের তহবিল থেকেই খরচ করেছে শ্রীলংকা।  

তবে ঋণের অর্থে এরকম উচ্চ বিলাসী ভবন নির্মান করে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে দেশটির সাবেক সরকার। 

চীনের কাছ থেকে অপরিকল্পিত ঋন নিয়ে বর্তমানে মারাত্মক সংকটে রয়েছে শ্রীলংকা।  যার মূলে রয়েছে লোটাস টাওয়ারের মতো কিছু উচ্চ বিলাসী প্রজেক্ট।  

 এখন পর্যন্ত লোটাস টাওয়ার বাবত  ঋণের  প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে পেরেছে তারা। বাকি টাকাও সম্পূর্ণ ভাবে পরিশোধ করতে হবে ২০২৪ সালের মধ্যে ।

ঋণের এমন চাপের মধ্যে দেখা দিয়েছিলো আরো বাড়তি সমস্যা। লোটাস টাওয়ারের মতো ব্যয় বহুল একটি স্থাপনার রক্ষানাবেক্ষণ খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিলো টাওয়ারের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। 

শেষে বাধ্য হয়েই পর্যটকদের জন্য ভবনটি উন্মুক্ত করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। লোটাস টাওয়ার ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী গনমাধ্যমের কাছে বলেছেন, 

"অন্তত টাওয়ারটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচের টাকা বের করে আনতে চান তারা। সেজন্য লোটাস টাওয়ারকে বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  "

পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়ার ফলে আয়ের পথ খুলবে দক্ষিন এশিয়ার সবচেয়ে উচু এই ভবনের। একই সাথে টাওয়ারে থাকা দোকান এবং অফিসগুলোও ভাড়া দেয়া হবে। 

এছাড়া অবজারভেশন ডেকের ঠিক নিচেই রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান বিলাসবহুল রেঁস্তোরা। যেখান থেকে উপভোগ করা যাবে রাজধানী কলম্বো এবং পার্শবর্তী  ভারত মহাসাগরের সৌন্দর্য।  ঘুর্ণায়মান এই রেস্টুরেন্ট চালু হলেও আয়ের পরিমান বাড়বে কর্তৃপক্ষের। 

অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলংকার অন্যতম বিলাসী প্রজেক্ট লোটাস টাওয়ার। এটির নির্মানের পিছনে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ার অভিযোগ আছে নাগরিকদের। 

দেশটির জনগনের কাছে আকাশচুম্বী এই ভবনের আরেক নাম সাদা হাতি। চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে অনেক অবাস্তব প্রকল্প গ্রহন করেছিলো সেদেশের সাবেক সরকার। যার অন্যতম প্রতীক হিসাবে দেখা হয় সবুজ  বেগুনি রঙের নজরকাড়া এই টাওয়ারকে।।

এটির ডিজাইনও করা হয়েছে চীনকে নকল করে।  বিশেষজ্ঞদের মতে শ্রীলংকার সবচেয়ে উচু এই ভবনটি চীনের  সেন্ট্রাল রেডিও অ্যান্ড টিভি টাওয়ারের এক ব্যর্থ অনুকরণ।  

সব মিলিয়ে এরকম আকাশচুম্বী একটি ভবন নিয়ে মোটেও গর্বিত নয় শ্রীলংকান মানুষ।  বরং অনেকেই অপচয় হিসানে গন্য করেন এটিকে। 




জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।