আন্তর্জাতিক


পারমাণবিক অস্ত্র পাহারায় নিয়োজিত ডলফিন


হেড অফ ডিজিটাল মিডিয়া

শামসুল আলম

প্রকাশিত:২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার

পারমাণবিক অস্ত্র পাহারায়  নিয়োজিত ডলফিন

পারমাণবিক অস্ত্রের পাহারাদার হিসেবে কাজ করছে এক দল ডলফিন! যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নৌঘাঁটি ‘কিটস্যাপ’। এখানে রয়েছে সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি পারমাণবিক বোমা। 

আর এই বোমাগুলোর পাহাড়াদার হিসেবে নিয়োজিত আছে ডলফিন ও সি লায়নরা। 
এদের সবাই অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

যুদ্ধক্ষেত্রে নব্বইয়ের দশকেও ব্যবহৃত হতো ডলফিন। আর সময়ের পরিক্রমায় তাদদেরকে এখন ব্যবহার করা হচ্ছে পাহাড়াদার হিসেবে।

প্রতিটি ডলফিনই জানে শত্রুদের প্রতিরোধ করার সবরকম কৌশল। শুধু তাই নয় নৌবাহিনীতে তাদের দেওয়া আছে সামরিক পদবিও।

এর বাইরে বাসস্থান থেকে শুরু করে দেওয়া হয় নানা সুযোগ-সুবিধা। বিশেষভাবে ট্রেনিং দেওয়ার ফলে ডলফিনের দল বেশ চৌকসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে দীর্ঘসময় ধরেই। 

২০১০ সাল থেকে এই ঘাঁটি পাহারা দিচ্ছে তারা। কিটসঅ্যাপ নৌঘাঁটির মতো বিশ্বের আর কোনো দেশেই নেই এতো বড় পারমাণবিক বোমার মজুত।

যার কারণে কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয় জায়গাটি। আর দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ডলফিনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল সেই দায়িত্ব পালন করে আসছে। 

১৯৬৭ সাল থেকে ‘স্পেস এন্ড নেভাল ওয়ারফেয়ার সিস্টেম’ বা স্পাওয়ারের অধীনে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়াগোতে ডলফিনদের দেওয়া হয় সামরিক প্রশিক্ষণ। 

পাহাড়া দেওয়া ছাড়াও প্রশিক্ষণপ্রান্ত ডলফিনরা বেশ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। সমুদ্রে মাইন শনাক্ত করা থেকে শুরু করে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া ও সাগরে উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তারা। 

বর্তমানেও প্রায় শ'খানেক ডলফিন আর অর্ধশতাধিক সি লায়নকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে স্পাওয়ার। মানুষের চেয়েও বেশ দ্রুতগতি আর বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করতে পারে এই বাহিনী। 

প্রকৃতিগতভাবেই ডলফিনদের রয়েছে পানির নিচে ভালোভাবে দেখার জন্য ইকোলোকেশন ব্যবহারের ক্ষমতা। 

যেকোনো বিপদজনক বস্তুকে চিহ্নিত করতে তারা ব্যবহার করে বায়োলজিক্যাল সোনার। এই সামুদ্রিক সেনাদের চোখ এড়িয়ে মজুতের কাছে পৌঁছানোর সাধ্য নেই কারোর। 

শুধু যে যুক্তরাষ্ট্রেই এমন দৃশ্যের দেখা মিলে ব্যাপারটা তেমন নয়। এর আগেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধে ও নৌঘাটির নিরাপত্তায় সাময়িক সময়ের জন্য দেখা গিয়েছিলো প্রশিক্ষিত ডলফিন দলকে।

ভিয়েতনাম-ইরাক যুদ্ধে অসামান্য অবদান ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই ডলফিনগুলোর।

যুদ্ধক্ষেত্রে সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যবহার প্রথম দেখা মিলে ১৯৯০ সালে। সময়ের ব্যবধানে যুদ্ধের সংখ্যা অনেকাংশে কমলেও বেড়েছে ডলফিনের ব্যবহার। মার্কিন ঘাঁটিতে একটা বড়সড় ডলফিনের দলকে পাহাড়া দিতে দেখা যায় দিন-রাত।

মানুষের পর সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় ডলফিনকে। বুদ্ধিতে অন্যান্য প্রাণীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে তারা। 

মানুষের সাথেও এদের বন্ধুত্বটা বেশ ভালো, ভাব জমাতেও লাগেনা খুব বেশি সময়। যার ফলে সহজেই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিতে সুবিধা হয় এই সামুদ্রিক প্রাণীদের। 

সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় সবার উপরের স্থানে থাকার কারণেই গুরুত্বপূর্ণ কাজেও এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ডলফিন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটির মতো অধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও বড় পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে এই প্রানিটি। 

তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের আরো অনেক দেশের সেনাবাহিনীতে প্রানী নিয়োগ দেয়ার নজির রয়েছে। ২০২১ সালে কম্বোডিয়ায় সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২০টি ইঁদুর। 

আফ্রিকার তানজানিয়া থেকে আনা বিশেষ ধরণের এই ইঁদুরগুলোকে প্রশিক্ষনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

মূলত, গত শতকে গৃহযুদ্ধ চলার সময় কম্বোডিয়ায় বিপুল পরিমাণ স্থল মাইন পুঁতে রাখা হয়। ১৯৭৯ সাল থেকে দেশটির স্থল মাইন বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ৬৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

এসব ইঁদুরের ঘ্রাণ শক্তি তীব্র হওয়ায় সহজেই মাইন শনাক্ত করতে পারে। এ পদ্ধতিতে সাফল্য আসায় ২০১৬ সাল থেকেই স্থল মাইন অপসারণে ইঁদুর ব্যবহার করছে কম্বোডিয়া।








জনপ্রিয়


আন্তর্জাতিক থেকে আরও পড়ুন

৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ- কোন দেশে কত নিহত, বাংলাদেশির সংখ্যা কত?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাব দিয়েছে ইরান। শুধু ইসরায়েল নয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয় হয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরান-এর সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক বিজয়’ অর্জন করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ‘ইরানের বিজয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উত্থাপিত ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছেন বলে দাবি করেছে তেহরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নিজেদের কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্র ‘রেড লাইন’ পার হলে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র যদি তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করে, তাহলে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।