আন্তর্জাতিক


মক্কা-মদিনা রুটে ট্রেন চালাবেন নারীরা


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার

মক্কা-মদিনা রুটে ট্রেন চালাবেন নারীরা

শরিয়াহ আইনে পরিচালিত দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে চলতি বছরই উচ্চগতির ট্রেন চালাবেন নারীরা।

এ জন্য চালক হিসেবে চলতি বছরের শুরুতে প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিলেন ৩১ জন নারী। জেদ্দা হয়ে মক্কা-মদিনা রুটে চলমান হারামাইন হাইস্পিড ট্রেনের শিক্ষানবিশ তারা।

গত মাসেই শেষ হয়েছে তাদের তত্ত্বীয় প্রশিক্ষণ।
এবার তারা শুরু করেছেন ব্যবহারিক ক্লাস। এর মধ্য দিয়ে সউদী আরবে প্রথমবার কোনো নারীর হাতে গিয়েছে ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ।

গত কয়েক বছর ধরেই নানা রকম বিধিনিষেধের ব্যাপারগুলো শিথিল করছে সৌদি আরব। নারীদের গাড়ি চালানো, গাইড চাকুরির সুবিধাসহ নাইট ক্লাবও খুলেছে দেশটি।  

তারই ধারাবাহিকতায় মার্চে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ে এই ৩১ নারী ৪৮৩ ঘণ্টার তত্ত্বীয় ক্লাসে অংশ নেন। 

তাদের পাঠ্যসূচিতে ছিল রেলওয়ের মৌলিক জ্ঞান, ট্রাফিক ও নিরাপত্তা আইন, কাজের ঝুঁকি, অগ্নিনির্বাপন এবং রেল ও রেলওয়ে অবকাঠামো সম্পর্কিত কারিগরি বিষয়। 

হাই-স্পিড রেল পরিচালনাকারী কনসোর্টিয়াম ও সৌদি রেলওয়ে পলিটেকনিকের বৃহত্তম শেয়ারহোল্ডার স্প্যানিশ কোম্পানি রেনফে তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

এর আগে নারীদের ট্রেন চালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা করে সৌদি সরকার। এ জন্য দেওয়া হয় বিজ্ঞাপন। 

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের অংশ হিসাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৩০টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ২৮ হাজার।

তাদের মধ্য থেকে সাক্ষাৎকারের পর ১৪৫ জন নির্বাচিত হন, এরপর প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায়ে যোগ দেন ৩৪ জন।

এরপর তত্ত্বীয় পর্বে উর্ত্তীণ হয়েছেন ৩১ জন। এর মাধ্যমে তারা দেশটিতে ট্রেনের প্রথম নারী চালক হওয়ার সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।  প্রশিক্ষণে থাকা এই নারী ড্রাইভারদের সবাই সৌদি আরবের নাগরিক।

শিক্ষানবিসদের মধ্যে ৭০ শতাংশেরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি রয়েছে। দেশের উচ্চ প্রশিক্ষিত নারীরা পবিত্র দুই শহরের চলাচলকারী ট্রেনের নেতৃত্বে দেবেন। এই উদ্যোগে আগামীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের আরো বেশি দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আশা করা হচ্ছে সব পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণে উর্ত্তীণ হওয়া চালকেরা আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে সৌদির নির্দিষ্ট গন্তব্যগুলোতে ট্রেন নিয়ে যাত্রা করবে।

প্রশিক্ষণার্থীদেরকে চিকিৎসা বীমা, ইন্স্যুরেন্সে রেজিস্ট্রেশন এবং প্রশিক্ষণের সময়কালে মাসিক ৪ হাজার সৌদি রিয়াল বোনাস সহ বিভিন্ন সুবিধার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

মহিলা গ্র্যাজুয়েটরা সৌদি আরবের রেলওয়েতে নিযুক্ত হলে, ৮ হাজার সৌদি রিয়াল পর্যন্ত মাসিক বেতন পাবেন।
 
২০১৮ সাল থেকে সৌদি আরবে মক্কা-মদিনা-জেদ্দা রুটে চালু হয়েছে উচ্চগতিসম্পন্ন হারামিয়াম ট্রেন। 

এটি পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে স্পেনভিত্তিক কোম্পানি রেনফে। প্রার্থীকে বাছাই ও তাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উপর।

তারা গত নয় বছরে ১৩০ জন সৌদি নাগরিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০২২ সালের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে দ্রুতগামী এই ট্রেনের চালকের আসনে নারীদের দেখা যাবে।’  

মক্কা-মদিনা-জেদ্দা রুটের দৈর্ঘ প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার। ৫টি স্টেশন আছে এই রুটটিতে। প্রতি বছর প্রায় ছয় কোটি মানুষ এই ট্রেনে যাতায়াত করেন।

আগামী বছরগুলোতে বিশেষ করে ওমরাহ ও হজ মৌসুমে চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রক্ষণশীল দেশটিতে সম্প্রতি নারীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে নানা পরিবর্তন দেখা গেছে। 








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।