আন্তর্জাতিক


রানির গার্ডরা যেন পুরো রোবট!


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার

রানির গার্ডরা যেন পুরো রোবট!

ব্রিটেনের রানির নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন কুইন্স গার্ডের সেনারা। সম্মানযুক্ত এ পেশায় নিযুক্ত সদস্যদের মেনে চলতে হয় কঠোর নিয়ম-কানুন। 

এ গার্ডদের অনেকে রক্তে মাংসে গড়া রোবট উপাধি দিয়ে থাকেন। কারণ, তারা যেভাবে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তা দেখলে, তাদেরকে রোবটই মনে হতে পারে।

কর্তব্য পালনের সময় কুইন্স গার্ডের সেনাদের নড়াচড়া করা এবং কোনো কিছু ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি যদি কোনো পর্যটক বা বাইরের কেউ তাদের দিকে ঢিল ছুঁড়ে মারে তবুও তারা নড়তে পারবেন না।

তবে প্রতি দশ মিনিট পর পর তারা চাইলে মার্চপাস্ট করতে পারবে এবং দ্রুত নিজের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে। শুধুমাত্র শিফট পরিবর্তনের সময় একজন সরে গিয়ে অন্যজনকে জায়গা দিয়ে থাকেন।

তাদের ভাষার ব্যবহারে রয়েছে যথেষ্ট সীমাবদ্ধতা। একমাত্র রানির সাথেই তারা সাধারণ ভাবে কথা বলতে পারেন।

মাঝে মধ্যেই কেবল অন্যান্য কথা বলতে পারেন, তবে তা ঠিক তখনই, যখন কেউ তাদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করেন, কিংবা কোন পর্যটককে সাহায্য করার প্রয়োজন পড়ে।

কুইন্স গার্ডের সেনাদের হাসাও নিষেধ। যদি কেউ হাসেন তাহলে তাকে অর্থদণ্ড জরিমানা করার বিধান রয়েছে। 

তারা যদি কখনো  মাথা ঘুরে পড়ে যায় সেটিরও রয়েছে কঠোর নিয়ম। এমনকি কাজের সময় তাদের কোনো টয়লেট বিরতিও দেওয়া হয়না।

প্রচন্ড পিপাসাতেও তার নিজের হাতে পানি খেতে পারেন না, এরজন্য অন্য কোনো মাধ্যমের সাহায্য নিতে হয়।

ছয় ঘন্টা কোনোরকমে নড়াচড়া না করে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে গার্ডরাও মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে যান। তবে এক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার কোন উপায় নেই।

একটি মজার বিষয় হচ্ছে, রানির সুরক্ষায় নিয়োজিত গার্ডদের কাঁধে যে অস্ত্র থাকে তাতে কখনোই বুলেট থাকেনা। শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্যই এ বন্দুক ব্যবহার করা হয়।

তারা স্ট্যান্ডার্ড বুল পপ এসস্ট রাইফেল ব্যবহার করে থাকে। যেগুলোর মাথায় শুধু বেয়নেট থাকে। বুলেট না থাকলেও এ বেয়নেট খুবই মারাত্মক। 

তাৎক্ষণিক যেকোনো দূর্ঘটনা রোধেই বুলেট ছাড়া রাইফেল ব্যবহার করা হয়। তবে রাজ পরিবারের নিরপত্তায় নিযুক্ত বিশেষ গার্ডরা এই আইনের বাহিরে।

কুইন্স গার্ডদের মাথায় যে কালো রঙের তুলতুলে টুপি দেখা যায়, সেগুলো পরারও বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে। ভালুকের চামড়া দিয়ে তৈরি এই টুপি গুলোর উৎপত্তি আঠারো শতকের দিকে।

সেসময় বৃটিশ এবং ফরাসি সেনাবাহিনীর বন্ধুকধারীরা বিশেষ টুপিগুলো পরতেন, যাতে তাদের দেখতে লম্বা এবং আকর্ষণীয় লাগে।

এগুলো গার্ডদের ঘাড়কে যেকোনো ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা করতে পারে। এসব টুপি ১৮ ইঞ্চি লম্বা এবং দুই থেকে চার কেজি ওজনের হয়ে থাকে। 

এই বিশেষ বাহিনীতে আসার জন্য বেশ কিছু শর্ত পূরন করতে হয়। প্রার্থীকে গার্ড পদে নিযুক্ত হবার জন্য ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত হতে হবে। উচ্চবংশীয় ব্যক্তিরা চাকরিতে বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

তবে সবাইকে ব্রিটিশ আর্মির পরীক্ষায় অবশ্যই উর্ত্তীন হতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক এবং মানসিক দিক থেকেও ফিট হতে হবে।

পুর্বে কেবল ৬ফিট উচ্চতার ব্যক্তিরাই এ পদের জন্য আবেদন করতে পারতেন। তবে এখন তা কিছুটা কমিয়ে ৫ ফুট ১০ইঞ্চি করা হয়েছে।





জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একটি নতুন চুক্তিতে রাজি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন শর্ত না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাজার পুনর্গঠনে ৭০০ কোটি ডলার: ‘শান্তি পর্ষদ’ বৈঠকে ট্রাম্পের ঘোষণা

ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত তথাকথিত ‘শান্তি পর্ষদ’–এর প্রথম বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকার পুনর্গঠনের জন্য ৭০০ কোটি ডলারের তহবিল প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তাঁর দাবি, ৯টি সদস্যরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে এ তহবিলে অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনে পাঁচটি দেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীকে মারার অনুমোদন- আফগানিস্তানে নতুন আইন ঘিরে বিতর্ক

নারীদের বিরুদ্ধে নতুন কড়া আইন জারির অভিযোগ উঠেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির নতুন ফৌজদারি আইনে স্বামীদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা পারিবারিক সহিংসতাকে কার্যত বৈধতা দিচ্ছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

ভোটে হেরে বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাকা ফেরত চাইছেন প্রার্থীর স্ত্রী

ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে পৌর নির্বাচনে পরাজয়ের পর এক প্রার্থীর পরিবারের কর্মকাণ্ড ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক প্রার্থীর স্ত্রী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইছেন বলে অভিযোগ