আন্তর্জাতিক


অ্যাপলের লোগোতে কামড় দেয়া থাকে কেন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার

অ্যাপলের লোগোতে কামড় দেয়া থাকে কেন

পৃথিবীতে এত কিছু থাকতে, কেন একটি আধ খাওয়া আপেলকেই  বিশ্ববিখ্যাত অ্যাপল কোম্পানির লোগো বানানো হয়েছে, এ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই গ্রাহকদের। 

অবশ্য একেবারে শুরুর লগ্নে এই আধ খাওয়া আপেল লোগো হিসেবে ছিল না কোম্পানিটির। 

১৯৭৬ সালে সংস্থাটি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তার লোগো ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সে সময় অ্যাপলের লোগোতে ছিল একটি আপেল গাছের নিচে স্যার আইজ্যাক নিউটনের বসে থাকার দৃশ্য। 

তবে স্টিভ জবস চেয়েছিলেন অ্যাপলের সব পণ্যে প্রতিষ্ঠানটির লোগো যুক্ত থাকবে। এ জন্য নিউটনের লোগোটির চাইতেও সাধাসিধে একটি লোগো দরকার ছিল।

তাই জনপ্রিয় ডিজাইনার রব জ্যানফকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। জ্যানফই সর্বপ্রথম একটি পাতাযুক্ত আপেলের প্রস্তাব পেশ করেন। 

তবে একই আকৃতির অন্যান্য ফলের সঙ্গে সাধারণ মানুষ আপেলকে মিলিয়ে ফেলতে পারে বলে মনে হয়েছিল তাঁর। 

তাই সমস্যার সমাধান করতেই আপেলে কামড় যুক্ত করেছিলেন রব জ্যানোফ। যাতে যেকেউ লোগোটি প্রথমবার দেখেই বুঝতে পারবে সেটি আপেল, অন্য কোনো ফল নয়। 

লোগোর মাধ্যমে অনেক সংস্থার জনপ্রিয়তা আন্দাজ করা যায়। কোনও কোনও সংস্থা  লোগোতে নিজেদের নাম ও কোম্পানির বয়সও তুলে ধরে। 

কিন্তু অ্যাপলের ক্ষেত্রে তা একেবারে উল্টো। লোগো অসম্পূর্ণ থাকার পরেও সেটি অন্যরকম।

এক সাক্ষাৎকারে জ্যানফকে এমন লোগো ব্যবহারের কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এমন একটা আধ-খাওয়া আপেল দেওয়ার অর্থ ছিল দক্ষতা প্রদর্শন করা। 

অর্থাৎ, এটি যে স্পষ্ট ভাবেই একটি আপেল, টমেটো বা চেরি জাতীয় অন্য কোনো ফল নয়, লোকে যেন একবার দেখার পরই তা নিশ্চিত হতে পারেন।

একটি আপেল যেমন সবাই ক্রয় করতে পারে এবং কামড় দিতে পারে তেমনি এ কোম্পানির পণ্যগুলোও সর্বস্তরের মানুষের উদ্দেশ্যেই নির্মিত।

মূলত এই বার্তাটি বিশ্বের সকলের দ্বারে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর এবং স্টিভ জবসের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিলো বলে জানান তিনি। 

তবে অনেকেই মনে করেন, আপেলে কামড়ের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে এই সংস্থাটি কম্পিউটিং এবং টেলিকমিউনিকেশন সেগমেন্টের ডেটার একটি ইউনিট। কিন্তু এ ধারণার পক্ষে সঠিক কোনো যুক্তি এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে অ্যাপলের লোগোটি ছিল রংধনুর রঙের। কিন্তু রংধনুর রঙের ক্ষেত্রে পরপর যে রংগুলো দেখা যায়, লোগোটিতে সে ধারা অনুসরণ করা হয়নি।

অঙ্কিত আপেলটির পাতা উপরের দিকে থাকার ফলে লোগোতে সবুজ রং প্রথমে দেওয়া হয়েছিল। স্টিভ জবসের ইচ্ছায় ছয়টি রঙের ডোরা দেওয়া হয়েছিল আপেলটিতে। 

তিনি চেয়েছিলেন অ্যাপল কোম্পানির তৈরি কম্পিউটারে যে রঙিন ছবি দেখা যায়, তার বার্তা লোগোতেও প্রকাশ পাক। কারণ, সে সময়ের অন্যান্য কম্পিউটারে রঙিন ছবি দেখা যেত না।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় লোগোতে টুকটাক পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবে আকৃতি বদলায়নি।

১৯৯৮ সালের দিকে রঙধনুর রঙ বাদ দিয়ে অ্যাপল লোগোতে কেবল একটাই রং ব্যবহার শুরু হয়। এরপর একাধিক রং পরিবর্তন করা হলেও থিম একই ছিল।

২০১১ সালে স্টিভ জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে সরে গেলে, হংকংয়ের ১৯ বছর বয়সী জোনাথান মাক লং অ্যাপলের লোগোর কামড় দেওয়া অংশে বসিয়ে দেন স্টিভ জবসের অবয়ব। 

অ্যাপলে যে জবসের অভাব পূরণ হওয়ার নয়, তা-ই বোঝাতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোন প্রোডাক্টে এই লোগো ব্যবহার করা হয়নি।



জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

কোরবানি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টানলেন হায়দরাবাদের ইসলামিক স্কলার

ভারতের হায়দরাবাদ–এর ইসলামিক স্কলার মাওলানা মোহাম্মদ জাফর পাশা কোরবানির পশু নিয়ে মুসলিমদের হেনস্তার অভিযোগ তুলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের উদাহরণ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল-আকসা প্রাঙ্গণে পশু জবাইয়ের চেষ্টায় আটক ১৩

পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইহুদি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পশু জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ১৩ জনকে আটক করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। শুক্রবার ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব শাভুত উপলক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

এএপিআই হেরিটেজ মাসে নিউ জার্সি সিনেটের সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব ভূঁইয়া

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডার (এএপিআই) হেরিটেজ মাস উপলক্ষে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান অধ্যাপক শোয়েব আহমেদ ভূঁইয়া। নিউ জার্সি স্টেট সিনেট ও জেনারেল অ্যাসেম্বলির পক্ষ থেকে তাকে যৌথ আইনসভা প্রস্তাবনার (Joint Legislative Resolution) মাধ্যমে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। তিনি প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করলেন।

বিজেপিকে ছাড়িয়ে ভাইরাল “তেলাপোকা পার্টি”

ভারতে হঠাৎ করেই তুমুল আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” বা সিজেপি। কয়েকদিন আগেও যেটিকে অনেকে নিছক মিম, ট্রল কিংবা ব্যঙ্গাত্মক ক্যাম্পেইন হিসেবে দেখছিলেন, সেটিই এখন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্বস্তির বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার সংখ্যার দিক থেকে এই নতুন আন্দোলন ইতোমধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকেও ছাড়িয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিজেপির অনুসারী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ২২ লাখে, যেখানে বিজেপির অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে রয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ ফলোয়ার। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন বিস্ফোরক উত্থান ভারতের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।