এবার মহাকাশে চার ঘন্টা ধরে হেটে বেড়ালেন চীনের দুই নভোচারী। শনিবার দেশটির নির্মাণাধীন স্পেস স্টেশন থেকে অসাধারণ এই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন নভোচারীরা।
এরপর দারুণ এই মুহুর্তের ছবিও পাঠানো হয়েছে পৃথিবীতে, যা প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে।
বর্তমানে চালু থাকা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের অংশীদারত্ব থেকে চীনকে বাদ দিয়েছিল আমেরিকা। এরপর থেকে একের পর এক চমক দেখিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পরেই নিজেদের জন্য আলাদা মহাকাশ স্টেশন বানানোর উদ্যোগ গ্রহন করে চীন। যেটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে এখন।
নির্মাণাধীন এই স্পেস স্টেশন থেকেই মহাশূন্যে হেটে বেড়িয়েছেন নভোচারীরা। মূলত নিজেদের স্পেস স্টেশনের বাইরের দিকে কিছু কাজ করার জন্য বের হয়েছিলেন তারা।
এ সময় কাই এবং চেন নামের দুই নভোচারী একটি পা রাখার জায়গা তৈরি করেছেন মহাকাশ স্টেশনের বাইরে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে স্পেস স্টেশনের দরজা খোলার জন্য একটি হাতলও লাগিয়েছেন তাঁরা।
এসব কাজ করতে গিয়ে প্রায় চার ঘন্টা বারো মিনিট সময় মহাশূন্যে অবস্থান করেছেন দুই নভোচারী। এ সময় স্পেস স্টেশনের ভেতরে থেকে তাদের সাহায্য করেছেন আরো একজন।
বিশ্বের অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীন এখন মহাকাশেও পরাশক্তি হবার টার্গেট নিয়েছে। আমেরিকার কারণে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন ভাগাভাগি করতে পারেনি দেশটি, সেজন্য নিজেরাই তৈরি করছে আলাদা একটি স্পেস স্টেশন।
যেটির কাজ এ বছরের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ হবার কথা রয়েছে। নির্মাণাধীন এই স্পেস স্টেশনে কাজ করার জন্যই কিছুদিন আগে তিন নভোচারী মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছেন ছয় মাসের জন্য। যাদের দুইজন মহাশূন্যে হেটে বেড়িয়েছেন শনিবার।
এর আগে গত বছর নিজেদের মহাকাশ স্টেশনের প্রথম মডিউল কক্ষপথে স্থাপন করেছিলো চীন। যেটির নাম দেয়া হয়েছে 'তিয়ানগং' বা 'স্বর্গের প্রাসাদ'।
এরপর গত জুলাই মাসে স্থাপন করা হয়েছে স্পেস স্টেশনের দ্বিতীয় মডিউল। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ বছরের শেষ দিকে যুক্ত করা হবে বৈজ্ঞানিক কাজের ল্যাব- 'মেংতিয়ান'।
পরবর্তীতে আগামী বছর 'শুনতিয়ান' নামের একটি স্পেস টেলিস্কোপ পাঠাবে চীন। যেটি মহাকাশ কেন্দ্রের কাছাকাছি উড়ার পাশাপাশি কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানি সরবরাহের কাজ করবে।
মহাকাশের পরাশক্তি হতে চাওয়া চীন তাদের স্পেস স্টেশন তৈরি করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি তে। দেশটির তিয়ানগং মহাকাশ কেন্দ্রে থাকবে নিজস্ব বিদ্যুত ব্যবস্থা।
এছাড়া কেন্দ্র চালনার প্রযুক্তি, জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম এবং নভোচারীদের থাকার ঘরের ব্যবস্থা করছে চীন।
মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে আমেরিকাও রাশিয়ার পর বিশ্বের তৃতীয় দেশ চীন, যারা মহাকাশে নভোচারী পাঠানোর পাশাপাশি নিজেদের স্পেস স্টেশন ও তৈরি করছে।
তবে এক্ষেত্রে আমেরিকাকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় আছে চীন। বর্তমানে চীনের মহাকাশ প্রকল্পগুলোয় কাজ করেছেন প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। যা আমেরিকার নাসার তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।
অপরদিকে বাজেটের দিক দিয়েও দ্রুতগতি তে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ২০০৩ সালে চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসন গঠনের সময় প্রাথমিক বাজেট বরাদ্দ ছিলো ৩০ কোটি মার্কিন ডলার।
বর্তমানে মহাকাশ গবেষণার পিছনে দেশটির বিনিয়োগ দাড়িয়েছে দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি। চীনের মহাকাশ পরিকল্পনা এখন শুধু স্পেস স্টেশন তৈরিতে সীমাবদ্ধ নেই।
বরং ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে নভোচারী পাঠানোর লক্ষ নিয়েছে তারা। একই সাথে মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহ থেকে নমুনা আনার জন্য অনুসন্ধানী যান পাঠাবে দেশটি।
সোর্সঃ
https://www.space.com/chinese-astronauts-tiangong-space-station-wentian-spacewalk-september-2022
https://www.google.com/amp/s/www.bbc.com/bengali/news-61733898.amp
https://www.google.com/amp/s/www.aerotime.aero/articles/31857-chinas-last-module-for-space-station-arrives-at-launch-site%3fv=amp