যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার মহাকাশ পর্যটন শিল্পে অভিষেক ঘটছে চীনের। ২০২৫ সাল নাগাদ বানিজ্যিক ভাবে মহাকাশ সফরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি।
তবে এই মিশনে যেতে যাত্রীদের খরচ হতে পারে ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ইউয়ান। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা।
মহাকাশে যাওয়ার জন্য রকেটটিতে থাকবে পাঁচটি ইঞ্জিন। ওজন হবে আনুমানিক ৭০ মেট্রিক টন। ৩ মিটার লম্বা এবং চারটি বড় জানালা সংযুক্ত থাকবে এতে।
এটি পরিচালিত হবে স্বয়ংক্রিয় ভাবে। অর্থ্যাৎ ভেতরে নিয়ন্ত্রক বা পাইলট হিসেবে কেউ থাকবেন না।
মহাকাশ সফরের জন্য নির্ধারিত রকেটের সাহায্যে এক বারে মোট সাত জন যাত্রীকে নিয়ে ৬২ মাইল উপরে ভ্রমন করা সম্ভব। প্রায় সব ধরনের মানুষই এই যাত্রার জন্য শারীরিকভাবে উপযুক্ত বলে জানিয়েছে চীন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং মহাকাশের মধ্যকার সীমা বা "কারমান লাইন" অবধি ভ্রমন করবেন যাত্রীরা।
সেখানে পৌঁছানোর পর মূল অংশ থেকে আলাদা হয়ে যাবে মহাকাশযানটি। তারপর ফোর্স অফ ইনার্শিয়ার মাধ্যমে ভেসে বেড়াবে কিছুক্ষণ।
মূল রকেটটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে ধীরে ধীরে অবতরন করবে। অন্যদিকে যাত্রীদের বহনকারী মহাকাশযানটি একটি প্যারাস্যুটের মাধ্যমে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।
চীনের উত্তর - পশ্চিমাংশের কোন এক এলাকা অবতরনের স্থান হিসেবে নির্ধারন করা হবে বলে জানা গেছে।
মহাকাশ ভ্রমনের নানা ধরন রয়েছে। উপকক্ষপথ ভ্রমন তার একটি। সর্বোচ্চ দশ মিনিটের মহাকাশ ভ্রমনের জন্য উপকক্ষপথ ভ্রমন সবচেয়ে কার্যকরী।
সিএএস স্পেসের" সাথে যৌথভাবে কাজ করবে চীনের বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান চায়না ট্যুরিজম গ্রুপ।
মহাকাশ প্রযুক্তির বানিজ্যিক ব্যবহার বাড়ানো এবং চীনের অর্থনীতিতে মহাকাশ প্রযুক্তির অবদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে চায় প্রতিষ্ঠান দুটি।
তবে আনুষ্ঠানিক ভাবে মহাকাশ পর্যটনের কার্যক্রম শুরু করার আগে কয়েকটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন পর্যবেক্ষন করা হবে।
২০২৩ সালের দিকে পরীক্ষামূলক কাজটি করতে যাচ্ছে চীন। ফলাফল সন্তুষ্টজনক হলে তবেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে, বানিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ ভ্রমনের জন্য চীন আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে।
দেশটি মহাকাশ পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করে পরবর্তী স্তরে পদার্পন করেছে।
উন্নতমানের রকেট নির্মাণ, গবেষণা এবং উন্নয়নের ধাপ অতিক্রম করে রকেটের যথাযথ ব্যবহার এবং বানিজ্যিকীকরনের দিকে এগিয়ে চলেছে তারা।
তবে শুধু চীনই নয়, ব্রিটিশ স্পেসফ্লাইট প্রতিষ্ঠান ভার্জিন গ্যালাকটিক প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের বিনিময়ে মহাকাশ ভ্রমনের সুযোগ দিচ্ছে।
গত বছর এলন মাস্কের "স্পেসএক্স" চারজন যাত্রী নিয়ে ঘুরে এছেছে মহাকাশ। জেভ বেজোসের "ব্লু অরিজিন" ও পিছিয়ে নেই।
গত আগস্টে মহাকাশ উড্ডয়ন পরিসেবা সংস্থাটি ষষ্ঠবারের মতো যাত্রীদের নিয়ে "স্পেস ফ্লাইট মিশন" সম্পূর্ন করেছে। এছাড়াও মহাকাশ ভ্রমন নিয়ে কাজ করছে বেশ কিছু দেশ।
বানিজ্যিক ভিত্তিতে মহাকাশ প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে চীনে মোট ৩৭০ টি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে যে, আগামী দশ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত মহাকাশ পর্যটন শিল্পকে টেক্কা দেবে চীন।